kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সড়ক ও ভোক্তা অধিকার আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সড়ক ও ভোক্তা অধিকার আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

বেশ কিছুদিন থেকেই পেঁয়াজের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। লবণের দাম বাড়ছে এমন গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট। সব কিছুই যেন একসূত্রে গাঁথা। মনে হয়েছে একটি গভীর চক্রান্ত ছিল। এই চক্রান্তের নেপথ্যে কারা, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আইনের যথার্থ প্রয়োগই এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে পারে। ই-মেইল, টেলিফোন ও ফেসবুকে কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►    গুজব অর্থ অসত্যকে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা। গুজব একটা অপপ্রচার, প্রচারযোগ্য নয়। পরিবহন ধর্মঘট অস্থিরতা সৃষ্টির ইঙ্গিত। গুজব ছড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এ প্রযুক্তি যেমন কাজে লাগে, তেমন অকাজেও লাগে। যেমন—সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার নামে গোলবাধানো হয়। গুজব ছড়িয়ে একের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হয়, সত্যকে আড়াল করা হয়। এসবের কারণে পেঁয়াজ, লবণ ও চালের দামে লম্ফবৃদ্ধি ঘটানো হয়। সরকার মালিক-শ্রমিক-জনতার সঙ্গে কথা বলে নতুন পরিবহন আইন করেছে। সাধারণের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু পরিবহন নেতারা ধর্মঘটের উসকানি দেন। তাঁদের ধরতে হবে। আমরা যদি না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা সরকার, পরিবহন কাউকে ছাড়বে না—জবাবদিহি করাবে। তথ্য-প্রযুক্তি ঠিকমতো কাজে লাগাতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►    সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচার রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, চিল নিয়েছে কান—এমন গুজব শুনেই দৌড়ানো যাবে না। কানে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কান আছে কি না। কোনোভাবেই গুজবে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। পরিবহন খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করতেই আইন করা হয়েছে। এখন তা বন্ধে ধর্মঘট চলছে। এর সমাধানে সরকারকে তৎপর হতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    দেশে এখন একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন খাতে কমবেশি উন্নতি হচ্ছে। এই অবস্থায় ভোগ্যপণ্য লবণ নিয়ে গুজব। সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার। অহেতুক পরিবহন ধর্মঘট। সরকারকে বিপদে ফেলার ভুল চেষ্টা। সুবিধাবাদীদের এমন সব কর্মে সাধারণ আমজনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশ-বিদেশে দেশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছয় লাখ টন লবণ মজুদ আছে। দেশে মাসিক চাহিদা এক লাখ টন। সে কারণে লবণের গুজব রটানো কাঁচা হাতের কাজ; অর্বাচীন, নির্বোধ মানুষের কাজ। যারা এসব অপরাধমূলক কাজ করে বেড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। ফেসবুকে কে বা কারা লবণের গুজব রটাল? দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের এখনো আটক করা যায়নি। এ ধরনের ব্যর্থতা খোদ সরকারকে যেমন বিপদে ফেলবে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ফেলতে পারে। যখন আইন করা হলো, পরিবহন মালিকরা কোথায় ছিল? তখন প্রতিবাদ না করে এখন হুট করে ধর্মঘট ডেকে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? সরকার যদি পরিবহন মালিকদের দাবি মেনে নেয় তাহলে আর যাত্রীদের নিরাপত্তার কিছু থাকবে না। দুর্ঘটনা কমবে না, বরং পরিবহন মালিকদের কাগজপত্র ঠিক করার জন্য সময় দেওয়া হোক। গুজবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরে নয়, আগেই ব্যবস্থা চাই।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

►    যারা গুজব ছড়ায়, তারা কেন এবং কাদের নির্দেশে তা করে—খুঁজে বের করতে হবে। কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►    অপপ্রচার ও গুজব থেকে বাঁচতে প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। এরই মধ্যে লবণের গুজবের ক্ষেত্রে প্রশাসন তা করে দেখিয়েছে। গুজব প্রচারকারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি জামিন অযোগ্য শাস্তি ও অর্থদণ্ডের আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন আমাদের অধিক সচেতনতা। সমাজের সব শ্রেণির উচিত যেকোনো ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্যসহকারে যাচাই-বাছাই করার পর নিজের মতামত প্রকাশ ও পদক্ষেপ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা এবং মিথ্যা তথ্য পরিহার করা জরুরি। সড়ক পরিবহন আইন সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। পরিবহন ধর্মঘটের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি ও তাদের সাংগঠনিক লাইসেন্সের অনুমোদন বাতিল করা অত্যাবশ্যক। সংবাদপত্র ও অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব এবং সড়ক পরিবহনের আইনের কুফল ও সুফল বেশি বেশি প্রচার করা প্রয়োজন। সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন এবং সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধ করে দেশের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠবে বলে আশা করি।

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবী বাজার, মুন্সীগঞ্জ।  

 

►    গুজব কিছু লোকে ছড়ায়। তাদের উদ্দেশ্য জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। সচেতন থাকলে গুজব বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবে না। যারা এসব করে তারা এখন তথ্য-প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে। পরিবহন ধর্মঘটও গুজবে মিশে যায়।  নতুন পরিবহন আইনের কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা ঠিকমতো ধার্য করা হয়নি। যাই হোক, ঠিকমতো আইন মানা ও সচেতনতা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামলাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►    গুজব ও অপপ্রচারকারী অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। অপরাধীকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অতিমুনাফা করতে গিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুদামে মজুদকৃত পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় ভাগাড়ে বা নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বেশির ভাগ ড্রাইভার-হেলপারের দক্ষতা নেই। তারা নিয়ম-কানুন এবং শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে পরিবহন খাতে কাজ করছে। লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের শেষ নেই। অযৌক্তিক, অস্বাভাবিক যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সরকারি কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগী হয়ে নিরসন করতে হবে। অপরাধীদের প্রশ্রয় না দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সবাইকে সজাগ ও সচেতন থেকে, গুজবে কান না দিয়ে নিজেকে সামলে রাখতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

►    গুজব হলো সত্য, মিথ্যা আর কুসংস্কারের এক মিশেল। কিন্তু কার অংশ কতটুকু, সেই হিসাব মেলানো দায়। কখনো এটি হতে পারে ডাহা মিথ্যা। কখনো প্রতিপক্ষকে দমানোর কৌশল। গুজব কখনো হয়ে ওঠে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মোক্ষম হাতিয়ার। বানের পানির মতো গুজব আসে এবং ছড়ায়। কিছুদিন পর সেটি চাপা পড়ে যায়। কিন্তু যে মানুষেরা গুজবের বলি হয়, কী উত্তর দেব আমরা তাদের কাছে? দেশে এখন ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ আছে। পুলিশ অ্যাপসে সারা দেশের পুলিশের নম্বর আছে। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে সেখানে জানান। সবার আগে বিষয়টি সম্পর্কে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত হোন। চিলে কান নিয়েছে ভেবে চিলের পেছনে ছোটার আগে কানে অন্তত হাতটা দিন।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

►    দেশের যা অবস্থা—গুজব, ধর্মঘট একাকার হয়ে যাচ্ছে। গুজব ঢাকা থেকেই ছড়ায়। ফোনে কথায় কথায় ছড়ায়, অথবা কোনো ফেসবুক আইডি থেকে। ফেসবুকে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক থাকা দরকার। মালিক-শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘট করছে, উদ্দেশ্য সরকারের ভাবমূর্তি ধ্বংস করা। এর পেছনে দলীয় ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। পরিবহন ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

►    সব ধরনের কাজে ও সংগঠনে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে শক্তভাবে। গুজব ছড়ায় যারা তাদেরও দমন করতে হবে আইনের মাধ্যমে, শাস্তি দিয়ে।

রাশেদুল ইসলাম

বাংলাবাজার, গাজীপুর।

 

►    একের পর এক গুজব রটিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে কিছু মহল। পেঁয়াজ নিয়ে সংকট কাটতে না কাটতে আবার শুরু হয়েছে লবণ নিয়ে হৈচৈ। তবে জনগণের ভাগ্য ভালো বলতে হবে, লবণ নিয়ে বেশি হাঙ্গামা করার আগেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হস্তে তা দমন করেছে। এ জন্য সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবার শুরু হচ্ছে চালের গুজব। পেঁয়াজ না হয় তিনটির জায়গায় একটি খেলাম। লবণ না হলে চলে না। তারপর যদি চালের সংকট হয়, তবে দেশের চলমান অবস্থা কেমন হবে ভাবা যায়? এসব গুজব রটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি যারা নষ্ট করে, তারা কখনো দেশের ভালো চায় না। তারা দেশের চরম শত্রু। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা নিজেরা ভুল করছে, আবার জনগণকেও মাতাচ্ছে। সরকারের উচিত এসব গুজব রটনাকারীকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর কেউ করতে না পারে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►    গুজবে কান না দিয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। গণপরিবহন বন্ধ হলে সব শ্রেণির মানুষের সমস্যা হয়। কাজেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ও নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। সরকারেরও জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    গুজবের ঘটনা আগেও নানাভাবে হয়েছে। মানুষকে হয়রান করে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের সচেতন হতে হবে। গুজব রটনাকারীর বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন সমস্যা দূর করতে সরকারের নিজস্ব কিছু পরিবহন রাখতে হবে, যেন এমন খারাপ সময়ে ব্যবহার করা যায় এবং মানুষের দুর্ভোগ কমে।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

►    কিছু মানুষ সরকার হটানোর কৌশল হিসেবে গুজব ছড়িয়ে, অপপ্রচার করে, নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ও যানবাহনে অরাজকতার পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির কৌশলে এগোচ্ছে বলে মনে হয়। সরকারের নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রী মহোদয়রাও অভিজ্ঞ আমলাদের চাতুর্যপূর্ণ সলাপরামর্শের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না বলে মনে হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনযন্ত্র যদি ঠিকমতো টিমওয়ার্ক করে, আগেই সংকেত পেয়ে পেঁয়াজ সংকট মোকাবেলা করতে পারত। ধানের সংগ্রহ অভিযান আগে আরম্ভ করে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারত। ভোক্তা অধিকার বিভাগ কার পক্ষে কাজ করে তা এখনো জনগণের স্পষ্ট অনুধাবন করতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের শুদ্ধি অভিযান ব্যর্থ করার চক্রান্তও রয়েছে। সরকারের টিমওয়ার্ক আরো শক্ত হতে হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। সরকারের অব্যাহত সাফল্য, জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে ঈর্ষাকাতর গোষ্ঠী এসব ষড়যন্ত্রের কলকাঠি যে নাড়ছে তা পাগলেও অনুধাবন করতে পারছে। রাজনীতিতে বলুন আর ব্যবসায়ে, মধ্যস্বত্বভোগীরা চক্রান্তের জাল ফেলে উৎপাদনকারী, ভোক্তা ও সরকারকে নজেহাল করে ফায়দা লুটছে। যারা গুজব ছড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়ে ও পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►    সড়ক পরিবহন আইন সব পক্ষকে নিয়ে সংশোধন করা যায় কি না ভাবতে হবে। আর গুজব রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►    গণপরিবহনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে চালক হওয়া, গণমানুষকে পিষে মারা, যাত্রীসাধারণের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করা, বাস টার্মিনালে যাত্রীসাধারণকে হয়রানি করা—এই অমানবিক নানাবিধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকার যদি জনমানুষের কল্যাণের জন্য সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, এটা কি অন্যায়? গুজব ছড়িয়ে লবণের মূল্য বৃদ্ধি, পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি, পেঁয়াজের সর্বকালের সেরা মূল্য হাঁকানো, রেল দুর্ঘটনা শেষ হতে না হতে রেলগাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পদ্মা সেতুতে মাথা কেটে দিতে হবে, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি—সামনে আর কী গুজব অপেক্ষা করছে জানি না। ফেসবুক হ্যাক করে সাম্প্রদায়িক বিষাক্ত পথ প্রশস্ত করাসহ আসল ঘটনা চক্রান্তকারীরা বসে নেই, সরকারকে বিপদে ফেলতে যা করার সব পথই অবলম্বন করবে। সংসদে পাস হওয়া আইন যেন কোনো রকম স্থগিত না হয়, এর মূল্যায়ন করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, জনগণেরও। গুজব, অপপ্রচার, পরিবহন ধর্মঘটের নামে যে অরাজকতা চলছে, ঐক্যবদ্ধভাবে এগুলো মোকাবেলা করতে হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিশেষ করে পেঁয়াজের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধির কারণে যখন সর্বত্র অস্থিরতা বিরাজ করছে, সরকারও যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই কোন স্বার্থে কে বা কারা লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল? প্রশাসনের আন্তরিক তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এক দিনে রেকর্ড পরিমাণ লবণ বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের সঙ্গে তুলনা করলে এর চাহিদাও কম। ছোট পরিবারে মাসে ১০ কেজি পেঁয়াজ লাগতে পারে, কিন্তু লবণ লাগবে মাত্র এক কেজি। লবণের দাম বাড়লেও পাবলিকের জন্য বড় সমস্যা হবে না। লবণ নিয়ে গুজব রটার বিষয়টি আমার কাছে কৃত্রিম মনে হয়। অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের করা আইনের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে নাজুক দেশ। কিসের বিরুদ্ধে ধর্মঘট? কেন ধর্মঘট? পরিবহন আইন তো কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য জুলুম নয়। আইন তো কোনো নিরপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়। আইন কার্যকর হলে এর সুফল সবাই ভোগ করবে। যারা ধর্মঘট করেছে তাদের বুঝতে হবে, কোনো অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা হাজারটি অপরাধের জন্ম দেয়। নেপথ্যে কে বা কারা কাজ করছে জানা দরকার।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

►    সচেতনতা জাতিকে উন্নত করে। কোনো খবর শোনার পর একটু সময় নিয়ে বিবেচনায় আনার পর ডিসিশন নেওয়া উচিত। লবণের দাম বেড়েছে শুনে অনেকে এক কেজির জায়গায় পাঁচ কেজি কিনেছে, পরে যা হওয়ার তাই হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তো প্রয়োজনের চেয়ে একটু কম কিনি, সমস্যা কোথায়? বাজারে পাওয়া যায় না এমন তো নয়, সব কিছুই পাওয়া যায়। পরিবহনের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি, পলিটিক্যাল পাওয়ার সব ক্ষেত্রে দেখানো বন্ধ করা উচিত।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, সেকশন-৬, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা