kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অপরাজনীতির প্রভাব থেকে উচ্চশিক্ষাকে মুক্ত রাখুন

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ইত্যাদি কারণে দেশের বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। ছাত্ররাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে দুর্বৃত্তায়ন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদকসহ নানা অপকর্ম। অনেক ক্ষেত্রেই সব কিছু জানা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যেমন বিস্তর অনিয়ম রয়েছে, তেমনি উপাচার্য নিয়োগেও যথেষ্ট ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। সম্মানিত শিক্ষকদের একটি বড় অংশই দেশের চলমান অপরাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক সম্পর্ক নষ্ট করছেন। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারছেন না। একজন আদর্শবান শিক্ষকের কাছে কোনো পদ-পদবি বা অর্থ গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং নিজের আদর্শ, সততা ও মান-সম্মান বজায় রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। দেখা যায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে তাঁরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অথচ একজন উপাচার্যের আসল পরিচয় হলো, তিনি একজন সম্মানিত শিক্ষক। এ পরিচয়ই শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয়, কোনো পদ-পদবি নয়। দেশে প্রায় অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রায় ১০০ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত প্রায় দুই হাজার দুই শরও বেশি কলেজ রয়েছে। আর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ লাখেরও বেশি। যেহেতু তাঁরাই ভবিষ্যতে মন্ত্রী, এমপি, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন, তাই সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্যই দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে সহনশীল ও সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। বিতর্কিত, অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ উপাচার্যদের অপসারণ করে সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে, যাতে নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়ন কার্যক্রম, টেন্ডার ইত্যাদির সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জড়িত হতে না পারেন।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা