kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সাফল্য ধরে রাখতে চাই সঠিক পরিচর্যা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সাফল্য ধরে রাখতে চাই সঠিক পরিচর্যা

বিশ্বকাপ জয় করে ফিরেছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। অনেক হতাশার মধ্যে নতুন এক আশার আলো দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে! বাংলাদেশের এটাই প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট জয়। যুবাদের বিশ্বজয় যে বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে, সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►   অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট জয়ের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। আমার মতে, এই অর্জন অব্যাহত রাখতে হলে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ শুরু করতে হবে। মানসম্মত পরিচর্যা ও যত্ন নিলে তাঁদের মাধ্যমে ভালো কিছু করানো সম্ভব হবে বলে মনে করি। আর এই পরিচর্যা ও যত্ন যেন হয় আন্তর্জাতিক মানের। ভালো মান বজায় রাখতে হবে। আর কোনোভাবেই যেন এই খেলাধুলা ও উঠতি তরুণদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা না হয়। রাজনৈতিক কলুষতা তাঁদের যেন ছুঁতে না পারে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►   অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিজয়ে আমরা খুব খুশি। এই প্রাপ্তি অভূতপূর্ব এবং স্মরণীয়। সবার সম্মিলিত ভালোবাসা ও শুভ কামনা আছে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি। তাঁদের জন্য সরকারি ও সামাজিকভাবে যা কিছু করার তা করতে হবে। তাঁদের হাত ধরেই একদিন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ আমরা লাভ করতে পারব, সেই আশা করি।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

►   অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন দলকে শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দলের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে। এ জন্য বিসিবির সবাইকে তৎপর থাকতে হবে; ক্রিকেটারদেরও সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেরা পারফরমারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তুত করতে হবে। দলটির সদস্যদের এখন থেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের খেলা অনুসরণ করতে হবে, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

►   বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিশ্বকাপ ট্রফি এটাই প্রথম। এবারের জয় ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে। এ সাফল্যের যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলটি দুর্দান্ত একটি টিম। কিন্তু জাতীয় দল লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে প্রায়ই। সব ধরনের ক্রিকেট টিম এবং ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►   বিশ্বজয়ী বীরদের সংবর্ধনা দিল দেশ। আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি, লড়াকু মনোভাব, নির্ভীকচিত্ত আর ধৈর্য ধারণ করে সর্বোচ্চ লক্ষ্যে যে পৌঁছতে পারা যায় এরই স্বাক্ষর রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় পচেফস্ট্রম স্টেডিয়ামে আকবর বাহিনী। আকবর আলী মাত্র ১৯ বছর বয়সে বোন হারানো ব্যথাকে বুকে পাথরচাপা দিয়ে সহনশীল মনোভাব নিয়ে দলের নেতৃত্বে থেকে দেশ ও জাতির মর্যাদা বাড়িয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। অঙ্কিত হলো বিশ্বজয়ী বাংলাদেশ। শুধু আকবরই নন, প্রতিজন খেলোয়াড়ের চোখে-মুখে অদম্য উৎসাহ-উদ্দীপনা আর হার না মানার দৃঢ় প্রত্যয়। পারভেজ হোসেন ইমন পেশিতে টান নিয়েও ব্যাট হাতে নিলেন দলের প্রয়োজনে—এ এক কঠিন দৃষ্টান্ত। এই বীর সন্তানদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। ফাইনালে ভারতীয় দলকে পরাস্ত করে প্রথমবারের মতো তাঁরা জয় করেন যুবা বিশ্বকাপ। এই আকাশছোঁয়া অর্জন যেন উপঢৌকনে ভেসে না যায়। উপদেশই তাঁদের প্রাপ্য অযাচিত উপহার যদি ছাপিয়ে যায়, তাহলে অতীতের মতো দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। দেশের জনগণ এটা দেখতে চায় না, জনগণ দেখতে চায় এই ছেলেদের গড়ে তুলতে সব রকমের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। অর্জন করা যত সহজ এর থেকেও কঠিন অর্জন ধরে রাখা। কারণ বিশ্বজোড়া নাম অনেকের আছে; কিন্তু বিশ্বজয়ী সবাই নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদীপ প্রজ্বালন করলেন দেশের তরুণ যুবা ছেলেরা মুজিববর্ষে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►   সালাম অনূর্ধ্ব-১৯ দল, সালাম বাংলাদেশ। কাঙ্ক্ষিত বিজয় বয়ে এনেছে দলটি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আকবর বাহিনীকে অভিনন্দন। নৈপুণ্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এরপর জাতীয় ক্রিকেট দলও ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দেশের জন্য গৌরবময় বিজয় বয়ে আনবে বলে আশা করি। বিজয়ী বীরদের সংবর্ধনা জানানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে খেলায় মনোযোগ দিতে পারেন। তাঁদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

►   অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে অভিনন্দন। তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে গিয়েছিল নীরবে, ফিরল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা নিয়ে। বাংলাদেশকে যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা এনে দিল। এখন জাতীয় দলের সামনে বিশ্বকাপের স্বপ্ন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণ করালে তাঁদের আরো উন্নতি হবে। তাঁরা যেন হারিয়ে না যান। তাঁদের দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাঁদের নিয়ে গঠনমূলক পরিকল্পনা করতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

►   বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, সেটা সব প্রশংসার ঊর্ধ্বে। তবে এই সাফল্য এক দিনে আসেনি। আমাদের যুবাদের দুই বছরের কঠিন পরিশ্রম আর ত্যাগের কারণেই বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম বিশ্বজয়ী হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে। তাই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গেলে খেলোয়াড়দের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। তাঁদের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের সান্নিধ্যে এনে খেলানো যেতে পারে। সারা দেশে আকবরের মতো অনেক নাম না জানা সম্ভাবনাময় প্রতিভা লুকিয়ে আছে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। দেশ থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এসব প্রতিভা খুঁজে আনতে বিসিবির চেষ্টা চালাতে হবে এবং বাছাইকৃতদের নিয়ে আলাদা ক্যাম্প করে ভালো কোচ নিয়োগ দিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আমি মনে করি, যদি উপরোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল তাদের সাফল্য ধরে রাখতে পারবে এবং ভবিষ্যতে এই সম্ভাবনাময় তরুণরাই।

মো. আলভী হুসাইন

ফুলবাড়ী গেট, খুলনা।  

 

►   নির্মল আনন্দে ভাসছে দেশ। ক্রিকেটে খেলোয়াড়রা এনে দিয়েছেন অবিস্মরণীয় বিজয়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা দেশের জন্য বয়ে এনেছেন গৌরবজনক বিশ্বকাপ। এমন উপহারে ক্রীড়ামোদী দেশবাসী উচ্ছ্বসিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পারিবারিক আড্ডা, চায়ের স্টলের আলাপচারিতা—সবখানেই সোনার ছেলেদের প্রশংসা। দেশবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখছে তরুণ এসব ক্রিকেটারকে নিয়ে। মানুষের আশীর্বাদ রয়েছে তাঁদের জন্য। মাঠে খেলোয়াড়ি নৈপুণ্য দেখিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকায় যুক্ত হলো অনন্য অসাধারণ নতুন পালক। বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দিলেন তাঁরা। আগেও ক্রিকেটাররা বাংলাদেশকে দিয়েছেন বিজয়ের বরমাল্য। জাতিকে দিয়েছেন উদ্দীপনা। বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা অটুট থাকুক। আমরা নানা সমস্যায় হাবুডুবু খাওয়া দেশবাসী ক্রিকেট উপলক্ষে মেতে উঠি আনন্দে। 

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

►   বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী সব খেলোয়াড় এবং খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাগত। আমরা সব কিছুতেই একটু বেশি আবেগি হয়ে পড়ি। আবেগ দিয়ে বিবেক চলে না। আমাদের সব কিছুতেই একটু বেশি বাড়াবাড়ি, বেশি উৎসাহী হয়ে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে যেমন উত্ফুল্ল হই, তেমন কষ্টও পাই। যেকোনো জয়ের পর তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। খেলোয়াড় শুধু খেলে যান; কিন্তু তাঁর  পেছনে যাঁরা থাকেন তাঁদের সব সময় নজর রাখতে হবে সঠিক খেলোয়াড় বাছাই, অধিনায়ক নির্বাচন, মনিটর করা, পরিকল্পনা করা, নতুন খেলোয়াড় বাছাই করা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের যেমন পরিপক্বতা আসে আবার বয়সের সঙ্গে সেটি চলমান থাকে না। তাই তখন নতুন খেলোয়াড় প্রয়োজন পড়ে। সেদিকে আগে থেকেই নজর দিয়ে নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা প্রয়োজন। ক্রিকেট খেলা একটি বড় ইভেন্ট, খেলোয়াড় ছাড়াও এর পেছনে অনেক বড় টিম কাজ করে। তাদের সততা, দক্ষতা থাকতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয়তার যেন কমতি না থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমাদের দেশের পরিধি কম হতে পারে, জনবল কিন্তু কম নেই। তাই দক্ষ টিম তৈরি করা কঠিন কিছু নয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ নজর রাখতে হবে। আমাদের খেলায় জয় ছাড়াও দেশের সব কিছু ভালোভাবে চলুক, আমি আমার দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করি, দেশ আরো এগোবে।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

সেকশন-৬, মিরপুর, ঢাকা।

 

►   ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ এক বারুদ। মুস্তাফিজ থেকে অলরাউন্ডার সাকিব—সবই বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বোলিংয়ে ছিল আগুন, ফিল্ডিংয়ে রীতিমতো বারুদ। লক্ষ্যটাও ছিল স্থির। ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল দারুণ। খেলার মাঠে নানা নাটকীয়তার মাঝে টাইগাররা একেবারে খাদের কিনারা থেকে যেন আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা ছিল অসাধারণ। এ লড়াকু মানসিকতার সঙ্গে পেরে ওঠেনি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তাদের হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৯ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য সত্যি স্মরণীয় দিন। এমন দিন কখনো আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ, গৌরবান্বিত হওয়ার কৃতিত্ব। চারবারের রেকর্ড ট্রফিজয়ী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অভূতপূর্ব সাফল্যের দিন, আমাদের বাঙালির দিন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন। মুজিববর্ষের প্রাক্কালে এই জয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল, কোচ, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা, এই খেলোয়াড়ি মনোভাব ধরে রেখে এভাবেই ভবিষ্যতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। টাইগারদের সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সে ক্রিকেটপাগল দেশবাসীর মনে যখন কিছুটা হলেও হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল তখন যুবা টাইগাররা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শিরোপা জয় করে আমাদের জানিয়ে দিলেন—মুজিববর্ষে ক্রিকেট নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই—‘আমরা আসছি’। মুজিববর্ষে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্যটা এনে দিয়েছেন তাঁরা। জয়ের এ ধারাবাহিকতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। আমার মত হলো ক্রিকেটারদের নিয়ে আবেগের বাড়াবাড়ি না ঘটিয়ে তাঁদের জন্য ক্রীড়ানুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। মাটি ও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা যেন পথ চলেন আগামী দিনেও এবং এগিয়ে নিতে পারেন আমাদের দেশকে।

এ কে এম আলমগীর

ওআর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

►   ক্রিকেটের এই সাফল্যে আমরা বড়ই আনন্দিত। ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্র্যাকটিসের পাশাপাশি তাঁদের এমন লাইফস্টাইলে জোর দিতে হবে, যাতে তাঁদের বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা বাড়ে। শক্তি ও সাহস বাড়ে এবং খেলার সময় যেন তাঁরা গর্জে ওঠে। ওজন বৃদ্ধি পায় এমন ধরনের খাদ্য বর্জন করার জন্যও তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হোক। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এগিয়ে যাক। ক্রিকেটে বাংলাদেশ বিশ্বজয়ের মুকুট ছিনিয়ে আনবে, আনবেই সেই অনাগত দিনটির অপেক্ষায় আমরা।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

►   তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে হবে। তাঁরা বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেছেন আরো বড় কিছু তাঁদের দ্বারা সম্ভব। কাজেই সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।

রাহুল দেবনাথ

ফার্মগেট, ঢাকা।

 

►   যেকোনো অর্জন যেমন কৃতিত্বের, তেমনি সেই অর্জন ধরে রাখা মহাকৃতিত্বের বিষয়। বর্তমান বিশ্বে একক কৃতিত্বের খুব একটা সুযোগ নেই। ধারাবাহিক চেষ্টা এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে অর্জন যেমন হাতে ধরা দেয়, তেমনি তাকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন উপযু্ক্ত প্রশিক্ষণ, নিরলস চেষ্টা ও রাষ্ট্রের যথোপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার খেলোয়াড় কপিল দেব বলেছেন, ‘কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে একটা দল হয়ে খেলতে পারলে যেকোনো টিমের গলায় জয়ের মালা পরিধান করা অসাধ্য নয়।’ সেটাই প্রমাণ করেছেন আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। তাঁদের এ বিজয়কে ধরে রাখতে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক শক্তি আরো বাড়াতে হবে, খেলার আধুনিক কলাকৌশল শিখতে হবে, মনস্তাত্ত্বিক চাপ সহ্য করার শক্তি অর্জন করতে হবে, ঠাণ্ডা মাথায় দৃঢ়ভাবে প্রতিপক্ষের উসকানি ও স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়ার বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক আকবর আলীর ‘স্মাইলিং ইজ দ্য বেস্ট রিভেঞ্জ’ নামক দর্শনের কথা স্মরণীয়। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে হবে—‘মেতেছে বিশ্ব আজ, জমবে বিশ্বকাপ; জেগেছে বাংলাদেশ, ছড়াবে ফের উত্তাপ। মারবে ছক্কা-চার, পলকে সীমানা পার; জেগেছে বাংলাদেশ, রুখবে সাধ্য কার!’-এর মতো করে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

►   বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ভারতকে হারিয়ে বিশ্বশিরোপা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তারা। বিশ্বে আরেক দফা পরিচয় ঘটেছে বাংলাদেশের। এ জয় থেকে জাতীয় দলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। এ দলের খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্রিকেটের জন্য সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হোক।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►   অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়ের উত্তেজনা এবং ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটে স্থায়ী এক শত্রুতা তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে মাঠেই। এর জেরে আইসিসি বাংলাদেশের তিনজন ও ভারতের দুজনকে কয়েক ম্যাচ করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতি থেকে অবশ্যই ফিরতে হবে এবং চমৎকার শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের এ সাফল্য একদিন জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জয় এনে দেবে—এ প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমী সবার।

স্মৃতি রহমান

নাগরপুর, টাঙ্গাইল।

 

►   তারুণ্যের এই জয়কে আগামী দিনের জন্য বড় ধরনের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বকাপের স্বপ্ন ও সাফল্য তাদের মাধ্যমেই আসুক।

মিজানুর রহমান

সাহেব বাজার, রাজশাহী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা