kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনে চাই আন্তরিকতা

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। কারণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই সেদিন মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। জাতি আজও ভাষার জন্য আত্মদানকারীদের ভুলতে পারেনি। পৃথিবীর আর কোনো ভাষার জন্য কোথাও কেউ জীবন দেয়নি, ভাষার দাবিতে মরণপণ সংগ্রামও কোথাও হয়নি। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা, প্রিয় বাংলা ভাষাকে নিয়ে আমাদের ভালোবাসা ও গর্ব অনেক বেশি। আমাদের সংবিধানের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’ আমরা দেখছি, প্রশাসনে বাংলার ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কিন্তু ১৯৮৭ সালে দেশে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন হয়েছে। আইন করার পরও সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করা যায়নি। উচ্চ আদালতে বাংলা চালু হয়নি। সেখানে আইনি পরিভাষার অভাবের কথা বলা হয়। কিন্তু কয়েকজন বিচারপতি বাংলা ভাষায় রায় দিয়ে প্রমাণ করেছেন সদিচ্ছা থাকলে বাংলা ভাষায় রায় দেওয়া যায়। ‘নানা দেশের নানা ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা’ রামনিধি গুপ্তের এই কবিতাংশ শুধু আমাদের নয়, বিশ্বের প্রতিটি মাতৃভাষাভাষী মানুষের কাছেই ধ্রুব সত্য। নিজেদের ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি প্রচলিত আর দাপ্তরিক ভাষায়ও আমরা কথা বলি, বিভিন্ন কাজ করি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষাগুলোর মধ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা অন্য রকম। আজ এত বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে বারবার। চারদিকে আজ পশ্চিমা ও হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের ছড়াছড়ি। তরুণসমাজ পশ্চিমা সংস্কৃতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এখন বাংলাকে ইংরেজি ও হিন্দির সঙ্গে মিশিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন সাইনবোর্ড লেখা হয় ইংরেজিতে আবার বিয়ে ও জন্মদিনের কার্ডগুলো বাংলার পরিবর্তে ইংরেজিতে লেখা হয়। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও জটিলতা রয়ে গেছে, যেখানে আমরা বাংলার প্রচলন করতে পারিনি। রাষ্ট্রের একটি ভাষানীতি এবং ভাষা পরিকল্পনা থাকা দরকার। আর তা দরকার একটি ভবিষ্যত্মুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। যে মাতৃভাষা বাংলাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে গিয়ে এ জাতির বীর সন্তানরা তাঁদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই মাতৃভাষা বাংলাকে অবহেলা করা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আসুন, বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি।

মো. জিল্লুর রহমান

সতীশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা