kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নীতি ও আদর্শে পরিচালিত হোক ছাত্ররাজনীতি

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



নীতি ও আদর্শে পরিচালিত হোক ছাত্ররাজনীতি

বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ছাত্ররাজনীতি। নানা মহল থেকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধেরও দাবি উঠেছে। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়াই কি একমাত্র সমাধান? বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উপায় কী? ছাত্ররাজনীতি দূষণমুক্ত করতে হবে। ক্ষমতাতন্ত্র নয়, নীতি ও আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলেই ছাত্ররাজনীতি ফিরবে কল্যাণের পথে। শনিবার প্রকাশিত কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের পাঠানো মতামতের বাকি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো

 

►     ছাত্রসংগঠনের কাজ ছাত্রদের সুখ-দুঃখ দেখা। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। সংগঠনগুলো জাতীয় স্বার্থেও কাজ করবে। ছাত্ররাজনীতির মর্যাদা অবশ্যই ক্ষুণ্ন হয়েছে। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ১২৬টি ছাত্র ক্যাম্পাসে খুন হয়েছে। মাত্র একটি ঘটনার বিচার হয়েছে। ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে। আদর্শহীন রাজনীতির লেজুড় না হয়ে ছাত্রস্বার্থে ছাত্ররাজনীতি থাকতে পারে। বন্ধ করা কাম্য নয়। 

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►     ছাত্রদের মূল কাজ জ্ঞানার্জন ও গবেষণা করা। ছাত্ররাজনীতি অবশ্যই বন্ধ করা উচিত। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুধু দলকানা দলনেতাদের উপকার হয়। কখনো এই দল আবার কখনো ওই দল—এই ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসে। এতে ছাত্রদের কোনো উপকার হয় না, বরং বছরের পর বছর ধরে আমরা আবরারের মতো মেধাবীদের হারাচ্ছি। তাই ছাত্রদের পড়াশোনায় না রেখে রাজনীতি করানোর অধিকার কোনো দলেরই নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতির নামে চাটুকারিতা, গলাবাজিসহ যাবতীয় অপকর্মের চর্চা জাতীয়ভাবে বন্ধ করা উচিত।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►     ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা নানা অপকর্মে লিপ্ত হয় রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায়। দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া বন্ধ করতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

রূপসী বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা।

 

►     ভিন্নমত গণতান্ত্রিক দেশে থাকতে হবে। শিক্ষার পরিবেশের স্বার্থে ছাত্ররাজনীতি স্বল্প সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হোক।

মো. আবু বকর সিদ্দিক আজিম

নওদাপাড়া, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

►     শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ঢুকে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। তাই শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করুন। সন্ত্রাস-মাস্তানি বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►     ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে ছাত্রদের রাজনীতি আর এখনকার ছাত্ররাজনীতির মধ্যে অনেক তফাত। অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হোক। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা ঠিক হবে না। এতে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►     ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা আনতে হলে সবার আগে বন্ধ করতে হবে ছাত্রসংগঠনগুলোর দুর্বৃত্তায়নের নামে টর্চার সেল, র‌্যাগিং, আর নেতাদের টেন্ডারবাজি, মাদক কারবারের মতো বেসামাল জীবন যাপন। এগুলোই তাদের আগ্রাসী জীবনে অভ্যস্ত করে তুলছে।

কাজী মো. কাইসার হামিদ

হালিশহর, চট্টগ্রাম।

 

►     ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। ছাত্রসংগঠনের লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করা হোক। তারা পড়াশোনা করবে, খেলবে, জ্ঞানচর্চা করবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ফাও খাওয়া তাদের কাজ নয়। শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিও বন্ধ করা হোক।

মো. মহিদুল ইসলাম

পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা।

 

►     ১৯৫২, ৫৪, ৬৬, ৬৯ এবং ৭১-এ ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ভূমিকা ছিল। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, বরং যেসব ছাত্র অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। সরাসরি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা ঠিক হবে না, বরং নতুন কিছু ভাবতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

►     দেশের বেশির ভাগ শিক্ষাঙ্গন আজ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। রাজনীতির নামে লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপকর্ম রোধে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, দেশবাসী, প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধীর বিচার করতে হবে। প্রয়োজন হলে ছাত্ররাজনীতি বাতিল করতে হবে।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

►     ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে হয় না। শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো অনেক বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শিক্ষালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করে শুধু ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। এ ছাড়া শিক্ষালয়কে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত। স্বাধীনভাবে শিক্ষালয়কে চলার সুযোগ দিতে হবে। দেশের সাংবিধানিক মূলনীতি পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে শিক্ষালয়ের শিক্ষকদের যাতে সম্পৃক্ততা না থাকে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে কঠোরভাবে। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রে ছাত্ররাজনীতি আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের দেশেও থাকতে হবে। আইনের শাসন কঠোরভাবে নিশ্চিত করে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সীমিত সময়ে করা গেলে এই অঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে বাধ্য।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►      দেশসেরা মেধাবী সন্তান দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, মা-বাবা বুকভরা আশা নিয়ে বসে থাকেন, আমার ছেলে বা মেয়েটি ভালো পড়ালেখা করে ভালো চাকরি করবে। কিন্তু সেখানে মা-বাবার অগোচরে তারা খারাপ কাজগুলো করে ফেলে। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ ধুলোয় মিশে যায়। মা-বাবার রঙিন স্বপ্নগুলো আর বাস্তবায়িত হয় না। দেশসেরা মেধাবীরাই যদি পিটিয়ে তাঁদের সহপাঠীকে মেরে ফেলতে পারেন, এর চেয়ে জঘন্যতম কাজ আর কী হতে পারে? তাঁদের কাছে জাতির অনেক কিছুই শেখার আছে। এই দেশসেরা মেধাবীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। অকালেই যেন কোনো মেধাবী ছাত্রকে ঝরে পড়তে না হয়।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

►     ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে কোনো সফলতা আসবে না। ছাত্ররাজনীতি অব্যাহত রাখতে হবে। তবে কোনো ছাত্রসংগঠন কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের সমর্থনে থাকবে। ছাত্ররাজনীতি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি পেতে অংশ নেবে না। ছাত্ররাজনীতিকে মূল রাজনীতির শক্ত হাত বানিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবে না। ছাত্রসমাজকে কথা বলতে দিতে হবে। ছাত্ররাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে।

     মুহসিন মুন্সী

দৌলতপুর, খুলনা।

 

►     শিক্ষাঙ্গনে খুন, চাঁদাবাজি, চুরিবিদ্যা বন্ধ এবং মেধাবী ছাত্রদের মেধার বিকাশ সাধনে বিদ্যা অর্জনের সুষুম পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোর দ্বারা বিগত ৩০ বছরের অর্জন কী? বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলগুলো থেকে ছাত্ররাজনীতিসহ র‌্যাগিং এবং বড় ভাই-বোন নামের সংক্রামক ব্যাধি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক; বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন, বর্তমান আদর্শবহির্ভূত যে নীতি, সেটি হচ্ছে ছাত্ররাজনীতি। যা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের বিবেকবান মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের রাজনীতি সংস্কার হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন আছে।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস ও ছাত্রী নিবাস, টাঙ্গাইল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা