kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

গণতন্ত্র সুসংহত রাখবে সুশাসন

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



গণতন্ত্র সুসংহত রাখবে সুশাসন

ব্রিটেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) গত মঙ্গলবার যে বার্ষিক গণতন্ত্র সূচক ২০১৯ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ইআইইউ উল্লেখ করেছে যে গত এক বছরে সার্বিকভাবে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র সূচকে অবনমন হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে পাঠকদের মতামত জানতে চেয়েছিলাম। পাঠকরা বলছেন, উন্নয়নের স্বার্থে যেমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে নিশ্চিত করতে হবে সুশাসন। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

❏ গণতন্ত্র মানে জনতার তন্ত্র—সাধারণের ক্ষমতা, সাধারণের শাসন। একজন সাধারণ মানুষ যখন বুঝতে পারবে যে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত করবে তখনই তা প্রকৃত গণতন্ত্র। ‘জনতাই সরকার’—এমন পরিস্থিতি আসতে সময় লাগবে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে কথা বলেছে, কোথায় যেন সে কথা অমসৃণ লাগে। পরগাছা নেতৃত্ব ছেড়ে রাজনৈতিক দলগুলো যদি তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে ধাবিত হয়, তবেই বহুদলীয় গণতন্ত্র মজবুত হয়। আমার বিশ্বাস, বর্তমান সরকারপ্রধান এ বিষয়ে মনোযোগী এবং সচেষ্ট। আগামী দিনে যথাযথ গণতন্ত্র কায়েম হবে বলে মনে করি।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

❏ গণতন্ত্রে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই; তবে গণতন্ত্র কোনো গাছের ফল নয় যে পেড়ে নিলেই হলো। বিশ্বের ৬২ শতাংশ দেশ গণতান্ত্রিক হলেও বর্তমানে অনেক দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন গড়ে তোলার নিশ্চয়তা দিয়েছে। আশা করব, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে সংবিধানসম্মত রাজনীতি করার অধিকার দেবে।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

❏ কোনো সংস্থা যখন কোনো পরিসংখ্যান করে তখন তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তা করে থাকে। আমরা অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে যত দূর অনুধাবন করি, তা কোনো সংস্থা কতটুকু বুঝতে পারে বলা মুশকিল। বাস্তবতার আলোকে পরিসংখ্যানে কোথাও ত্রুটি আছে বলে মনে হয়।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

সেকশন-৬, মিরপুর, ঢাকা।

 

❏ নির্বাচনব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারের সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার—এই পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিত্তে রচিত জরিপে সারা বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৮তম থেকে ৮০তম স্থানে, অর্থাৎ আট ধাপ এগিয়ে এসেছে। এটি ভালো। তবে গণতন্ত্র অর্থবহ করতে হলে তার সুফল পৌঁছে দিতে হবে সাধারণ মানুষের হাতের কাছে। নিশ্চিত করতে হবে তার টেকসই পরিকল্পিত উন্নয়ন। লক্ষ্যস্থির চ্যালেন্স মোকাবেলায় প্রয়োজন সক্ষমতা। বৈশ্বিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে এখন বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে লক্ষ্য অর্জন করে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ১০টি দেশের কাতারে যাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে চলেছে। শুদ্ধি অভিযান, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গড়ার যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, তাতে আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আমরা বাঙালি চেতনায় অচিরেই শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছি।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

❏ এটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। কারণ আইন দিয়ে দুর্জনকে সব সময় পরিবর্তনে আনা সম্ভব নয়। অসংযত মনের কিছু লোকের জন্য আর কিছু অসৎ চরিত্রের মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে ঢুকে রাষ্ট্রের জনগণের শান্তি বিনষ্ট করে চলেছে। শুধু সরকারের ওপর চাপ দিয়ে নয়, তুচ্ছ স্বার্থের জন্য নীতি-আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে নয়, চাই সত্যের পথে অগ্রসর হয়ে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে যা করণীয় তা-ই করতে হবে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

রমেশকৃষ্ণ শীল

খুলনা।

 

❏ বাংলাদেশের জন্য এটি বেশ ভালো খরব। তবে অনেক বিষয় নিয়ে ভাবার আছে। যেমন—আমাদের দেশের ভোটারদের এমন মানসিকতা থাকলে রাজনীতিকদের দোষ কতটুকু দেবেন? রাজনৈতিক দল খারাপ করলেও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। যেদিন থেকে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোটার নিজেদের ভোট নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করবেন, আমি মনে করি সেদিন থেকে রাজনীতিকরা সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা করতে বাধ্য হবেন।

পারভীন সুলতানা

ফার্মগেট, ঢাকা।

 

❏ এ ধরনের জরিপ কিভাবে করা হয়, তার সত্য-মিথ্যা জনসাধারণ জানতে পারে কি? আমরা চাই, মানুষ নির্বেঘ্নে ভোট দেবে এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে। আমার কাছে এটিই গণতন্ত্রের উন্নয়ন।

রোজী

দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ।

 

❏ বাংলাদেশের জন্য খবরটি নিঃসন্দেহে উদ্দীপনা-জাগানিয়া। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্রের উন্নয়নে আরো জোর দিতে হবে।

জাকিয়া খানম

নালিতাবাড়ী, শেরপুর।

 

❏ গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়ে থাকা অবশ্যই সুখবর। তবে তৃণমূলে গণতন্ত্র আরো সক্রিয় করতে হবে। ইউনিয়ন, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেন বিরোধী দল অংশ নেয়, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মাঝপথে যেন বিরোধী দল নির্বাচন ছেড়ে না দেয়। জয়-পরাজয় যে কারো হতে পারে। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া জরুরি। বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন আসলে গণতন্ত্র থাকার উৎকৃষ্ট প্রমাণ নয়। তৃণমূলের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা প্রভাব বিস্তার করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনে যেন প্রভাব না খাটান সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। আবার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত না থাকার যে কালচার গড়ে উঠেছে, তা-ও বিরোধী দলগুলোকে ছাড়তে হবে। বাঁচা-মরা যা-ই হোক, নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সত্যি আন্তরিক—সেটি কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। অগণতান্ত্রিক দেশ উন্নতি করতে পারে না। উন্নয়ন, সমৃদ্ধির জন্য গণতন্ত্র থাকা দরকার।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

❏ দেশের অর্থনীতি, মানুষের জীবনমান ও সার্বিক বিষয়ের উন্নয়ন দৃশ্যমান এবং এ বিষয় স্পষ্ট। কিন্তু ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রকাশিত গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ—বিষয়টি হাস্যকর। সংগঠনটি হয়তো বা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নির্ণয়ে ভুল করেছে, নতুবা প্রভাবিত হয়ে এমন উদ্ভট মন্তব্য প্রকাশ করেছে। এমন পরিসংখ্যান গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য পীড়াদায়ক। মানুষের মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা নেই, যেখানে রাতে ভোট সম্পূর্ণ হয়ে যায়, মানববন্ধন করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্যাতনের শিকার হতে হয়, সেই দেশের গণতন্ত্র সূচকে উন্নয়ন বিষয়টি মানুষের হাসির খোরাক। একজন দেশপ্রেমিক বাঙালি হিসেবে প্রত্যাশা হচ্ছে, শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কিংবা পরিসংখ্যানে নয়, প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ যখন গণতন্ত্র ফিরে পাবে তখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্নীতি, দারিদ্র্য, চাটুকার, দালাল, মুনাফাখোর, ঘুষখোরমুক্ত সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

❏ গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে এখন ৮০তম স্থানে অবস্থান করছে। এটি আমাদের জন্য শুভ বার্তা। স্বাধীনতা-উত্তর সময় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কী ছিল এ দেশে? গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা, নির্বাচন—সব কিছুর যবনিকাপাত ঘটেছিল। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। নির্বাচনের নামে ছিল প্রহসন। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়। ক্ষমতার জোরে সব রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে অসাংবিধানিকভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইনডেমনিটির মতো কালো আইন প্রর্বতন করা হয় অবলীলায়। কিন্তু দীর্ঘদিন এ অবস্থা থাকতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও গণতন্ত্রের সপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল এ দেশের জনগণ আবার গণতন্ত্রের ধারা ফিরে পায়। দেশ মুক্ত হয় সামরিক থাবার কবল থেকে। মানুষ ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। এ দেশের মানুষ এখন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। একটির পর একটি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্ন দেখছি। গণতন্ত্র চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নয়। এটি অনুশীলনের বিষয়। অনুশীলনের মাধ্যমে এর বিকাশ সম্ভব। এ অনুশীলনের ভিত্তি রচিত হয় পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি-সম্প্রীতি, সহাবস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। পরিশেষে চাওয়া, গণতন্ত্রের পথচলা নিরবচ্ছিন্ন ও নিষ্কণ্টক হোক।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

❏ গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ—এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আশাপ্রদ খবর। গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ আরো অনেক ধাপ এগিয়ে যাক—এটি আমাদের একান্ত চাওয়া। দেশে মোটামুটি গণতন্ত্র বিরাজমান বলেই ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বাংলাদেশকে তাদের জরিপে এ সূচক প্রদান করেছে। বাংলাদেশ অগ্রগতির আরো আরো ধাপ এগিয়ে যাক—এই প্রত্যাশা করি।

ম. মুমিনুর রহমান

শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।

 

❏ বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে অনেক সময় লেগেছে। এর জন্য অনেক নিরীহ মানুষকে প্রাণও দিতে হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে কিছু লোকের ষড়যন্ত্রও থেমে নেই। নানা ধরনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে উন্নয়ন করেছে, এটি খুব ভালো বিষয়। এ জন্য আরো কাজ করতে হবে আগামী দিনে এবং গণতন্ত্র-বিরুদ্ধবাদীদের রুখে দিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

❏ বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে। আমাদের মতেও বাংলাদেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ধাপে ধাপে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে সব বাধা অতিক্রম করে দেশের মানুষের ভালোমন্দ মিলে এগিয়ে যাচ্ছে সোনার বাংলাদেশ। বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক যে অস্থিরতা বিরাজ করেছিল, জ্বালাও-পোড়াও বর্তমান সরকার কঠোর হস্তে দমন করে দেশের মানুষের আস্থাভাজন হয়ে দেশকে গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের সর্বোচ্চ উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে গত কয়েক বছরে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণই প্রমাণিত হয়, এ সরকারের প্রতি বিশ্বাস রাখা যায়। তাইতো তারা নির্বাচন করতে এগিয়ে এসেছে। আমরা আশাবাদী বাংলাদেশের এই ভোট মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশ আরো এগিয়ে যাক, জয়তু বাংলাদেশ।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

❏ অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এই অর্জন। গণতন্ত্র উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে, যেন পৃথিবীর অন্য দেশ অনুকরণ করতে পারে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬ হাজার মানুষের কাছে সব সম্পত্তি কুক্ষিগত আছে। গরিব আরো গরিব হচ্ছে, ধনী হচ্ছে আরো ধনী। মেহনতি ও খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেধা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবেন, বিশ্বাস করি।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

❏ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা। সুদীর্ঘ পথচলায় আমাদের যেমন কিছু অর্জন রয়েছে, তেমনি কিছু ব্যর্থতাও আছে। স্বপ্নের দেশ গড়তে গণতান্ত্রিক পথে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে অগ্রসর হতে হবে।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর।   

 

❏ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী হয়েছে—দেশে গণতন্ত্র রয়েছে বলেই। এ অগ্রগতি দেশের মানুষের চিন্তাচেতনার প্রতিফলন। রোল মডেল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ২০৩০ সালে দারিদ্র্যমুক্ত হবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাবে। এসবের জন্য দরকার সুশাসন। সুশাসন গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রক্ষাকবচ।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

❏ দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে। কথা হলো, দেশে কি সত্যি গণতন্ত্র আছে? শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর দেশে আর গণতন্ত্র দেখিনি। দেশে এখন পরিবারতন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র আছে বলে মনে করি না। তবে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, এ কথা সত্য। মিডিয়া মুখ খুলে কিছু বলতে পারে না। বিরোধী দল কথা বলতে পারে না। বিএনপি আমলেও বলতে পারত না। সবার কথা বলার সমান অধিকার থাকলে তবেই গণতন্ত্র হয়।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

❏ ইকোনমিস্টের কথা সত্য। দেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁর কন্যার নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, পদ্মা সেতু হচ্ছে, তাঁকেও ধন্যবাদ। গণতন্ত্র থাকলে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। দুর্নীতি দূর হলে গণতন্ত্র আরো জোরদার হবে।

রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

 

❏ যেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে এত সমালোচনা এবং বিরোধী দলের এত নেতিবাচক মন্তব্য গণতন্ত্র নিয়ে, সেই সময় গণতন্ত্র সূচকের উন্নয়ন আমাদের আশাবাদী করে। তবে গণতন্ত্রের উন্নয়নে নানামুখী কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিক।

নীলিমা চৌধুরী

ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

❏ ইকোনমিস্টের জরিপটি দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। তবে বাংলাদেশের মানুষ এখন নানাভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। একটির পর একটি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্ন দেখছি। গণতন্ত্র চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নয়। এটি অনুশীলনের বিষয়। অনুশীলনের মাধ্যমে এর বিকাশ সম্ভব। এ অনুশীলনের ভিত্তি রচিত হয় পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি-সম্প্রীতি, সহাবস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। পরিশেষে চাওয়া, গণতন্ত্রের পথচলা নিরবচ্ছিন্ন ও নিষ্কণ্টক হোক।

সাহীদা আক্তার

ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

 

❏ গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে—খবরটি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারকে গণতন্ত্রের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

সালমা

নাগরপুর, টাঙ্গাইল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা