kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গণহত্যার দায় স্বীকার করুক মিয়ানমার

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



গণহত্যার দায় স্বীকার করুক মিয়ানমার

শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক কোনো আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াল মিয়ানমার। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি হয়েছে। এখন রায়ের অপেক্ষা। গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বারবার বলেছেন, ‘স্টপ জেনোসাইড’। আন্তর্জাতিক আদালতে দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান হোক। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

❏  এর আগে অত্যাচারিত হয়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিল। তাদের কিছু দেশে ফিরেছিল। ২০১৭ সালে আরো প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়। বিশেষ অর্থনৈতিক জোন করার জন্য রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হয়েছে। তাদের বাড়িঘর, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এ দৃশ্য অবলোকন করেছে। পরে দ্বিপক্ষীয় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হয়নি। এ অবস্থায় গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি নেদারল্যান্ডসের হেগের আদালতে যান। তিনি তাঁর সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গান। এ মামলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে। সু চি সত্য বললে হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারতেন। তিনি যা-ই বলুন তাঁর অজান্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি চাপে রয়েছেন—এটাই বাংলাদেশের কৌশলগত লাভ।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

❏  রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে যেন ফিরে যেতে পারে এবং যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতে, সেটা যেন দ্রুত কার্যকর উপায়ে শেষ হয়, সেই দাবি জানাই।

মো. রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

 

❏  মিয়ানমার দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা হটানোর পরিকল্পিত জেনোসাইডের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে শুরু হওয়াটা খুবই ইতিবাচক। মিয়ানমার শাসক আর্মি ও নোবেলজয়ী সু চিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ডিফেন্স দিচ্ছে বলে মনে করি। বাই জেনারেশন এরা ছিল দস্যু মানবতাবর্জিত। অন্যদিকে আমরা বাঙালি জন্মগতভাবে মানবতাবাদী হয়ে শত দুঃখ-কষ্ট ভুলে রোহিঙ্গাদের মানবতার প্রশ্নে আপসহীন হয়ে আশ্রয় দিয়েছি। যদিও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের রাস্তা অমসৃণ ও জটিল, তবু আমাদের সরকার প্রত্যক্ষ বিবাদ এড়িয়ে সুকৌশলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের আসামির কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়ার সফলতা অর্জন করতে পেরেছে, এটা খুব আশার কথা। বিষয়টি জটিল আমাদের একার পক্ষে সামলানো। তাই বিশ্ববাসীর আদালতে এর দায়দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সফল পদক্ষেপরূপে বিষয়টিকে দেখি। অপরিণত নোবেলজয়ী সু চিকে মিয়ানমার যে কৌশলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইস্যুটিকে মোকাবেলা করতে চেষ্টা করছে তা সফল হবে না। তবু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে এই বিচার বিবেচিত হয়। মিয়ানমারকে আমাদের সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মানবতার আদালতে আসামির কাঠগড়ায় বিচারের সম্মুখীন করছে বলে আমার কাছে বিবেচিত হয়। এটা মানবতার প্রাথমিক বিজয়।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

❏  শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার শুরু হয়েছে, এটা খুব ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার বসেছে, অনেক দেশই গাম্বিয়াকে সহযোগিতা করছে। এতে আমরা খুশি। আমরা চাই, রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত নিজ দেশে অধিকার নিয়ে ফিরে যেতে পারে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

❏  আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জেনোসাইডে যেসব সেনা কর্মকর্তা, জড়িত তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হবে। আর বাংলাদেশের সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে হবে। তাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, অবাধ স্বাধীনতা, নিরাপত্তা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মহানগর, রংপুর।

 

❏  কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা চালিয়ে আসছে মিয়ানমার। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপকর্ম অবলীলায় করেও তারা ক্ষান্ত হচ্ছে না। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ এসব অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করছে। বিশ্ববিবেক আজ নীরব। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ নানা পশ্চিমা দেশ আজ মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন করেছে। রোহিঙ্গা নির্যাতন ঘটনার সূত্রপাতেই যদি বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও জোট একত্র হয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করত, তবে এত নির্মম গণহত্যার ঘটনা রাখাইনে ঘটত না। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো মানবতার, মানবাধিকার, প্রভৃতি নীতিবাক্য কথা মুখে উচ্চারণ করে বটে; কিন্তু বাস্তবে তাদের কর্মে এর প্রতিফলন নেই। কী দরকার ছিল ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমারে পক্ষ অবলম্বন করা? এরই নাম কি মানবতা? ন্যায়বিচার? দেরিতে হলেও মিয়ানমারকে গাম্বিয়া আইসিজের কাঠগড়ায় উঠাতে সমর্থ হয়েছে। গাম্বিয়াকে অনুসরণ করে জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রকে এতে সমর্থন দান করতে হবে। আইসিজেতে মিয়ানমারের গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হোক। অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সে দেশে পাঠানোর আগে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, জাতীয়তা, ভূমি মালিকানা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

❏  মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর শুধু নির্যাতন চালায়নি, তাদের উচ্ছেদ করেনি—তারা যেটা করেছে সেটা সুস্পষ্ট গণহত্যা। এই যুগে এভাবে একটা গোষ্ঠীকে হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা অবশ্যই জঘন্য অপরাধ। পরিতাপের বিষয়, মিডিয়ার কল্যাণে সারা বিশ্ব এই নিমর্ম হত্যাকাণ্ড দেখল; কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না। পরাশক্তি চীন, ভারত এ বিষয়ে ‘ধরি মাছ নাই ছুঁই পানি’ অবস্থানে আছে। অথচ বাংলাদেশের সঙ্গে এই দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো। মিয়ানমারের শান্তিতে নোবেল পাওয়া নেত্রী অশান্তির যে বীজ বপন করেছে, তার ফল বহু বছর ধরে থাকবে; যত দিন না রোহিঙ্গারা শান্তিতে মিয়ানমারে বসবাস করতে পারে। দেশ থেকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া না হয়। সু চি নোবেল পুরস্কারকেও কলঙ্কিত করেছেন। তাঁরও বিচার হওয়া উচিত। বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গারা হলো বোঝা। সাময়িক আশ্রয় চিরস্থায়ী আশ্রয়ে পরিণত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ামারের উপযুক্ত বিচার হোক।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

❏  রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন; আরো বেশি ভাবনার কারণ মিয়ানমারের আচরণ ও বক্তব্য। একটি রাষ্ট্র তাদের জনগোষ্ঠীকে যেভাবে হেয় করেছে এবং গণহত্যা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে—এটা গোটা মানবজাতির জন্যই লজ্জার বিষয়। কিন্তু অং সান সু চি বক্তব্য দিচ্ছেন তাঁর সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক আদালত যে রায় দেবেন তা রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার ব্যাপারে সহায়ক হবে কি না বড় প্রশ্ন। আইন মানা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগের ব্যাপারে এ বিচার গ্রহণযোগ্য হয়ে না উঠলে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। সঠিক সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে সরকারের যোগাযোগ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। মিয়ানমার বড় অপরাধী, তাদের অস্বীকার আরো বেশি অপরাধের। বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকুক।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

❏  আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচারের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে। যদিও মিথ্যার রানি সু চি বলেছেন, রাখাইনে রক্তপাত হলেও গণহত্যা হয়নি। হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি চলছে। শুনানির প্রথমার্ধে গাম্বিয়া যুক্তি খণ্ডন করেছে। গাম্বিয়ার আইনজীবী রাইখলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য ফ্রড বলে অভিহিত করেন। আদালতের আইনজীবী ওকোয়া প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ এবং চীন, জাপান ও ভারতের সহায়তার বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওই দেশগুলো প্রত্যাবাসন চায়, কিন্তু প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের। জাতিসংঘের ফ্যাক ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তে মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল অংহ্লাংসহ শীর্ষ ছয় সেনা কর্মকর্তা গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত। তাঁদের ফৌজদারি অপরাধের দায়ে বিচারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে বিচারের ভার তুলে দেওয়া যায় না। মিয়ানমার যে ধরনের কঠিন, বর্বরোচিত, অমানবিক, পাষণ্ড ও নির্দয় অত্যাচার ও হত্যা চালিয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে নতুনভাবে স্থান পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ও মিয়ানমার সরকারের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

❏  আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু হয়েছে, এখনই মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে বিচার যে শুরু হয়েছে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাবে এবং মিয়ানমার সরকার ও তার বাহিনীর বিচার হবে—এটাই আশা করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

❏  আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচারের পর্ব শুরু হয়েছে, এটা খুবই ভালো বিষয়। আজ বিশ্ববিবেক সোচ্চার হয়েছে। মিয়ানমারের মতো খুন ও ধ্বংসযজ্ঞ আর কোথাও যেন না ঘটে, সেটা আশা করি। আর রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে দ্রুত ফিরতে পারে।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

❏  মিয়ানমারের সরকার ও কর্তাদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে পারে—এটাই আশা করি।

মো. আবুবকর সিদ্দিক

ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

 

❏  শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো মিয়ানমারকে। ভাবতে ভালো লাগছে, এখনো বিচার চাওয়ার জায়গা আছে। মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণ জানতে পারল নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক আদালত আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিচার শুরু হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের উপদেষ্টা সু চি যেভাবে তাঁর বাহিনী দিয়ে নিরপরাধ রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার করেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে একটা জঘন্য অপরাধ বিবেচিত হয়েছে। এখন গা বাঁচাতে তিনি সব অস্বীকার করছেন। তাঁর এবং তাঁর বাহিনীর শাস্তি হওয়া উচিত। আইন সবার জন্য সমান। আমরা সুবিচারের আশায় আছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ভূমিকা পালন করে দেখার জন্য সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

❏  গাম্বিয়াকে অভিনন্দন, মিয়ানমারের মতো একটি যুদ্ধাপরাধী দেশকে গণহত্যার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করানোর জন্য। গণহত্যার ব্যাপারে মিথ্যাচারী মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একঘরে করুক—এ আশা করি।

ম. মুমিনুর রহমান

শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।

 

❏  হিটলারের কায়দায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে মিয়ানমার। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির অধঃপতন বেদনাদায়ক। রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চেয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়ছেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী, এটি প্রশংসার দাবিদার। বাঁচার অধিকার সবার রয়েছে, রোহিঙ্গাদেরও রয়েছে। জাতিসংঘের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন-প্রত্যাবাসনে সহায়তা করা সব মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

❏  সন্ত্রাসের অজুহাতে নিরীহ মানুষ হত্যা, শিশুহত্যা, শিশুকে আছড়ে মারা, নারী ধর্ষণ কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গণতন্ত্রের ধারক-বাহক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত অং সান সু চি আন্তর্জাতিক আদালতে বলেছেন, জাতিগত সংঘাত নয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে যেতে বাধ্য হয়েছে। এভাবেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি, যা তাঁর কাছ থেকে আশা করা যায় না। মিয়ানমারের অভিযান যে জঙ্গিবিরোধী ছিল এমন প্রমাণ আন্তর্জাতিক আদালতে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন বাংলাদেশের পক্ষেই আছে। আন্তর্জাতিক আদালতে যুক্তিখণ্ডন শেষ করছে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার। মিয়ানমারের আইনজীবীর দ্বিচারিতার কথা তুলে ধরেছে গাম্বিয়া। দেশটি বলেছে, মিয়ানমারের বক্তব্য প্রতারণামূলক। মিয়ানমার যেন গণহত্যার আলামত নষ্ট করতে না পারে, এ ব্যাপারেও নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, মিয়ানমারের অত্যাচরের যে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে তাতে মিয়ানমারের অপরাধ শাস্তিযোগ্য বলেই গণ্য হবে বলে আশা করা যায়।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

❏  অবশেষে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার শুরু হয়েছে, এটা খুবই ভালো খবর। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সরকারের প্রচেষ্টা অনেক দূর এগিয়েছে। গাম্বিয়া যে আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেছে, সে জন্য তাদের শুভ কামনা জানাই।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

❏  রোহিঙ্গার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালতে উঠেছে, এতে আমরা খুশি। এই বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং এমন ঘটনা যেন পৃথিবীতে আর না ঘটে; রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে অতি শিগগহির—এই আশা করি।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

❏  রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বর্বর অত্যাচারের জন্য মিয়ানমারকে বিচারের সম্মুখীন করা বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি; গাম্বিয়া তাদের বিচারের সম্মুখীন করে মানবতা ও সাহসিকতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মিয়ানমারের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উচিত গাম্বিয়ার পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। বাংলাদেশেরও উচিত রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার চিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের জন্য অং সান সু চিরও শাস্তি হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক আদালত রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, ভূমির মালিকানা, চলাচলের অধিকার এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন ও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করি।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা