kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন

প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে সেই বীর সন্তানদের, যাঁরা মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন। বিশ্বের ২৬ কোটিরও বেশি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; কিন্তু সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হচ্ছে না। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা বলছেন, সর্বস্তরে বাংলা চালু করতে প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►    সরকার জাতীয় সংসদে প্রস্তাব এনে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেভাবে অগ্রসর হতে পারে। আজ ৬৮ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও রাষ্ট্রভাষা বাংলা সর্বত্র চালু না হতে পারা কলঙ্কময় অধ্যায় এবং ভাষাসৈনিকদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। সরকারি প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তার অনীহা এর প্রধান বাধা বলে মনে হয়। সরকারের দৃঢ় সদিচ্ছাই পারে সর্বত্র বাংলা ভাষা চালু করতে। বাংলা ভাষা সর্বত্র চালু করতে সরকারের সামনে কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না। জার্মানি থেকে বিশ্বের সব দেশে স্বকীয়তা রক্ষার জন্য নিজ নিজ ভাষায় সরকারি কার্যক্রম চালু আছে। আমরাও চালু করতে পারি এ বছর আমাদের জাতির পিতার শততম বর্ষের শুভ দিনে। প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও দৃঢ় উদ্যোগ।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►    ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি। সেই ভাষা আজ নানাভাবে অবহেলার শিকার। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে ইচ্ছা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

পারভেজ আহমেদ টুটুল

আগানগর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

►    ভাষাশহীদরা তাঁদের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার বর্ণগুলো রঙিন করেছেন, বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছেন। ভাষা আন্দোলনের রক্তে স্বাধীনতার নকশা তৈরি হয়েছিল। অথচ দেশে এখন বাংলা ভাষার অবস্থা নড়বড়ে। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভাষাশহীদ, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী, তাঁদের লেখা ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের গৌরব, ইতিহাস এবং মাতৃভাষা বিকাশে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। প্রয়োজন ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ সব শ্রেণির মানুষের সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলা সাহিত্য বিকাশে এবং বাংলায় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহী করতে নানা রকম কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    বাংলা ভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। একান্ত সম্বোধনের শব্দগুলোও বাংলা হলে ভালো। অনেকে মা-বাবাকে মাম্মি, ড্যাডি বলে, কে কিভাবে বলবে সেটি তার বিষয় হলেও বাংলা সম্বোধনগুলো তো মধুর; সেগুলো ব্যবহার করলেই ভালো। সব মানুষের মাতৃভাষাবোধ দরকার। সরকারি দপ্তরগুলোতে দলিলপত্র বাংলা ভাষায় লেখা জরুরি।  সরকারি পদক্ষেপও দরকার।

আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া

নলুয়া, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

►    জানা-বোঝার জন্য মাতৃভাষাই কার্যকর মাধ্যম। তাই মাতৃভাষা সঠিকভাবে শেখা উচিত এবং কথাবার্তায় প্রয়োগ করা উচিত। শুদ্ধভাবে ভাষা প্রয়োগ করা জানতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপও দরকার।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। আমাদের জবাবদিহি মনোভাব তৈরি করতে হবে। আইন না মানলে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন ভাষার গৌরব ও লড়াইয়ের কথা জানতে পারে, সে জন্য কাজ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►    শিশুদের ভালো করে বাংলা ভাষা শেখাতে হবে। অন্য দেশের পণ্যের নাম থাকে পংপং, কচমচ ইত্যাদি। এসব তাদের থেকে দূরে রাখতে হবে। ভাষার প্রতি শিশুর প্রেম ও শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একুশের এই দিন থেকে ভাষার জন্য নতুন নির্দেশনা দেবেন, যেন আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারি।

কুমারেশ চন্দ্র

হূদয়পুর, মাগুরা।

 

►    রক্ত দিয়ে লেখা দিনটি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি। আর অপচেষ্টার জন্য পাকিস্তান হয়েছে ধূসর তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। ফল ফলেছে ১৯৭১ সালে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এখন দুটি কাজ বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সম্পন্ন করতে হবে—একটি হলো স্বাধীনতাকে রক্ষা করা, আরেকটি হলো সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চর্চা নিশ্চিত করা। শহীদদের রক্তের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা মায়ের ভাষার অমর্যাদা করব না। 

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    বাংলাদেশের সর্বস্তরে আজও বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। আমাদের সর্বোচ্চ আদালত ও অন্যান্য আদালতের রায় এখনো বাংলা ভাষায় লেখা হয় না। দেশপ্রেম ও  মাতৃভাষা  বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই পারে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে।

ম. মুমিনুর রহমান

শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।

 

►    আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের ভাষা, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। কারণ আমাদের দেশ ছাড়াও বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে হয়। আমার মনে হয়, উচ্চবিত্তদের বাংলা ভাষা চর্চার ব্যাপারে একটু অনীহা আছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তবান সন্তানদের অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তারা অন্য ভাষায় কথা বলতে একটু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং নিজেদের একটু আলাদা ভাবতে পছন্দ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা মাসের দিনটির নামকরণ হলে ভালো হতো এবং যত বাৎসরিক মাসভিত্তিক তালিকা আছে, সেখানে প্রায় তালিকায় বাংলা মাসের তারিখ থাকে না, দৈনিক পত্রিকাগুলোয় বাংলা তারিখ বড় করে দিতে হবে, বাংলা মাসের নাম ও তারিখ অনেকে জানি না অর্থাৎ চর্চার অভাব লক্ষ করা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ওপরে, নিচে অন্য ভাষায় শনাক্ত করা উচিত।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

সেকশন-৬, মিরপুর, ঢাকা।

 

►    ভাষার জন্য আত্মত্যাগ বাঙালির জন্য বিরল ইতিহাস হয়ে আছে। তবে ভাষা রক্ষায় আমরা সচেষ্ট নই। আদালতের রায় উপেক্ষা করে বাংলিশ ব্যবহার করি। ফলে কোনোটিই ভালো করে শিখতে পারিনি। পত্রিকাও বাংলা ভাষা পরে লেখে। প্রথমে লেখে ইংরেজি। কালের কণ্ঠকে দেখলাম, তারা প্রথমে বাংলা লিখেছে। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। ২১ ফেব্রুয়ারি নয়, ৮ ফাল্গুন, এটি লিখলে সমস্যা নেই তো। বাংলা মাসে বেতন দেওয়ার প্রচলন করলে ভালো কাজ হবে বলে মনে করি। মাতৃভাষাকে ভালো করে না জানলে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►    রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপযুক্ত পরিভাষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একুশে ফেব্রুয়ারির নানা আনুষ্ঠানিকতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে এসব কাজ করতে হবে। একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভের পর প্রায় পাঁচ দশকেও আমরা এ কাজে বেশি অগ্রসর হতে পারিনি। এ ব্যর্থতার কথাও আজ আমাদের বিবেচনা করতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের মাধ্যমেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব। শুধু বাংলা নয়, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আরো যে ভাষার মানুষ আছে, তাদেরও নিজ নিজ মাতৃভাষার বিকাশের উদ্যোগ নিতে হবে।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

►    বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং এই ভাষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হলে সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় যেন যথাযথভাবে পালন করা হয় এবং নির্দেশের প্রয়োগ হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    বাংলা না জানাটা স্মার্ট না হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। যাঁরা মনে করেন বাংলা জানাটা ইংরেজি জানার সঙ্গে পরস্পরবিরোধী, তাঁদের ভাবনাটা ঠিক নয়, বরং ইংরেজি প্রয়োগ করার ব্যাপারে সুবিধা হয় যদি বাংলা ভালোভাবে জানা যায়। একটা অনুরাগ জন্ম দেওয়ার ব্যাপার। এটা আসলে আমরা যারা এখানে আছি, তাদের সবার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। একটা হচ্ছে বিদ্যালয়, আরেকটা হচ্ছে বিদ্যালয়ের বাইরে। এই যে ভাষা প্রতিযোগের আয়োজন, বিদ্যালয়ের বাইরে এ রকম কোনো উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় কি না। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এতটুকুই বলব, প্রচণ্ড রকম একটা অনুরাগ এবং ভালোবাসা সৃষ্টি করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের।

শাহ আলম ইসলাম

আলবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।

 

►    সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হলে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগ নিতে হবে। আর এ বিষয়ে মুজিববর্ষে একটি নীতিমালাও করা যেতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া সব বিভাগের দাপ্তরিক কাজ বাংলা চালু করা গেলে ভালো ফল আশা করা যায়। 

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

ফরিদাবাদ, ঢাকা।

 

►    দুঃখজনক ব্যাপার, যে বাংলার জন্য আমরা জীবন উৎসর্গ করলাম সেই বাংলা সন ও তারিখটি আজ চরমভাবে উপেক্ষিত। সরকারের উচিত ছিল ৮ ফাল্গুনকে শহীদ ও ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। আমরা ১৪ এপ্রিলের পরিবর্তে যদি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১ ফাল্গুনকে যদি বসন্তবরণ উৎসব পালন করতে পারি, তবে কেন একুশে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৮ ফাল্গুনকে অমর ভাষা ও শহীদ দিবস হিসেবে পালন করতে পারব না? সর্বস্তরে বাংলা চালু করতে সর্বাগ্রে ভাষা দিবসটি বাংলায় চালু করার বিকল্প নেই। আসুন, আমরা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কার্যালয়, আদালত, কথাবার্তা, লেখনী, সংস্কৃতি, জীবনাচার—সব ক্ষেত্রে মানসিকতার ও অভ্যাস পরিবর্তন করে ইংরেজি ও বাংলা সংমিশ্রণ না করে শুদ্ধভাবে বাংলা বলা ও লেখার চেষ্টা করি।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।    

 

►    সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হলে ভাষার প্রতি প্রেম ও শ্রদ্ধা বাড়াতে হবে। একুশে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

মো. ইয়ামিন খান

শ্যামলী, ঢাকা।

 

►    ইংরেজ শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেক কিছুতে ইংরেজির প্রচলন হয়েছিল। দেশ বিভক্তির পর উর্দুর খড়্গ নেমে এলো। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর আমরা মায়ের ভাষাকে নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পেয়েছি। তার পরও বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটসহ দাপ্তরিক কাগজপত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে বহু বছর লেগেছে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো বাংলিশ ভাষার প্রচলন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিম্ন পর্যায়ে বাংলার প্রচলন থাকলেও উচ্চ পর্যায়ে নেই। দেশের সব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

►    একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অর্ধশত বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ দীর্ঘ সময়ে আমাদের অর্জন কী—এ প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমরা একুশের শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখাতে পারছি কি না। দেশ অনেকটাই এগিয়েছে বলা যায়; কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যেসব তাত্পর্যপূর্ণ বিষয়, সেগুলোর কি নিষ্পত্তি করতে পেরেছি আমরা? বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সত্য; কিন্তু তা কি সর্বস্তরে চালু করা সম্ভব হয়েছে? একুশের অন্যতম চেতনা ছিল রাষ্ট্রীয় জীবনে অসাম্য, বৈষম্য, দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য ইত্যাদির অবসান। এই মহৎ আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটেছে কি? বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি, আবহমানকালের সংস্কৃতি ইত্যাদি সমুন্নত রাখার ঐক্যবদ্ধ সমন্বিত প্রচেষ্টা কি লক্ষ করা যাচ্ছে সমাজে? চিন্তার দিক থেকে আমরা হব আন্তর্জাতিক; কিন্তু পরিচয়ে থাকব বাঙালি, এই ধারায় কি যাপন করছি জীবন? এসব প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক নয়। বিতর্ক রয়েছে, বিশ্বায়নের যুগে ভিন্ন সভ্যতা, ভিন্ন সংস্কৃতির যে অবাধ প্রবাহ, তাতে আমরা অবগাহন করব কি না। আকাশ সংস্কৃতির ফলে ভিনদেশের যেসব বিষয় আমাদের বিনোদিত করে, সেগুলো আমরা গ্রহণ করব কি না। এ বিতর্কের মীমাংসা হতে পারে বিষয়টিকে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারের মাধ্যমে। প্রথমত আমরা যেহেতু বাঙালি, সেহেতু বাঙালিত্বকে সমুন্নত রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র একটি জাতি হিসেবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখেই ভিন্ন সংস্কৃতি-কৃষ্টির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটাতে হবে। ভাষার প্রশ্নে বলতে হয়, আমাদের জীবন চলবে মাতৃভাষার মাধ্যমে। তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য শিখতে হবে সাধ্যমতো অন্য ভাষাও। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর অর্থ পৃথিবীর সব মাতৃভাষাই নিজ নিজ জাতির নিজস্ব ও অপরিবর্তনযোগ্য ভাষা। সব মাতৃভাষা ও আঞ্চলিক ভাষাকেই সমান মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে বিশ্ববাসীর। একুশের শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। শহীদ স্মৃতি অমর হোক, এমনটাই প্রত্যাশিত।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►    আদালতের রায়ও বাংলায় লেখা হচ্ছে না। সম্প্রতি আমি জজ আদালতের একটি রায় পেয়েছি, যা ইংরেজিতে লেখা। সেটি বোঝার জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, ইংরেজি জানা লোকের সাহায্য নিতে হয়েছে। অথচ আদালতই বলেছেন সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারের কথা। এখন দেখছি, আদালতই উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানেন না। এ দেশে প্রধানমন্ত্রীর আদেশ, উচ্চ আদালতের আদেশ মানা হয় না। তাহলে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন কী করে হবে?

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা