kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবার সমন্বিত চেষ্টায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সবার সমন্বিত চেষ্টায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব

দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার একটি বাংলাদেশ। ঢাকায় বসবাসরত মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ বায়ুদূষণজনিত রোগে ভুগছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে একজন মানুষ ২২ মাস আগে মারা যান। পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে ব্যক্তিকেও। সবার সমন্বিত চেষ্টায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►    তিনটি পর্যায়ে আমাদের কাজ করলে বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর উন্নয়ন হবে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশসম্মত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সর্বশেষটি হলো, পরিবেশ শিক্ষায় অধিকতর মনোযোগী হওয়া। বায়ুদূষণ রোধে অনেকে বলে থাকে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের বদলে পাবলিক গাড়ি ব্যবহার করতে হবে, আর এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা। কথাটি সত্য এবং আমাদের করণীয় তথাস্তু। শহরে কয়টি পার্ক আছে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে ব্যায়াম করার জন্য যেতে পারে? দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু রাষ্ট্র বা সরকার নয়, প্রত্যেক মানুষের ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

লিপি রহমান

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►    পরিবেশ কতটা দূষিত হয়ে আছে, তা দেখতে হলে রাজধানী ঢাকার আশপাশে যেতে হবে না, সারা দেশের জলবায়ু আজ ভয়াবহ বিপজ্জনক। পরিবেশের জন্য জলবায়ুও দূষিত। যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো ইটভাটার ধোঁয়া আর রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চারপাশের ধুলায় জনজীবন অতিষ্ঠ। জনসচেতনতা জরুরি।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►    জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে; পাশাপাশি ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সুনামি, ভূমিকম্পের ফলে অনেক প্রাণহানি ঘটছে বিশ্বজুড়ে। আমাদের দেশেও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী থেকে অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর উঁচু অঞ্চলের বরফ গলা বাড়বে আর বরফ গলা বাড়লে বাংলাদেশই আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অস্তিত্ব রক্ষার্থে পরিবেশদূষণ রোধ করতে হবে। পরিবেশদূষণ কমানোর জন্য বেশি বেশি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করুন। কীটনাশক সার ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

স্কুলপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►    এখনই যে বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে তা হচ্ছে—বেশি করে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। একটি গাছ কর্তনের আগে তিনটি গাছ লাগাতে হবে। ইটভাটা, কলকারখানা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধ করতে হবে। জমিতে কীটনাশকের পরিবর্তে জৈবপ্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। উন্নত দেশগুলোর পারমাণবিক পরীক্ষা ও অস্ত্র মজুদ নিষিদ্ধ করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, বসতি গড়ে তুলতে হবে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার হ্রাস করতে হবে। জলাশয়, নদী, সাগর দূষণমুক্ত রাখতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় জনসচেতনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর। 

 

►    পরিবেশদূষণ বন্ধে প্রয়োজন জনগণ ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সুস্থ, সুন্দর জীবনের জন্য পরিবেশদূষণ রোধ করা অত্যাবশ্যক। সংবাদপত্র ও প্রচারমাধ্যমের সহায়তায় পরিবেশদূষণের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে সারা বছর জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। বৃক্ষনিধনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণে উৎসাহী করা অত্যন্ত জরুরি।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    যত্রতত্র মার্কেট, বস্তি, আবাসস্থল, কলকারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাবলিক প্লেসগুলোতে স্যানিটেশন সুবিধা না থাকা, থাকলেও ব্যবহারে অনীহা, বাস ও ট্রেন স্টেশনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখা, নগর ও আন্ত নগর বাস স্টেশনগুলো গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার করা, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে ও সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা, অপরিকল্পিত উপায়ে ব্যস্ততম সড়ক-মহাসড়কে খোঁড়াখুঁড়ি, সিটি করপোরেশন-মিউনিসিপ্যালিটি ও ইউনিয়ন কাউন্সিলগুলো কর্তৃক সময়মতো বর্জ্য পরিষ্কার না করা, গুরুত্বপূর্ণ খাল-বিল ভরাট করা, নদ-নদী দখল ও নাব্যতা বিনষ্ট করা, অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন ও বনাঞ্চল উজাড় করা, কলকারখানা ইন্সপেক্টরদের দায়িত্ব পালন না করা—এগুলো রোধ করতে হবে।          

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

মাইশা ডিঅ্যান্ডএফ হাউস, ঢাকা।

 

►    পরিবেশদূষণ সমস্যা নিরসনে পরিবেশবান্ধব হতে হবে। যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনা ফেলা, মলমূত্র ত্যাগ, কলকারখানার কালো ধোঁয়া, যেখানে-সেখানে ইটভাটা স্থাপন ইত্যাদি কারণে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশদূষণ থেকে ধরিত্রীকে বাঁচাতে হলে আমাদের পরিবেশবান্ধব হতে হবে। পরিবেশের প্রতি অসীম দরদই পারে পরিবেশদূষণ রোধ করতে।

ম. মুমিনুর রহমান

শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।

 

 

►    পরিবেশদূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার, প্রশাসন ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে পরিবেশদূষণ রোধে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি যাতে না হয়, সেভাবে সবাইকে অগ্রসর হতে হবে। পরিবেশ ধ্বংস করে এমন দ্রব্য যেমন—পলিথিনের ব্যবহার কমানোর কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয় যাতে না হয়, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। শিল্প-কারখানা তৈরির সময় পরিবেশ দূষণ হবে কি না তা ভাবতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পানিসম্পদ রক্ষার জন্য নদ-নদীর পানিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আমাদের বিশাল সমুদ্রের পরিবেশ নষ্ট হয়ে মৎস্য সম্পদের ক্ষতি যাতে না হয়, তার জন্য কর্মপন্থা এখনই গ্রহণ করতে হবে। পুকুর, বিল, হাওর, হ্রদ ও দিঘির পানির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাহাড়-পর্বতের ক্ষয়রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে হবে।

এইচ কে নাথ

আকবরশাহ, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►    প্রকৃতির অকৃত্রিম দান রক্ষা করতে আমরা অক্ষমতার পরিচয় দিই। গণপরিবহনের কালো ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে। দূষণের প্রতিকারের জন্য সবুজ বনানী ধ্বংস না করে রক্ষা করা উচিত। রাজধানীর কথা ধরা যাক, ঢাকার মানববর্জ্য বুড়িগঙ্গায় পতিত হওয়ার ফলে নদীর পানি দূষিত হয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ওয়াসা কী করেছে? তারা কি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে? অবহেলা, অজ্ঞতা, দায় এড়িয়ে চলা, দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা পরিবেশদূষণের মূল কারণ। গণপরিবহন মানুষের প্রয়োজন ঠিক, কিন্তু কালো ধোঁয়া কেন নির্গত হবে? এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন? বুড়িগঙ্গার পানিতে মানববর্জ্য না ফেলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ওয়াসা যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছে মানববর্জ্য ফেলে বুড়িগঙ্গাকে দূষিত করার জন্য। কবে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা নেবে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে?

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    পরিবেশ প্রকৃতির অপূর্ব দান। এই পরিবেশ বিনষ্ট করতে মানুষই শতভাগ দায়ী। এখন গ্রাম-শহর-নগর সব জায়গার পরিবেশই ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও কোথাও পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য। পাহাড়-পর্বত দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। সার্বিক ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবেশ। ইটভাটা, ফসলে কীটনাশক ব্যবহার—এগুলো পরিবেশ দূষণ করছে। শহরের নির্মাণকাজ নিরাপদ করতে হবে। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। গ্রিনহাউস সৃষ্টিতে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►    শহরে বায়ুদূষণের প্রধান দুটি উপাদান হলো শিল্প-কারখানা ও যানবাহন। বায়ুদূষণের উপাদানগুলো মূলত ধূলিকণা, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রো কার্বন, কার্বন মনো-অক্সাইড, সিসা ও অ্যামোনিয়া। অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা স্থাপনে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ ক্রমাগত বাড়ছে। বেশির ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে, বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ও স্নায়ুবিক ক্ষতি হতে পারে এবং গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ও মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিবেশদূষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। জাতীয়ভাবে পরিবেশ রক্ষার জন্য এবং পানি সুরক্ষার জন্য সবার এগিয়ে আসা ও সচেতন হওয়া উচিত।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

►    পরিবেশদূষণ বন্ধে প্রকৃতি ও মানুষের তৈরি এবং জাগতিক পরিবেশের অভিপ্রেত সাম্যাবস্থা বজায় রাখা অবশ্যই আমাদের সবার প্রয়োজন। পরিবেশদূষণ বন্ধে নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস রোধ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করাসহ যেসব যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, সেসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। কলকারখানার দূষিত পদার্থ শোধন করে নেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট এলাকায় যাতে দূষণের প্রভাব ঘনীভূত না হয়, তার জন্য দূষকগুলোকে আরো বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। দূষণ প্রতিরোধী উদ্ভিদের সংখ্যা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। সমুদ্রদূষণের প্রতিকারে উপদ্বীপ ও উপকূল অঞ্চলে সমুদ্রদূষণের পরিমাণ পরিমাপ করা দরকার। ইলেকট্রিক বা হাইড্রোলিক হর্ন ও মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

►    শব্দদূষণ কমানোর জন্য শব্দ নিরোধক যন্ত্রের ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের প্রয়োগ বেশি করে এবং কীটনাশকের পরিমাণ কমিয়ে মৃত্তিকাদূষণ রোধ সম্ভব। যানবাহনে পেট্রল বা ডিজেল পোড়ানোর পরিবর্তে ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারলে দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পরিবেশদূষণ গুরুতর সমস্যা। বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক বা প্রযুক্তিবিজ্ঞান যতই উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যাক, মানুষের সভ্যতা যদি মানুষের হাতেই বিনাশ হয় তাহলে কী লাভ?

আহসানুল করিম

ইপিজেড, চট্টগ্রাম।

 

►    অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। শব্দদূষণের কারণে ব্লাড প্রেসার, শ্বাসের সমস্যা, এমনকি হজমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে। দূষণ বাড়তে থাকলে মানুষের অসুখবিসুখ বেড়েই চলবে। দূষণ এড়ানোর জন্য শুধু সরকার বা কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আগে পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে নিজেদের সচেতন হতে হবে। সচেতন মানুষই পারে দূষণ রোধ করতে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

►    পরিবেশদূষণ রোধে যা যা করা যেতে পারে—বনায়নের লক্ষ্যে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। ময়লা ও আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। কালো ধোঁয়া ছাড়ে এমন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশদূষণ রোধে সব ধরনের মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    অবৈধ ইটভাটার বিস্তার বন্ধ করতে হবে। কয়লা ব্যবহার না করে যারা কাঠ ব্যবহার করে গাছপালা উজাড় করে দিচ্ছে—এমন ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লক্কড়ঝক্কড় বাস-নসিমন-করিমনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

►    আজকের দূষিত পরিবেশের জন্য দায়ী—১. সরকার, ২. পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ৩. জনসাধারণ; আমিও যার অংশ। সরকার ও জনসাধারণ পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ, যার ফলে আজ পরিবেশ এত বিশ্রী। সরকারকে অবশ্যই সক্রিয় হতে হবে, তবে সবচেয়ে বড় উপায় সচেতনতা সৃষ্টি করা।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►    পরিবেশদূষণ বন্ধের জন্য—১. পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, ২. পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা কমাতে হবে এবং ৩. শিল্প-কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য পরিশোধন করার ব্যবস্থা করতে হবে। জাতিকে বাঁচাতে হলে পরিবেশদূষণ অবশ্যই থামাতে হবে। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। পরিবেশবিষয়ক আইন কার্যকর করুন।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►    পরিবেশদূষণ রোধে প্রথমে জনসচেতনতা জরুরি। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবেশদূষণ রোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►    উন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ ঘটিয়ে বিশ্বকেই দূষিত করছে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের মতো দেশগুলো। দূষণের অভ্যন্তরীণ কারণও রয়েছে। বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য থেকে পরিবেশদূষণ ঘটছে। শুধু শিল্প-কারখানা নয়, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার কারণে গ্রাম-শহর দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সেসব উদ্যোগে জনসাধারণকে সহযোগিতা করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে সক্রিয় হতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    পরিবেশদূষণ যেন নিত্যজীবনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ঢাকাকে ব্যবহার করে সবাই নিজেদের আখের গোছাতে চায়, কিন্তু শহরটির বাসযোগ্যতার কথা কেউ ভাবে না। শিল্প-কারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও মানব বর্জ্যের দূষণে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি কালো কুচকুচে হয়ে গেছে। তাই নদী-খাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। শহরটিকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করে গড়ে তোলার দায় সবার।

সাধন সরকার

নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা।

 

►    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেকোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

►    পরিবেশদূষণ রোধে সামাজিকভাবে সচেতনতার চর্চা বাড়াতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা