kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

নীতি ও আদর্শে পরিচালিত হোক ছাত্ররাজনীতি

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



নীতি ও আদর্শে পরিচালিত হোক ছাত্ররাজনীতি

বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ছাত্ররাজনীতি। নানা মহল থেকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধেরও দাবি উঠেছে। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়াই কি একমাত্র সমাধান? বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উপায় কী? ছাত্ররাজনীতি দূষণমুক্ত করতে হবে। ক্ষমতাতন্ত্র নয়, নীতি ও আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলেই ছাত্ররাজনীতি ফিরবে কল্যাণের পথে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

►    যাঁরা রাজনীতি করবেন তাঁরা কোনো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। টেন্ডারবাজির সঙ্গে থাকতে পারবেন না এবং তাঁদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা যাবে না। এসব যদি রক্ষা করা সম্ভব হয়, তাহলে রাজনীতি করতে কোনো অসুবিধা নেই। না হলে রাজনীতি বন্ধ করাই ভালো। ছাত্ররাজনীতি মানেই যদি হয় ক্ষমতা ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ, এমন রাজনীতি চাই না।

টিটো রহমান

রাধানগর, পাবনা।

 

►    ছাত্ররাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁদের পেছনে গডফাদার থাকে। তা না হলে এত বড় প্রতিষ্ঠানে এমন কাণ্ড হতে পারে না। পরিস্থিতি যা বলছে, তাতে বস্তা পচা রাজনীতি বন্ধ করাই ভালো, যাতে আর কোনো মেধাবী সন্তানের প্রাণ না যায়।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►    ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলেই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করতে হবে। ছাত্ররা শুধু তাদের সমস্যা, জাতীয় ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করতে পারবে। সরাসরি রাজনৈতিক ব্যানারে কোনো আন্দোলন নয়। এ জন্য সর্বত্র ঐকমত্য জরুরি।

আজহারুল ইসলাম

রায়পুরা, নরসিংদী।

 

►    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাই স্কুলের ছাত্র থাকাবস্থায় আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামে তৎপর ছিলেন। ধীরে ধীরে সেই তৎপরতা তাঁকে ছাত্ররাজনীতির দিকে ধাবিত করে। এরই সূত্র ধরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানীসহ তদানীন্তন বাঘা বাঘা রাজনীতিকের সংস্পর্শে এসে পুরোদস্তুর রাজনীতিক হন। কালক্রমে জাতির জনক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। ছাত্রসমাজে প্রথম বিশৃঙ্খলার আবির্ভাব ঘটান আইয়ুব খান। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছাত্ররাজনীতিতে পদের লোভের সংক্রমণ ঘটান জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ছাত্রসমাজ। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

মাইশা এফ হাইস, ঢাকা।

 

►    ছাত্ররাজনীতি বন্ধ কোনো সমাধান নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবার আগে দরকার ক্যাম্পাসে সব মতের সংগঠনের সহাবস্থান। প্রশাসনকে পক্ষপাতিত্ব না করে সব সংগঠনের প্রতি সমান মনোভাব দেখাতে হবে।

মোস্তফা কামাল

গাজীপুর।

 

►    ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা সমাধান নয়। ছাত্রসংগঠন রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠন। অর্থাৎ মূল হচ্ছে রাজনৈতিক দল। মূলে পচন ধরলে কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই শুদ্ধি অভিযান মূল দলেই চালাতে হবে।

ফারজানা তাইউব

ঢাকা।

 

►    ছাত্ররাজনীতি একেবারে বন্ধ করলে জাতি অচল হয়ে যাবে। তবে গণ্ডির ভেতরে রেখে, তদারকির ব্যবস্থা করলে আমার মনে হয় ভালো হবে।

সালেহ্ উদ্দিন আহম্মেদ

হবিগঞ্জ।

 

►    আমি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে বলছি না। কারণ রাজনীতি শেখার এটিই প্রথম ধাপ। কোনো ছাত্র যেমন ক্লাস ওয়ান থেকে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে না, তেমনি ছোট থেকে রাজনীতি না শিখলে বড় হয়ে দেশ চালানোর রাজনীতি করা সম্ভব নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার যেন না হয়।

মোহাম্মাদ রিপন

ঢাকা।

 

►    বন্ধ হোক ছাত্ররাজনীতি। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে পুরো বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসবে।

ওয়াহিদ খান

ঢাকা।

 

►    ক্যাম্পাসে খুন, মাদক কারবার, মারামারি, চাঁদাবাজি এবং হুমকি-ধমকিসহ যত অপরাধ ঘটে থাকে, সব কিছুর অন্যতম কারণ ছাত্ররাজনীতি।  ছাত্ররাজনীতির অনেক প্রয়োজন থাকলেও ক্যাম্পাসে অপরাধ বন্ধের জন্য এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

►    যে রাজনীতি সন্তানকে খুনি বানায়, সেই রাজনীতির দরকার আছে বলে মনে হয় না। কিছু ছাত্রের সঙ্গে বহিরাগতরাও শিক্ষাঙ্গন দূষিত করছে।  অনুরোধ করি, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করুন।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►    ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না।  ছাত্ররাই তো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। কাজেই এটি নিয়ে আরো ভাবতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►    আমি মনে করি, বাংলাদেশে দ্রুত ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে মুক্তচর্চার লালনক্ষেত্র। কিন্তু ছাত্রসংগঠনগুলোর লেজুড়বৃত্তির কারণে মুক্তচিন্তা ও চর্চা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সর্বশেষ বলি বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ। ছাত্ররাজনীতি এতটাই ভয়ংকর ও বেপরোয়া হয়ে গেছে যে প্রায়ই কোনো না কোনো মায়ের বুক খালি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ; কলুষিত হচ্ছে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যৌন হয়রানি, শিশু অপহরণ প্রভৃতি অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যেত। শুধু ছাত্ররাজনীতি নয়, শিক্ষক রাজনীতিও বন্ধ করা উচিত। শিক্ষকরা ছাত্র নামধারী রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক রাজনীতির কারণে একটি তোষামোদকারী শ্রেণি গড়ে উঠেছে।

মো. জিল্লুর রহমান

সতীশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

 

►    প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি নেই, যে জন্য সেগুলোতে মারামারি-হানাহানি নেই। নেই কোনো হত্যার ঘটনা। সুতরাং যেসব বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় চলছে, সেগুলোতে নামমাত্র খরচে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে। যেহেতু সেগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত, সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার আলামত দেখছি না। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেওয়া হলে কয়েক দিন পর আবার শুরু হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাইভেট করে দেওয়া হলে বিশাল টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হবে। অতঃপর অটোমেটিক মাথা থেকে ছাত্ররাজনীতি দূর হয়ে যাবে। সরকার নিয়ন্ত্রিত থেকে ছাত্ররাজনীতি হলে মারামারি, হত্যাকাণ্ড ঠেকানো সম্ভব নয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

 

►    শিক্ষাঙ্গনে সব ধরনের অপতৎপরতা রোধে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরুর আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালির সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতি সবচেয়ে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের পরে নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতনে ছাত্ররাজনীতি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। এখনো জনকল্যাণমূলক যৌক্তিক দাবি বা অধিকার আদায়, অন্যায়ের প্রতিবাদে ছাত্ররা সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। আমাদের ছাত্ররাজনীতির একটা গৌরবোজ্জ্বল, সমৃদ্ধ অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির অপরিহার্যতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ উল্লিখিত সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়, বরং দল-নেতার অন্ধ অনুকরণ ও দাসত্বমূলক রাজনীতির পরিবর্তে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে ছাত্র-শিক্ষার্থীরা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

মো. এবাদুর রহমান শামীম

কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।

 

►    ছাত্ররা বাংলাদেশের অনেক স্মরণীয় সংগ্রামের সারথি। তাই এককথায় শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি বন্ধ করাটা সমাধান হতে পারে না। ছাত্রদের উচিত সংগঠনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির চর্চা বাদ দিয়ে সাধারণ ছাত্র ও শিক্ষা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা।

আবু ফারুক

বান্দরবান।

 

►    ছাত্ররাজনীতি নয়, বন্ধ করতে হবে ছাত্ররাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যেহেতু বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, সেহেতু সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। ভিন্নমতের জন্য প্রতিপক্ষের শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতির নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থী বা অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকবে, তাদের ভর্তি বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, ছাত্র অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করা ও দেশপ্রেমিক হওয়া। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্য সংগঠনের শিক্ষার্থীদের দমন, নিপীড়ন, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

►    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে তাদের আওতার মধ্যে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে; কিন্তু সরকারি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ না করাই ভালো। বরং রাজনীতি চালু থাকলে ভালো। কারণ মূলধারার রাজনীতিতে অনেকেই ছাত্ররাজনীতি থেকেই তো আসে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

►    শুধু ছাত্ররাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনৈতিক দলেও আদর্শহীন, নীতি-নৈতিকতাহীন, সুযোগসন্ধানী, চাটুকারদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কার হাত ধরে তারা অনুপ্রবেশ করছে—এ ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। আর প্রয়োজন তাদের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া। মুষ্টিমেয় কিছু ছাত্র নামধারী অছাত্রের জন্য ছাত্ররাজনীতি যেমন বন্ধ হতে পারে না, তেমনি যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসে তারা যোগ্য রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিতে পারে না। ছাত্রদের দেশসেবায় ব্রতী হতে হবে, দেশের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে, সৎ হতে হবে, সাহসী হতে হবে। সন্তানকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার বড় দায়িত্ব মা-বাবার। চাই আইনের কঠোর প্রয়োগ। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, চাই নৈতিক চরিত্রের উত্থান।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    বায়ান্ন থেকে শুরু করে দেশের সব ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষিত মেধাবীরা যদি দেশের হাল না ধরে, তাহলে কি অশিক্ষিত, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীরা দেশ চালাবে? সিনিয়রদের হাতে জুনিয়রদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা (র‌্যাগিং) বন্ধ করতে হবে। মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। বল প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। দলীয় মিটিং-মিছিলে যেতে অনিচ্ছুক সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাপ দেওয়া যাবে না।

সাদেক রিপন

কুয়েত।

►    ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা যাবে না। ছাত্ররাজনীতি চলবে; কিন্তু এর সঙ্গে দলীয় রাজনীতির সংযোগ যেন না থাকে।

মো. সোলায়মান

সিরাজগঞ্জ।

 

►    বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে, যা বাঙালি জাতি কখনো ভুলতে পারবে না। রাজনীতি করতে হবে আদর্শকে বুকে লালন করে। বর্তমানে ছাত্ররা পড়ালেখা ও গবেষণা ছেড়ে রাজনীতিতে বেশি সময় অতিবাহিত করছে। তারা মনে করছে রাজনৈতিক দলকে খুশি করাই বড় কাজ। ফলে তাদের মনে জন্ম নিচ্ছে নানা কুচিন্তা-ভাবনা। তারা সুচিন্তার চাষ না করে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছে। তারা হত্যার মতো নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধান্বিত হচ্ছে না। এটি চরম অবক্ষয়। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, বরং ছাত্ররাজনীতির সুষ্ঠু চর্চার পরিবেশ দরকার।

মো. আব্দুস সালাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

►    ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে শৃঙ্খলা ফিরবে কি না, জানি না। সরকারদলীয় ছাত্রলীগের ক্ষমতা কমবে। ক্ষমতা না থাকলে সবাই সমান।

মো. মহিন

মালয়েশিয়া।

 

►    রাজনীতির সঙ্গে জড়ানোর আগে মানুষকে সভ্য হতে হবে। তারপর রাজনীতি করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা উচিত। ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি অনুশীলন না করে কিভাবে আদর্শ ছাত্র হওয়া যায় এবং কিভাবে সভ্য হওয়া যায় তার অনুশীলন করা উচিত।

মো. শহিদুল ইসলাম

চট্টগ্রাম।

 

►    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতাদের লাগাম টেনে ধরা অত্যন্ত জরুরি। ছাত্ররাজনীতির ন্যূনতম বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি রইল দেশপ্রেমিক, মেধাবী ও সুস্থ বিবেকবান ছাত্রদের পদস্থ করার আহ্বান।

আ. রহমান দেওয়ান

রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর।

 

►    যে উদ্দেশ্য সামনে রেখে ছাত্ররাজনীতির সূচনা হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। এমন রাজনীতি বন্ধ করা সময়ের দাবি।

শাহেদ বিন হোসেন

চট্টগ্রাম।

 

►    শুধু ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলেই শৃঙ্খলা ফিরবে না। শিক্ষক রাজনীতিও বন্ধ করতে হবে।

মো. নাজমুল হাসান পলাশ

যশোর।

 

►    প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। তবে ছাত্ররাজনীতি একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আর এটি করা উচিতও নয়।

মো. শাহেদ উদ্দিন

ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা