kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অগ্রযাত্রার লক্ষ্য হোক টেকসই উন্নয়ন

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



অগ্রযাত্রার লক্ষ্য হোক টেকসই উন্নয়ন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট সরকারের বছর পূর্তিতে এক জরিপ করেছে। জরিপের ফল বলছে, সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশ। গত এক বছরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে জনসমর্থন বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে জরিপে। তবে সরকারের প্রতি সমর্থন বাড়লেও দুর্নীতি এই সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আইআরআইয়ের জরিপে। ১৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিকেই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৬ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। এই জরিপের বিষয়ে পাঠকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। পাঠকরা বলছেন, অগ্রযাত্রার লক্ষ্য হোক টেকসই উন্নয়ন। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►  অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। মহাকালের বিচারে ৪৮ বছর খুব বড় সময় নয়। তবে এ সময়ের ব্যবধানে কোনো কোনো জাতির অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার নজিরও আছে। আজ আমাদের বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে আমরা কতটা এগিয়েছি, কী ছিল আমাদের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা, পূরণ হয়েছে কতটা? কোথায় আমাদের ব্যর্থতা, কী এর কারণ? স্বাধীনতার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও তা হোঁচট খেয়েছে বারবার। বজায় থাকেনি এর ধারাবাহিকতা। ফলে আজও প্রাতিষ্ঠানিকতা পায়নি গণতন্ত্র। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, নারীর উন্নয়ন, শিশুমৃত্যুর হার কমানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে আমাদের। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে সব বিভেদ ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সেই ঐক্যের ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো আমরা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব—আশা করি।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►  এই জরিপ সঠিক আছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এসব সম্ভব হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বদরবারে। বাঙালি আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।

শেখ হারুনুর রশীদ

বাঘারপাড়া, যশোর।

 

►  সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে দেশ—আমি এই মতের পক্ষে। অতীতের কোনো সরকার এই অর্জন এনে দিতে পারেনি, বর্তমান সরকার পেরেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল ও রূপপুর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন ও সঠিক পথেই আছেন। তবে গ্রামভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এতে শহর ও গ্রামের মানুষের বৈষম্য কমে যাবে।

সাইদ শোভন

মালিবাগ, শান্তিবাগ, ঢাকা।

 

►  এ দেশে বাক্স্বাধীনতায় আছে বাধা, রাজনীতিকদের চেয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষমতা বেশি। অবশ্য দেশের ৯৮ শতাংশ রাজনীতিকই ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, গণতন্ত্রে সমস্যা থাকলেও অন্য যেকোনো সরকারের চেয়ে এটি ভালো। এটি ঠিক। অবশ্য এর আগে লাগাতার এত বছর কোনো দলই ক্ষমতায় ছিল না। বারবার দল পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে গণতন্ত্রসহ সব ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে; বর্তমানে সেসব হচ্ছে না। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে ধরে রাখা কষ্টের। দেশের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে, বেড়েছে মৌলিক চাহিদাগুলোও।

রহিমা আক্তার মৌ

তেজগাঁও, ঢাকা।

 

►  কয়েকটি প্রধান উন্নয়ন সূচকের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ২০১৭ সালে গড় আয়ু হয়েছে ৭২ বছর। ২০১১ সালে গড় আয়ু ছিল ৬৯ বছর। সাত বছর বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার মধ্যে শিক্ষার হার ৭২.৩ শতাংশ। চার বছর আগেও এ হার ছিল ৫৭.২ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৭.৮৬ শতাংশ; ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ৬.০৬ শতাংশ (বিবিএস ২০১৮)। দারিদ্র্যের হার ৩১.৫ (২০০৯) থেকে কমে ২১.৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এমডিজি-৪ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে।

ডা. ওয়াহিদুল ইসলাম 

উত্তরা, ঢাকা।

 

►  দেশে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার তাগিদ নেই। চলমান শিল্প-কারখানাগুলো নানা সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিশেষজ্ঞদের হাজারো প্রশ্নের সদুত্তর নেই। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নৈরাজ্য চলছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট এবং ডিজিটাইজেশনের প্রকৃত সেবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেন্দ্রেও সঠিকভাবে পৌঁছেনি, প্রান্ত বহুদূর। এসব খাতে গুরুত্ব দিতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

►  গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের সূচকের বিচারে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯০-এর পর সার্বিকভাবে অনেক এগিয়েছে। দারিদ্র্যের হার অনেক কমেছে। মেয়েদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার হার দ্রুত বেড়েছে; জনসংখ্যা, গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার, সক্ষম দম্পতিদের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের হার প্রভৃতি সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশ, এমনকি প্রতিবেশী ভারতকে পেছনে ফেলতে সমর্থ হয়েছে।

এ কে এম আলমগীর

ওআর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

►  জরিপ সঠিক আছে বলে আমি মনে করি। জাতির পিতার যোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। তাঁর হাত ধরে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে চলছেন। এগুলো তাঁকে জনপ্রিয় করেছে। তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের উন্নয়নে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরো এগিয়ে যাক।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

►  কিছু বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই হার্ডলাইনে যেতে হবে। তবেই দেশ আরো এগিয়ে যাবে। কৃষির কথা আজকাল মানুষ বলেই না। কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। কৃষিতে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ কামনা করছি। অজস্র ধর্ষণের মামলায় মাত্র পাঁচজনের বিচার হয়েছে। এমন খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। দ্রুত বিচার যেন হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ বাড়ায়। আইন করাই শেষ নয়। আইনের বাস্তবায়ন হয় কি না, সেটা দেখা দরকার। কিছু সামাজিক সমস্যা আছে বটে। তবে দেশের রাজনীতি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও নেই। এটা অবশ্যই সরকারের সফলতা। দেশ শান্ত থাকলে ব্যক্তি কর্তৃকও উন্নয়ন হয়। বিনিয়োগ বাড়ে। তবে সরকার দুর্নীতি, দলীয় লোকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ধর্ষণ, পরিবেশদূষণ বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেবে—সেটাই প্রত্যাশা করছি।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

►  বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে যোগ্য নেতৃত্বে আর লড়াকু জনগণের বিরামহীন শ্রমে। প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি, জনমানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, কমেছে শিশুমৃত্যু আর মাতৃমৃত্যুর হার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। বহুমুখী উন্নয়নে দেশের অগ্রযাত্রা আজ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আগামী পরিকল্পনায় গ্রাম, শহরসহ বহুমুখী পরিকল্পনায় দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে, নির্দ্বিধায়-নিঃসংকোচে বলা যায়। দেশ পরিচালনায় সব কিছু যে সঠিক হবে, ষোলো আনা পূর্ণ হবে, তা নয়। কিন্তু দেশ চারদিক লক্ষ রেখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রেখে চলেছে এবং ধীরে ধীরে গণতন্ত্র আর আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে সচেষ্ট। বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে, এটা সত্য।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►  আমরা অনেক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আইআরআইয়ের বক্তব্য ঠিক। আবার অনিয়ম-দুর্নীতিতেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। অনিয়ম-দুর্নীতি যদি দূর করতে পারি, আইনের শাসন যদি কায়েম করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারব। বর্তমান রাষ্ট্রনায়ককে ধন্যবাদ। নিজ আঙিনা শুদ্ধি করার অভিযান যেন থমকে না যায়।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►  রেল পরিবহন এখন পেছনে পড়ে আছে। রেলের পাহাড়তলী, সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর কারখানাগুলো নীতিনির্ধারণী লেভেলে সিদ্ধান্তের অভাবে উত্পাদনে যেতে পারেনি। দেশে রেলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশ রপ্তানি করার মতো এত বড় কারখানা থাকা সত্ত্বেও আমদানি বাণিজ্যের লোভে সরকারকে উত্পাদনমুখী পরামর্শ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না বলে মনে হয়। আমাদের কারিগরি লোকবল আছে এবং এই কারখানাগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে যাত্রী কোচ উত্পাদন করা সহজ, যা বিদেশে রপ্তানিও সম্ভব হবে। রেলযোগাযোগের উন্নতি আরো বেশি প্রত্যাশিত ছিল। চিকিৎসা খাত এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি আত্মকলহ ও ডাইনামিক লিডারশিপের অভাবের কারণে। সামাজিক অবক্ষয় থামানো যায়নি। 

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে এবং দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা খুব আশার কথা। এখন কিছু বিষয়ে জোর দিতে হবে। মাদক, আইনের শাসন, দুর্নীতি ও শিক্ষায় নজর দিতে হবে। পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল ও রূপপুর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশ এগিয়ে যাবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►  শুধু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা নয়, আমরা আশাবাদী বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সঠিকভাবে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারে। কোন দেশে কোন পণ্যের বাজার বেশি, সেটা জেনে-বুঝে সে দেশের চাহিদামতো পণ্য রপ্তানি করা উচিত। আর এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে রাষ্ট্রদূতদের। এর ওপর নির্ভরতার ভিত্তিতেই নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি কাজ করছে বিভিন্ন দেশে অথচ তারা ভীষণভাবে প্রতারিত হয়। আলোচনা করে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►  প্রধানমন্ত্রীর একক প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়াটা সম্ভব হয়েছে বলে আমি মনে করি। দেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করি। তবে সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো শুদ্ধ করতে হবে। তাহলে এগিয়ে যাওয়াটা বাড়বে।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►  সঠিক পথেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, সত্য। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনগণের জীবনমান, রেকর্ড রেমিট্যান্স অর্জন, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান বিবেচনা করলে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলছে বলেই মনে হয়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তি-সম্প্রীতির ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এই প্রত্যাশা।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►  একসময় আমেরিকার কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি। সেই দেশ এখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রয়েছে। সবাই শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছে। দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে। মেয়েদের কর্মসংস্থান হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এগোনোর জন্য আরো সুন্দর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►  বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মানবিক মূল্যবোধের অবনতি ঘটছে প্রতিনিয়ত। নিরাপত্তা সূচকে অনেক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ; গণতন্ত্র সূচকেও অবনতি ঘটেছে।

ফকির আবদুল্লাহ

মতিঝিল, ঢাকা।

 

►  বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নত হচ্ছে দেশ ও দেশের অর্থনীতি। তবে দেশের কৃষকদের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। কৃষিবিদ, কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন করা জরুরি। দেশের আমদানি, রপ্তানি সুষুম ও দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে করা জরুরি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও এখনো দেশের রাস্তায় পথশিশু দেখা যায়। শিশুরা দেশের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। তাদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে দিতে সরকার ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের ভাবতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে, এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে।

ইমরান হাসান

শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা।

 

►  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রা যথেষ্ট এগিয়েছে বলতেই হয়। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রায় শেষের দিকে। এটি আমাদের জন্য গৌরবের। বাংলাদেশ যেভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, এতে ধারণা করা হচ্ছে ২০৪১ সালের ভেতর উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। শিক্ষা, শিশুশিক্ষা, নারীশিক্ষা, খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এসব ধরে রাখতে রাজনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশ হোক বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ একটি দেশ।

সিরাজুল মুস্তফা

চট্টগ্রাম।

 

►  বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার খবরে আনন্দ লাভ করি। কিন্তু দুর্নীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। সরকারের প্রতিটি বিভাগ ঘুষের মহামারিতে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী মানসম্মত  স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা এবং ন্যায়বিচার থেকে অনেক দূরে। বায়ুদূষণে দেশের রাজধানী নাম্বার ওয়ান। ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, হত্যা, স্বেচ্ছাচারিতা সংবাদমাধ্যমের নিত্যদিনের শিরোনাম। তাই ‘সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ’—এ কথা বলা যথার্থ মনে করি না।

মো. উবায়দুল হক সিয়াম

জামিয়া আম্বরশাহ, ঢাকা।

 

►  আইআরআই বলছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ কি বাস্তবে দেখতে পাচ্ছে? দিন যতই যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে চলেছে। এ কারণে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমছে না, বরং বেড়ে চলেছে। সব কিছুর দাম আজ নাগালের বাইরে চলে গেছে; কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। দখলবাজি, নোংরা আবর্জনার স্তূপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ, মশার উপদ্রব বাড়ছেই। বোধ হয় এসব দিক দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বছরের পর বছর ধরে যানজটে জনগণ অতিষ্ঠ। এসব নিয়ে ভাবতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

 

►  বর্তমান বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির দেশ; মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে পা রেখেছে। জীবনমান, শিক্ষা, গড় আয়ু, ব্যবসা-বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, শান্তি মিশনে সদস্য পাঠানো প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে। নির্দ্বিধায় বলা যায়, আইআরআইয়ের জরিপ সঠিক।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

►  বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, বাংলাদেশ এগিয়ে চলবে। ভবিষ্যতেও তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। সিটি নির্বাচন সুন্দরভাবে হলে গণতন্ত্রও অগ্রসরমাণ হবে।

রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা