kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমবে

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমবে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক দিন থেকেই। কয়েক বছর আগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একযোগে পরীক্ষা নিয়ে প্রমাণ করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে তাঁর মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এবারও হচ্ছে না। এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। মার্চের দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউজিসির একটি কমিটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে বসে ভর্তি পরীক্ষার মডালিটিজ, কোথায়-কিভাবে পরীক্ষা হবে, পরীক্ষার প্রশ্ন ও মূল্যায়ন ইত্যাদি বিষয় ঠিক করবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও অভিভাবকদের সময় ও অপচয় বন্ধ করতে আবেদন করা হয়েছিল। গুচ্ছ পদ্ধতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাজে আসবে বলে মনে হয় না। জনতার টাকায় স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় চলে। কাজেই এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে আরো ভেবে নেওয়া জরুরি ছিল বলে মনে করি। বরং আগের অবস্থাই ভালো ছিল।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►   সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর অনেক আসন শূন্য থাকে। এভাবে সমন্বিত বা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা হলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়তো কিছু আয় কমবে, কিন্তু ভর্তীচ্ছুদের সময়, অর্থ, হয়রানি বহুলাংশে কমবে। একটি মহল বুঝে হোক বা না বুঝে হোক এরই মধ্যে এর বিরোধিতা শুরু করেছে। আমি মনে করি এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সুফল দেবে।

দেবেন্দ্রনাথ বৈশ্য

সদর, ঠাকুরগাঁও।

 

►   বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী চাইলে মানবিকের কোনো বিষয়েও ভর্তির সুযোগ পাবেন। সে ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে এ ধরনের কোনো একটি ব্যবস্থা রাখা হবে। কাজেই গুচ্ছ পদ্ধতি ভালো ও সময়োপযোগী।

লুত্ফর রহমান

নাগরপুর, টাঙ্গাইল।

 

►   সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে তারা এই অর্থ উপার্জন থেকে বঞ্চিত হবে। তারা এই লোকসান মানতে রাজি নয়। তাই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহা। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে তাদের নিজস্ব আইন ও নিজস্ব বিধির মাধ্যমে। এদের সরকারের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহি দিতে হচ্ছে না।

মোহাম্মদ মানিক

ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

 

►   সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা মূলত একই প্রশ্নপত্র দিয়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির পরীক্ষা নেওয়া। আমি মনে করি এ পদ্ধতি ভালো এবং সময়ের দাবি ঠিক তাই। কাজেই এর বিরোধিতা করার কোনো কারণ দেখি না।

নীলিমা সেন

তেজতুরি বাজার, ঢাকা।

 

►   গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি। কাজেই পক্ষ-বিপক্ষ যত মতই থাকুক, গুচ্ছ পদ্ধতি ভালো এবং আধুনিক।

লতিফ বিশ্বাস

পুঠিয়া, রাজশাহী।

 

►   সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের আপত্তির মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা থেকে সরে এসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি। গত বুধবার ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সভা শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে চারটি গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গুচ্ছগুলো হচ্ছে—কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও সাধারণ। সাধারণ গুচ্ছে—বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষায় তিনটি পরীক্ষা হবে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় কৃষিতে সাতটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ১১টি, প্রকৌশলে তিনটি এবং সাধারণে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যে ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে, বলা যেতে পারে সেটি মন্দের ভালো। এতে অভিভাবক ও ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের হয়রানি কিছুটা হলেও কমবে।

আরাফাত রহমান

সিপাহীবাগ, ঢাকা।

 

►   যদি গত বছরের ভর্তি চিত্রের দিকে ফিরে তাকাই তাহলে দেখা যাবে, শুধু মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। অনেক আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধীনে কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েটে (সেই সময় যথাক্রমে বিআইটি খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী নামে এগুলো পরিচিত ছিল) একযোগে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি চালু করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সমন্বিত ভর্তির কথা বলে আসছেন। এবার সমন্বিত নয়, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ইউজিসিকে ধন্যবাদ।

এম এন এ হাসান

খিলগাঁও, ঢাকা।

 

►   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নের সঙ্গে মিল রেখে নমুনা প্রশ্ন পাঠ্য বইয়ে সংযুক্ত করতে হবে। কারণ নতুন পদ্ধতি সবার জন্য সহজ হবে না। কাজেই বছরে ১২টি চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রবর্তন করতে হবে। এতে করে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সন্ধান পাব বলে মনে হয়।

হাবিবুর রহমান

পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

 

►   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সমন্বিত নয়, পরীক্ষা হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা হলে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে যে বিভাগগুলো রয়েছে তা সমন্বয়ে জটিলতার সৃষ্টি হবে। এর থেকে গুচ্ছ পদ্ধতিতেই অনেক ভালো হবে। এ বছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। তাই সাধারণ, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলাদাভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং মানবিক বিভাগের জন্য তিনটি ইউনিটে পরীক্ষা নেবে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্বিমত রয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট অবশ্যই রাখতে হবে। অথবা একজন বিজ্ঞান বা বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র যেন মানবিক বিভাগের ইউনিটেও পরীক্ষা দিতে পারেন এই ব্যবস্থা রাখা, যা জাবি, রাবি, চবিসহ প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই চালু রয়েছে।

মো. জয় আহমেদ

সিরাজগঞ্জ।

 

►   গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন বলে মনে করি। গ্রামগঞ্জের তৃণমূল জনগণের শিক্ষার্থী, যাঁরা শহরের সুবিধাবঞ্চিত অথচ মেধাবী, তাঁরা বিনা হয়রানিতে যাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মেধা বিকাশের সব বাধা দূর করে মেধাবী প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব দেশপ্রেমিক সব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এখানে ছলচাতুরী করা অন্যায় হবে। মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিলে তাতে স্বাধীন দেশের শক্ত ভিত রচিত হবে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা বিলোপ করে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ওপর ভর্তি করানো আমি অধিকতর যৌক্তিক মনে করি। ভর্তি পরীক্ষায় নিরীহ ছাত্ররা জ্ঞানপাপীদের কূটকৌশলের ফাঁদে পড়ে ন্যায্য ভর্তি হতে বাদ পড়েন বলে জনশ্রুতি আছে। এসব দূর করতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

 

►   গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। আগের সিদ্ধান্তই ভালো ছিল। এখন হ্যালো বললেই দুর্নীতির মাধ্যমে যে কেউ ভর্তি হতে পারবেন, সেই অবকাশ রয়ে গেল। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।

মো. রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

 

►    একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে অভিভাবকদের অনেক অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। প্রশ্ন ফাঁস চিন্তায় অস্থির থাকতে হয় তাঁদের। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অনেকে ভর্তির সুযোগই পান না। এবারই প্রথম গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কম হবে। একটি পরীক্ষায় পাস করলেই হবে, কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ মিলবে। নতুন পদ্ধতিকে স্বাগত; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►    সমন্বিত না গুচ্ছ পদ্ধতি—এ নিয়ে দ্বিধায় ছিল ইউজিসি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইউজিসি গুচ্ছ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা চাইছে। পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারে, যদি তারা নিতে চায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, জোর করে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলে যদি আন্দোলন হয়, তাহলে কে সামাল দেবে?

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরবর্তী ধাপে ভর্তি হওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। তাই আমার মতে, সমন্বিত পদ্ধতিতে না হয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়াই ভালো। তাতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভোগান্তি কম হবে।

গুচ্ছ পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না; তাঁরা এক বিশ্ববিদ্যালয়েই পরীক্ষা দিতে পারবেন, যেমন মেডিক্যালে ভর্তির পরীক্ষা দেওয়া যায়। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভোগান্তি হবে না। এটাই গুচ্ছ পদ্ধতির সুবিধা।

এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ঘুরে বেড়ানো কষ্টকর। তাই যিনি যে ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে চান, তিনি এক জায়গায় বসে পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে তাঁকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►   বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও মেধার কথা ভাবতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাঁরা সঙ্গ দিতে যান, সেই অভিভাবকদের সময় ও অপচয় বন্ধ করতে চিন্তা করতে হবে। আমরা মনে করি, গুচ্ছ পদ্ধতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কাজেই এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে আরো ভেবে নেওয়া জরুরি ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুর্নীতি ও পয়সার মাধ্যমে ভালো ফল না করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়ে যায় বলে মনে হয়। কাজেই আরেকটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে মন্দের ভালো হতো।

শিউলি আক্তার

আগারগাঁও, ঢাকা।

 

►   বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষা থেকে ভর্তি ফরম বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় থাকে না। বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা যেতে পারে। আবার একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী টাকার অভাবে দূর-দূরান্তে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন না। আর ভর্তি পরীক্ষা দিতে প্রায় অনেক টাকা লাগে। এমন খবর পত্রিকায় আসে না, টেলিভিশনে দেখা যায় না; কিন্তু সত্য যে, অনেক মেধাবী গরিব ছাত্র-ছাত্রী টাকার জন্য ভালো বিশ্ববিদ্যালগুলোয় ভর্তির জন্য ফরম তুলতে পারেন না। ফলে তাঁদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন ভেঙে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ যদি মেডিক্যাল কলেজগুলোর মতো একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিত, তাহলে ভর্তীচ্ছুদের এত ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। যদিও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে, আর কিছু বলার নেই, তবুও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারলে ভালো হতো।

মোহাম্মদ শাকিল

ফার্মগেট, ঢাকা।

 

►   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা দরকার। কারণ এতে কষ্ট কমলেও বিষয়টি স্বচ্ছ নয়। এতে কষ্ট বাড়বে। আমরা মনে করি কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য অবিবেচক নীতি গ্রহণ করা যাবে না।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►   গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে ভালো। তবে মেধার বিচারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। এই পদ্ধতি সুন্দরভাবে চালু হোক এবং সফল হোক, একজন অভিভাবক হিসেবে এটাই কামনা করি।

কুমারেশ চন্দ্র

হূদয়পুর, মাগুরা।

 

►   গ্রামগঞ্জের তৃণমূল জনগণের শিক্ষার্থী, যাঁরা শহরের সুবিধাবঞ্চিত, অথচ মেধাবী তাঁরা বিনা হয়রানিতে যাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিলে তাতে স্বাধীন দেশের শক্ত ভিত রচিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা বিলোপ করে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ওপর ভর্তি করানো গেলে আরো ভালো হবে। ভর্তি পরীক্ষায় নিরীহ ছাত্ররা জ্ঞানপাপীদের কূটকৌশলের ফাঁদে পড়ে ন্যায্য ভর্তি থেকে বাদ পড়ে বলে জনশ্রুতি আছে। 

শফিকুল ইসলাম

গাঙ্গীনারপাড়, ময়মনসিংহ।

 

►   গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে মন্দের ভালো হবে। পক্ষ-বিপক্ষ মত নিয়ে আন্দোলন করলে উটকো ঝামেলা বাড়বে। তাই এসব দূর করতে হবে। মেধা বিকাশের সব বাধা দূর করে মেধাবী প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব দেশপ্রেমিক সব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এখানে ছলচাতুরী করা অন্যায় হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম শুনতে চাই না।

হাবিবুল্লাহ মোহন

খিলক্ষেত, ঢাকা।

 

►   সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে যেহেতু এটা গোটা জাতির ভালো-মন্দের বিষয়, তাই গুচ্ছ পদ্ধতির বিরোধিতা করে লাভ নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা দরকার। কারণ এতে কষ্ট কমলেও বিষয়টি স্বচ্ছ নয়। আমি মনে করি, এতে কষ্ট বাড়বে। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য অবিবেচক নীতি গ্রহণ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় ফেলে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সুপরিকল্পিতভাবে।

চৌধুরী ফাহাদ

শাহবাগ, ঢাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা