kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দোষীদের শাস্তি জরুরি

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবেশদূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং ঢাকার বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এর ফলে আমাদের গর্বের ঢাকা শহর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরে বসবাসকারীদের মধ্যে শিশুরা মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাতাসে ভেসে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোও তীব্র বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে। এই বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহন, ইটভাটা ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, বাসাবাড়িতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ইত্যাদি। আর অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানবাহন, ইটভাটা ও কলকারখানার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। কাজেই ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে পরিবেশদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই জনসংখ্যার চাপ কমাতে হবে এবং একই সঙ্গে শহরে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যানবাহনগুলোকে দুই ধরনের রং দিয়ে চিহ্নিত করে এক দিন পর পর রাস্তায় চলাচলের সুযোগ দিলে খুব সহজেই যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত ইটভাটা এবং কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস সৃষ্টিকারী জ্বালানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাসহ বড় বড় শহর থেকে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো শহরের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। শহরমুখী জনস্রোত কমাতে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আর পরিবেশ দূষণরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যেসব ইটভাটা, কলকারখানা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি পরিবেশদূষণের জন্য দায়ী তাদের সতর্ক করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনের আওতায় এনে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। আশা করি সরকার পরিবেশদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা