kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সর্বস্তরে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সর্বস্তরে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন

বাংলাদেশের অগ্রসরমাণ অর্থনীতি এখন সারা বিশ্বে আলোচিত। এক নীরব রূপান্তর ঘটে গেছে বাংলাদেশে। কিন্তু দেশের এই অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। অর্থ আর পেশিশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবে সৎ মানুষের জন্য রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে অসৎ ব্যক্তিদের কাছে রাজনীতি হয়ে উঠছে বিত্ত-বৈভব অর্জনের হাতিয়ার। সম্প্রতি এ ধরনের নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণও শুরু হয়েছে। রাজনীতি থেকে দুর্বৃত্তায়ন দূর করতে প্রয়োজন দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান। কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

► দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন একটি বড় সংকট। এটি দূর করা সুস্থ রাজনীতির পূর্বশর্ত। সাম্প্রতিক সময়ের বেশ আলোচিত খবর হচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন অভিযোগ বলা কতটুকু ঠিক হবে, সেটিও ভেবে দেখা দরকার। কারণ যিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দুজনকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে, তিনি জেনেবুঝে এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একেকজন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। আমি মনে করি, বড় বড় নেতাকর্মীর কার কত সম্পদ আছে সেই খবর নেওয়া প্রয়োজন।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

         

► রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বে টর্চার সেল পরিচালনা কিসের ইঙ্গিত দেয়? প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তার আছর পড়েছে। ফলে সর্বত্রই হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজমান। ছাত্ররাজনীতিতে ‘ভাই’ মাফিয়া ডনকেও ছাড়িয়ে গেছে। দুর্বৃত্তায়ন থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য শেখ হাসিনার একক শুদ্ধি অভিযান কতটুকু সুফল বয়ে আনবে বলা মুশকিল। তবে এ শুদ্ধি অভিযান শুরুর জন্য তিনি নমস্য। জাতি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নসহ সব দুর্বৃত্তায়ন থেকে পরিত্রাণ চায়।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

মাইশা এফ হাইজ, ঢাকা।

 

► রাজনীতিকে ভালো করতে হলে অন্য দল থেকে আগতদের অপকর্মের সুযোগ দেওয়া যাবে না; নিজ দলের লোকদেরও না। সময়মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► বাংলাদেশে উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেনি রাজনীতি। অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতি। দেখা যাচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সবাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আগে দেখা যেত, সমাজের বিত্তশালীরা রাজনীতি করত। এখন আর সেদিন নেই। সবাই নিজের দলের ক্ষমতা দেখায়। দেশে এখন কী হচ্ছে? রাজনীতিকরা এ কী করছেন? আমরা কোথায় চলেছি? জাতীয় জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। যে যত বড়মাপের দুর্বৃত্ত সে তত বড় ক্ষমতাবান। অনেকেই অনেক টাকা-পয়সার মালিক হয়ে যায়। সেই টাকা বিদেশে পাঠায়। টিআইবির প্রতিবেদনে দেখেছি, বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচকে আরো নিম্নগামী হয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বিগত দিনে বাংলাদেশ পৌনঃপুনিকভাবে পাঁচবার পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা অসম্ভব।  

ম মুমিনুর রহমান

শমসেরনগর, মৌলভীবাজার। 

 

► ধানের মধ্যে চিটা থাকতেই পারে। চিটাওয়ালা ধান বাজারে নিলে তার মূল্য কম হয়। যদি সেটিকে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়, তবে তার দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী দল থেকে চিটা দমন করলে মানুষের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এর পাশাপাশি সরকার যদি একটি টেলিফোন হটলাইন করে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ দলের খারাপ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে, তেমন হলে কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই অসাধু নেতাদের চিহ্নিত করতে পারবে।

মো. রাশিদুল ইসলাম

রূপসীবাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে শুরুতেই আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। সত্যিকারভাবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, অন্যের সম্পদ লুট, ভূমি দখল, ব্যাংকের টাকা জালিয়াতি—এসব বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। অরাজকতা ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত বিচার করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দুর্নীতির সমুদ্রে ভাসছে বাংলাদেশ। রাজনীতিক-আমলারা একজোট হয়ে দুর্নীতি করছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমনের মিশন নিয়ে নেমেছেন। তাঁর মিশন সফল হোক।

কুমারেশ চন্দ্র

হৃদয়পুর, মাগুরা।

 

► এক শ্রেণির অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তির জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হচ্ছে। সুফল আনতে শুদ্ধি অভিযান দরকার। তরুণ প্রজন্মকে ভালো কাজ করতে উৎসাহ দিতে হবে দেশকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য। সততা, নীতি, আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। দেশের রাজনীতি আজ দুঃসময় পার করছে। কারণ রাজনীতিতে অর্থ আর পেশিশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব। রাজনীতিতে আদর্শ, জনকল্যাণ, জনসেবা, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতাবোধ ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। রাজনীতি হয়ে উঠছে অর্থ-বৈভবের হাতিয়ার। এখন দেশে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতির আড়ালে অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অনেকে। দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা এতে ব্যাহত হচ্ছে দারুণভাবে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর লাগাম টেনে ধরেছেন শক্ত হাতে। দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দল এভাবে এগিয়ে এলে ও দেশমাতৃকার বৃহত্তর স্বার্থে আন্তরিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন অচিরেই বন্ধ হবে বলে বিশ্বাস করি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব রাজনৈতিক দল সংঘবদ্ধভাবে রাজনৈতিক আগাছা পরিষ্কার করতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবেই হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► প্রজাতন্ত্রের জনসাধারণ স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত। অপশক্তির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা হয়েছিল শান্তিতে নির্ভাবনায় দিন যাপন করার জন্য। দুর্ভাগ্য, দুর্বৃত্তের নির্যাতনে শোষণে জনসাধারণের দীর্ঘশ্বাস বইছে। ঠিকাদারি থেকে শুরু করে এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে লোভ-লালসার ছাপ নেই; ক্ষমতার অপব্যবহার নেই। সরকারপ্রধান প্রজাতন্ত্রের মানুষের সুখ-শান্তির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন—এই সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ কথা সত্য, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে কুৎসিত মনোভাবাপন্ন সুযোগসন্ধানী স্বার্থ হাসিল করা যে অমানুষগুলো বিচরণ করছে, তাদের উত্খাত করা ক্ষমতাসীন দলের নৈতিক দায়িত্ব। জাতির জনকের কন্যাকে শুদ্ধি অভিযানের রশিটা নিজ হাতে শক্ত করে ধরে রাখতে হবে; হাতছাড়া করলে সর্বনাশ। তাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত রাখতে হবে শুদ্ধি অভিযান।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। প্রশাসনকে রাজনৈতিক দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলসহ যারাই অপরাধ করুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর কোনো মন্ত্রী-এমপি যেন হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে জন্য নিরপেক্ষ মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ যেন আলাদাভাবে কাজ করতে পারে, সে ব্যাপারে সঠিক উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে।

মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক আজিম

নওদাপাড়া, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।

 

► রাজনীতিবিদ, দলীয় নেতাকর্মীরা রাজনীতি করতে এসে দুর্বৃত্তায়নে জড়িয়ে পড়ছেন। দেশের সব কটি রাজনৈতিক দল দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি করছে, যা সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় দলীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা যেতে পারে। নইলে রাজনীতিতে শঙ্কা বাড়তে পারে। সব রাজনৈতিক দলে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন বেড়ে গেলে আমরা দেশের মানুষ ভালো থাকব না। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। এ জন্য রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে দুর্বৃত্ত আর দুর্বৃত্তায়ন যেন দলে জায়গা না পায়।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকে বের হতে হবে। যখনই সরকার সফলতার দেখা পায় তখনই এক দল নেতা-এমপি-মন্ত্রী অপকর্মে লিপ্ত হয়ে সরকারের অর্জনকে খাটো করেন। ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশও বড় এক সমস্যা। অনুপ্রবেশকারীরা দলকে ডোবাচ্ছে। তাদের যারা মদদ দেয়, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। দলে সংস্কারও করতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► সব দলেই এক অবস্থা। সততাই পারে রাজনীতিকে রক্ষা করতে। প্রধানমন্ত্রী যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► রাজনীতিতে অর্থের সমাগম সামরিক আমলে প্রথম দেখা গেলেও নির্বাচনী গণতন্ত্রের আমলে তা নতুন মাত্রা লাভ করেছে। মাস্তানরা রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন বাড়ছে। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, মাস্তান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আঁতাত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পাকাপোক্ত হয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার কারণে রাজনীতিবিদরা তরুণ প্রজন্মের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কিভাবে চলবে, তা তরুণ প্রজন্মের সচেতনতার ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সমাধান যে অসম্ভব নয়, এটা সবাই জানে। এ জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই বিদেশিদের পরামর্শ। দেশের সাধারণ নাগরিকের দাবিই যথেষ্ট। আর তা হলো জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশাকে অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। ক্ষমতার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদ আহরণের প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে, তা দূর করতে হবে।

এ কে এম আলমগীর

ওআর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে। কখনো কম, কখনো বেশি। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুকন্যা সময়মতো ব্যবস্থা ঠিকই নেবেন, নিচ্ছেনও। নিজ দলে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। হাইব্রিড নেতাদের রুখতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► দুর্বৃত্তদের কোনো দেশ নেই, জাতি নেই, কোনো ধর্ম নেই। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা স্বার্থান্বেষী। নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে তারা যেকোনো কাজ করতে রাজি। তারা রাজনীতিকে কুক্ষিগত করে দেশের বিরাট ক্ষতি করে। তবে বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের জোরালো অভিযানে তাদের নাজেহাল অবস্থা। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হলে সর্বাগ্রে ক্ষমতাসীন দলকে তাদের প্রতিহত করতে হবে। দল যেন তাদের আশ্রয়স্থল না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দুর্বৃত্তদের পেছনে রাঘব বোয়ালদের হাত থাকে। তথাপি আমরা আশাবাদী, যেভাবে তাদের দমন করা হচ্ছে, তাতে একদিন দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবেই।

মো. আব্দুস সালাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► সরকার এখন যেভাবে কাজ করছে, সেটা অব্যাহত থাকলে রাজনীতি শুদ্ধ হবে। সব দলকে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে।

মোহনলাল দাস

কুলিয়ার চর, কিশোরগঞ্জ।

 

► রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন যেভাবে বেড়ে চলেছে, রাজনৈতিক বৃত্তে এই দুর্বৃত্তায়ন কখনোই হিংসামুক্ত হতে পারে না। বাংলাদেশের কোথায় কী হচ্ছে, কোথায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ কিংবা মূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কী পরিমাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন তার পুরো খবর রাখা সম্ভব নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে। তবে তিনি চেষ্টা করেন খবর রাখার। তাঁর আশপাশের কিছু মানুষের কাছ থেকে জেনে যান ঠিকই। ভাবা যায়! কমিটি করে দেওয়ার এক বছরের মাথায় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের এই দুরবস্থা! প্রধানমন্ত্রী এও বুঝে গেছেন, টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় অনেকের ভেতর ভাব এসে গেছে। অনেকের ব্যাপারে আকারে-ইঙ্গিতে বলেছেনও ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের গডফাদারদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। দলে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন কখনো শুভকর নয়। এর বলয় থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সরকার, রাজনৈতিক দল, জনগণ সবাইকে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, রংপুর।

 

► বেশির ভাগ মানুষ রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে। কেউ রাজনীতিকে তাদের বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিরাপত্তা হিসেবে গ্রহণ করে। রাজনীতিতে এখন এসবই আছে, নেই শুধু দেশপ্রেম। দুর্নীতি আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে। সরকারি কর্মচারীরা যখন দুর্নীতি করেন তখন তাঁরা রাজনীতিকদের সঙ্গে নিয়েই করেন। এর প্রতিকার করতে হলে যাঁরা ব্যবস্থা নেবেন, তাঁদের প্রথমে বিশুদ্ধ হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই নোংরা রক্তচোষা পরিস্থিতি কখনোই পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ রাব্বানী, শোভনদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টিই প্রমাণ করে তাঁর ভেতরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রয়েছে। নেতাকর্মীরা মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে, অথচ তাঁরা বঙ্গবন্ধুর আমানত এই দেশ, এই রাষ্ট্রকে শুষে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখুন। তবেই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন কমবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► সৎ, আদর্শবান, জনকল্যাণে নিবেদিত রাজনীতিবিদের আজ বড়ই অভাব। রাজনীতিবিদদের মধ্যে বোধ হয় ৩০ শতাংশ নেতাকর্মী ভালো আছেন এখন পর্যন্ত। বাকিরা এসেছেন মধু খেতে। তাঁরা এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে জড়িত নেই। রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই এখন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ভেজাল মেশানো, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ যত রকমের অপরাধ আছে তার সঙ্গে জড়িত। অপরাধীরা রাজনীতিতে জড়িয়ে আছে বলেই ব্যাপকভাবে চলছে লুটপাট ও দুর্নীতি। রাজনীতির এই দুর্বৃত্তরা সময়ে সময়ে লেবাস বদলায়। তাদের কঠোর হাতে দমন করা জরুরি। সৎ ও আদর্শবানরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি থেকে দুর্বৃত্তদের নির্মূল করুন। দেশের স্বার্থে, দেশের উন্নয়ন ধরে রাখার স্বার্থে রাজনীতি থেকে দুর্বৃত্তদের বিদায় করতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা