kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর সাজা হোক

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর সাজা হোক

সামাজিক বন্ধন ঢিলে হয়ে যাওয়া, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা কারণেই শিশুরা আজ নিজের পরিবারেও নিরাপদ নয়। শিশু হত্যার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সমাজকে বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে। শিশুর নিরাপত্তা বিধানে তাই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর সাজাই পারে সমাজ থেকে এই নৃশংসতা দূর করতে। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

►  অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতি, সামাজিক অবক্ষয় এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণে পরিবারের শিশুরাও নিরাপদ নয়। মানুষের দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা, সামাজিক কোন্দলে শত্রু সৃষ্টি ও শায়েস্তা করার মনস্তাত্ত্বিক কারণে নিজ সন্তান ও নিকটাত্মীয় খুন হচ্ছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের এই অসুস্থ প্রবণতা দূর করতে সুশিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও আইনের শাসন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে এসব অনাচার অনেকটা দূর হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►  ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না কেউ। মা-বাবার হাতেও শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। স্নেহ-ভালোবাসা, দয়া, করুণা, মানবতাবোধ যেভাবে লোপ পাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এ শব্দগুলো কিছুদিন পর অভিধানে থাকার প্রয়োজন হবে না। সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবতার জাগরণ সৃষ্টি, মায়া-মহব্বত বাড়ানোর জন্য তথা সামাজিক অবক্ষয় রোধে মানুষে মানুষে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসার বিকল্প দেখি না। আমাদের দর্শন ও নৈতিকতার উন্নয়ন করতে হবে। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি হিসেবে গ্রহণ করে সরকারকে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। আইনের শাসনের চেয়ে নৈতিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে বেশি করে। সমাজকে যেকোনো মূল্যে কলুষমুক্ত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আসুন আমাদের মানবতাবোধকে জাগ্রত করি।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►  ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। বিশ্বজুড়ে যখন চলছে সভ্যতার জয়গান, তখন আমরা শিশুদের নানাভাবে নির্যাতন করছি, মেরেও ফেলছি। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। মাদকের মতো শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও জোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নিন।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

►  শিশুদের প্রতি মা-বাবার যত্ন ও সঠিকভাবে দেখাশোনার অভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য অনেক পরিবারে শিশুরা এখন আর নিরাপদ নয়। এ ছাড়া শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের দিয়ে অনেকে অমানবিক কাজ করাচ্ছে। মানুষ দিন দিন নির্মম হচ্ছে বলেই ঘটছে শিশুহত্যার মতো নৃশংস ঘটনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেশের নাগরিকদের সচেতন করে তুলতে মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পরিবারের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচারণা চালাতে পারে। শিশুধর্ষক ও শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর করুন।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

 

►  স্কুলেও শিশুরা নানাভাবে মার খায়। ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। পরিবারেও শিশু নিরাপদ নয়, বরং নির্যাতনের শিকার। সরকার তো সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পরিবারকেই ভূমিকা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্যোগও জরুরি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►  বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। এ কথা যেন আজ ভুল বলে প্রমাণিত হতে চলেছে। শিশুরা ঘরেও নিরাপদ নয়। এ জন্য সমাজের অবক্ষয় এবং চলমান রাজনীতি দায়ী বলে মনে করি। সামাজিক রীতি ও আদর্শ না মানার কারণে এসব ঘটছে। এ জন্য অনাচার ও হানাহানি বন্ধ করতে হবে। অনৈতিক চিন্তা ও লোভ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজে সততা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

►  ধর্মীয় ও সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরকীয়ার চর্চা রোধ, ক্ষমতার অপব্যবহার, লোভ ও মানসিক বিকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।

মো. আবুবকর সিদ্দিক আজিম

নওদাপাড়া, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

 

►  সমাজে প্রতিহিংসা ও লোভ বেড়েছে। আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। এসব কারণে নানা ধরনের অপকর্ম ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ প্রশাসন চাইলে এসব রোধে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। কেন তা করে না, জানা নেই।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►  সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে যে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তা নজিরবিহীন। এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার বাবা। এ রকম অসংখ্য ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যায়। রক্তের টান কোনো কিছুই হত্যা করা থেকে নিবৃত্ত রাখতে পারে না। এসব ঘটনা ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের ঘটনা রোধে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

আব্দুর রহমান

দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, বরিশাল।

 

►  যেসব পরিবারে শিশুদের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে, সেসব পরিবারের কিছু ভুলের কারণে শিশুরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার। বাচ্চাদের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী না হওয়া তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবারের মাদকাসক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বাচ্চাদের মিশতে না দেওয়া এবং আসক্ত ব্যক্তির দ্রুত সুচিকিৎসা করানো দরকার। পারিবারিক কলহের মধ্যে বাচ্চাদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন তৈরি করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা এবং শহর ও গ্রামে মুক্ত সেমিনার পরিচালনা করার উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। শিশু নির্যাতনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। গরিব, অসহায় ও দুস্থ শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভাতা প্রদান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ সুবিধা নিশ্চয়তা বিধান কার্যকর করা জরুরি। আমাদের বিবেকবোধ জাগ্রত করতে হবে।

এম এস রাসেল

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►  শিশুদের ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুরতার ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে। এ নির্মমতায় আমাদের কোনো ভাষা নেই। আমরা বাক্রুদ্ধ। সম্প্রতি দেখলাম চলমান শিশু নির্যাতনের আরেক করুণ ঘটনার চিত্র, যা মধ্যযুগীয় ঘটনাকেও হার মানায়। সমাজের নৈতিক পতনের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে আমরা মনে করি। সমাজের নেতৃত্বে অসৎ চরিত্রের উত্থান হলে কি আর ভালো কিছু পাওয়া যাবে? পরিবার যেখানে শিশুর আশ্রয়স্থল, সেখানেই এমন ঘটনা ঘটতে পারল। পরিবারের সচেতনতা এবং প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ালে এসব ঘটনা রোধ করা যেতে পারে। আর অপরাধীদের এমন শাস্তি দিতে হবে, যেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এখনই সেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►  শিশুরা ছাড়াও পরিবারের সব বয়সের সদস্য নিরাপদ থাকতে একান্নভুক্ত পরিবারের ভূমিকা অনেক। সব পরিবারেই কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। আর্ধিক, সামাজিক বা অন্য কারণে পরিবারের বয়স্করা এর সমাধান দিয়ে থাকেন। সামাজিক বন্ধন মজবুত করতে একান্নভুক্ত পরিবারের ভূমিকা জরুরি। পরিবারের বয়স্ক আত্মীয়রা যেমন—মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কাছে থাকলে পরিবার যে নিরাপদ থাকে তা অনেক নিরাপত্তাকর্মী দিয়েও সম্ভব নয়।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

সেকশন-৬, মিরপুর, ঢাকা।

 

►  শিশুরা প্রতিবেশী, উত্ত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৭০ শতাংশ শিশু তার প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু ও তাদের শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঘটনাগুলো। সমাজ থেকে দ্রুত এ অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটালে বিভিন্ন সভা-সেমিনার আর বক্তৃতায় ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে জাতির কর্ণধার’, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশ-জাতির নেতৃত্ব দেবে’—এমন কথাবার্তা সত্যিকারার্থে অপপ্রলাপে পরিণত হবে। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা এখন জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুহত্যা, শিশু নির্যাতন এবং শিশু অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

►  মনুষ্যত্বের যে চরম অবক্ষয় ঘটে তা রোধে যুগে যুগে মুনি-ঋষিরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েছেন। মনুষ্যত্বের অবক্ষয় ঠেকাতে সময়ে সময়ে মহাপুরুষ তথা নবী-রাসুল-পয়গম্বর আসেন। তাঁরা নিজ নিজ ধর্মের বাণী মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেন। কিন্তু মনুষ্যত্ব উদ্ধারে শতভাগ সাফল্য অধরা রয়ে যায়। পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক যে দীক্ষা প্রয়োজন, তার ঘাটতি। মনুষ্যত্বের মৃত্যু মানে সমগ্র মানবজাতির মৃত্যু কথাটা অনেকেই ভুলতে বসেছে। জাতিকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মনুষ্যত্বের জয়গান ব্যাপকভাবে তুলে ধরে জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

মাইশা এফ হাউস, ঢাকা।

 

►  শিশুর উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী শক্তিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এতে শিশু মননে-মানসিকতায়, রুচিবোধে উন্নত হবে, নিজের সৃষ্টি দেখে উল্লসিত হবে, নিজের জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত হবে এবং নিজেকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কিন্তু আজ শিশুর সুপ্ত বাসনাগুলো বিকাশের অন্তরায় কিছু কিছু পরিবারের কর্তা ও অভিভাবক। তাঁরা লোভ, মোহ, স্বার্থের জন্য নিজ সন্তানকে হত্যা করছেন। সুনামগঞ্জের ‘তুহিন’ জঘন্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এটা নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। আসুন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় পৃথিবী গড়ে তুলি।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।         

 

►  তুহিন হত্যার ঘটনা বিবেককে আবার নাড়িয়ে দিয়েছে। ছবিটা দেখার পর মানসিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলাম। কতটা অমানবিক হলে এমন কাজ করা যায়! আমাদের সামাজিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এসব গর্হিত কাজের জন্য সমাজেরও দায় আছে। আমাদের নৈতিক শিক্ষার অভাবও এর জন্য দায়ী। এর থেকে উত্তরণে যথাযথ ব্যবস্থা নিন। আমাদের মানবিক হতে হবে; মানবিক শিক্ষার প্রসার ঘটুক।

মোহাম্মদ শরীফ

দেবীদ্বার, কুমিল্লা।

 

►  শিশুরা শুধু সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তা নয়, পরিবারেও অনিরাপদ। শিশুরা মা-বাবার কাছেও নিরাপদ নয়, যা আমাদের পারিবারিক-সামাজিক কাঠামোর জন্য হুমকি। বর্তমানে শিশু নির্যাতন, শিশুহত্যা অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ-নিপীড়নের শিকার হয়েছে ৮২৬ জন। বর্তমানে আমরা আরবের অন্ধকার যুগের মতো এক সময়ে বাস করছি। শিশু নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করুন।                    

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

মিরাপাড়া, রিকাবী বাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►  শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পরিবারের, মা-বাবার ভূমিকা ব্যাপক। শিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ সনদ মান্য করা হচ্ছে না। শিশুর ভালো-মন্দ দেখার জন্য শিশু অধিকার বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে তৎপর হতে হবে। পরিবারের, সমাজের দায়িত্বও রয়েছে। অবহেলিত, পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য শিশুসদন গড়া দরকার।

টিটো রহমান

রাধানগর, যোগীপাড়া, পাবনা।

 

►  আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ছেলেধরাসহ নানা কারণে আমাদের মা-বাবা ঘরের বাইরে যেতে বারণ করতেন। আমরাও মা-বাবার কাছে ঘরে থাকতাম। নিরাপত্তার অভাব বোধ করার কোনো কারণই ছিল না পরিবারে। কিন্তু পরিবর্তিত সমাজে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব কিছুই কেমন যেন অন্য রকম লাগছে। বেশ কিছুদিন হলো পরিবারের লোকের বাইরে যে লোকটার সবচেয়ে আপন হওয়ার কথা, সেই শিক্ষকও নিরাপদ ছিলেন না। এখন পরিবারেও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। যত দিন মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জেগে না উঠবে—এ রকম সমস্যা আমাদের ছেড়ে যাবে না। আইনের অনুশাসন এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর নয়। এ ক্ষেত্রে মানুষকেই মানুষ হয়ে উঠতে হবে।

প্রশান্ত ভৌমিক

চৌমুহনী, নোয়াখালী। 

 

►  শিশুহত্যাও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। কোনো ঘটনার সঠিক বিচার না হওয়ায় দিন দিন এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। তুহিন নামের এক ফুটফুটে শিশুকে হত্যা করা হলো। তাও করেছেন বাবা-চাচা। মানুষের অপরাধপ্রবণতার বড় কারণ দেশে আইন আছে কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে। পরিবারের উচিত নিজের সন্তানকে নিরাপত্তা বলয়ে রাখা।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►  শিশুদের যৌন নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার অনেক ঘটনাই প্রকাশ পায় না। আমাদের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে জাগ্রত করে সুবিবেচক হতে হবে। এসব প্রতিকারে কঠোর আইনের মাধ্যমে অপরাধের মূলোৎপাটন করাই সুবিবেচকের কাজ। লোভ-লালসার কাছে আমাদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যেতে বসেছে? এ যেন বাবা নয়, বাবা নামের কলঙ্ক। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

 

►  শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা বাড়ছে মানবিক গুণাবলির অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে। পরিবারে-সমাজে সততা-নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুহত্যা বন্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। সমাজে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

►  শিশু নির্যাতন, শিশুহত্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ঘরে-বাইরে কোথাও তারা নিরাপদ নয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হটলাইন ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে শিশুরা তাদের অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা শিশু অধিকার সংস্থাগুলোকে জানাতে পারে।

রাশেদুল ইসলাম

রূপসী বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা।

 

►  পরিবারেও শিশুরা নিরাপদ নয়, এটা মানা যায় না। কিছু মা-বাবা এমন পাষণ্ড হতে পারে! নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শিশু নিপীড়কদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা