kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উন্নয়ন ও সফলতার সঙ্গে ব্যর্থতাও কাটাতে হবে

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সারা বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। অনেক দেশই বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল অনুসরণ করার আগ্রহ প্রকাশ করছে। কৃষি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ফলে মাথাপিছু আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি দারিদ্র্যের হারও দিন দিন কমছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা আইআরআই কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে যে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কোনো কোনো মহল এই জরিপের ফলাফল গ্রহণ করতে না চাইলেও দেশের সাধারণ মানুষ খালি চোখেই বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুফলও ভোগ করছে। তবে উন্নয়ন ও সফলতার পাশাপাশি অনেক ব্যর্থতাও রয়েছে। দেশে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাপকতার পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধপ্রবণতা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হয়ে ওঠেনি, কিছু অসহনীয় পরিস্থিতির জন্য শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য বা বিচারের দীর্ঘসূত্রতাই দায়ী নয়, সমাজে অপরাজনীতির প্রভাব এবং সুশাসনের অভাবও অনেকাংশে দায়ী। তবে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যাপক দুর্নীতি। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনার কথাও বলা হচ্ছে; কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আলোড়ন সৃষ্টিকারী অভিযান ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। দেশে ধর্ষণ বা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির  পেছনেও মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা