kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মানবাধিকারের পক্ষে রায় হোক

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আধুনিক সভ্যজগতে শুধু ধর্মীয় কারণে একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য যে অমানবিক অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায় মিয়ানমারের কাছে অসহায়। কারণ জাতিসংঘের আদেশ, নির্দেশ এবং বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের আহ্বান সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের অমানবিক অবস্থানে অটল রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ আশ্রয়প্রার্থীকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো কার্যকর পদক্ষেপই তারা নিচ্ছে না। এমন একটি অসভ্য ও অমানবিক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বর্তমান বিশ্বে কল্পনাই করা যায় না। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, কিছু শক্তিশালী রাষ্ট্র মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও গণহত্যাকে সমর্থন করে মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। অবশেষে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে গাম্বিয়া আবেদন জানিয়েছে। এই আদালতে দাঁড়িয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জের মতো মিথ্যাচার করছে। রাষ্ট্রীয় মদদে একটি দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা করা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ করা, লাখ লাখ মানুষকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি অপরাধ কখনো ওই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না। তাদের দেশের প্রায় ১১ লাখ নাগরিককে তাড়িয়ে অন্য দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কখনো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না। এসব অপরাধ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। কাজেই আন্তর্জাতিক আদালতেই মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিচার হতে হবে। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত ব্যর্থ হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করবে। মানবাধিকারের প্রতি বিশ্বাসী বিশ্বের প্রতিটি দেশের উচিত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা