kalerkantho

সব মহলের সহযোগিতায় ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সব মহলের সহযোগিতায় ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে

ঈদ যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। কষ্ট স্বীকার করে হলেও মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চায়। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও চালকদের সতর্ক থাকতে হবে। সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের। সেই সঙ্গে যাত্রীসাধারণকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবার সক্রিয় সহযোগিতায় ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব। কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের কাছ থেকে ই-মেইল ও টেলিফোনে পাওয়া মন্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো

 

►    ঈদ যাত্রা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এটা বেশ জটিল কাজও। তবে আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে ঈদ যাত্রা সহনীয় করা সম্ভব। প্রশাসন, গাড়ির চালক ও হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সজাগ থাকতে হবে। মহাসড়ক থেকে হাট-বাজার, চাঁদাবাজি, অবৈধ গাড়ি দূর করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►    ঈদ উৎসবে মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। সুযোগটি কাজে লাগায় কালোবাজারিরা। তিন গুণের বেশি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। কালোবাজারিদের বেশির ভাগকেই দেখা যায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে। বড় টার্মিনালগুলোতে দালালদের খপ্পরে পড়তে হয়। রাস্তায় আটকে যাত্রীদের টাকা পকেটে হাতিয়ে নিয়ে তাদের হয়রানি করাই তাদের পেশা। ঈদে অনেকেই অনেক টাকা-পয়সা নিয়ে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হয়। কিন্তু ডাকাত কিংবা চোরের খপ্পরে পড়ে সবস্ব হারাতে হয়। এ রকম কর্মকাণ্ড এড়াতে বড় বড় টার্মিনালে পুলিশ, র‌্যাবের বুথ স্থাপন করতে হবে, যাতে তাত্ক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়।

আশিকুর রহমান সবুজ

শ্রীপুর, গাজীপুর। 

 

►    ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেক কষ্ট সহ্য করে মানুষ গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের যে অবস্থা, তাতে কষ্টের সীমা আরো হাজার গুণ বেড়ে যায়। ঈদের সাত দিন আগে থেকেই যানজট শুরু হয়ে যায়। এতে জনগণের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এ জন্য মহাসড়কের দিকে সর্বদাই নজর রাখতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সড়ক ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনমতো নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করতে হবে। তাহলে সব সড়কের অবস্থাই ভালো থাকবে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না।

নৌশিন নাওয়াল সুনম

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►    ঈদ শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নাড়ির টানে মানুষ ছুটে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বাড়ি ফেরার সে যে কী আগ্রহ ও ব্যাকুলতা, বলে বোঝানো কঠিন। মানুষ ছুটে চলে তার আপন ঠিকানায়, আপন সত্তায় মাটির টানে, নিজ ঠিকানায়। আর এই আনন্দের যাত্রায় কিছু সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োগ আপনার যাত্রাকে করতে পারে আরো উপভোগ্য। হোক ট্রেন, বাস বা লঞ্চ; গাদাগাদি করে চড়তে যাবেন না। অতিরিক্ত ভার বহন করতে যাওয়াটা বেশ ঝুঁকির।

লিপি রহমান

বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►    রাস্তাঘাট গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত রাখতে হবে। রেলপথে বা সড়কে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফিটনেসহীন বাস-লঞ্চ চলতে দেওয়া যাবে না। ভাড়া-সন্ত্রাস, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

রূপসী বাজার, ভাঙ্গুরা, পাবনা।

 

►    সড়ক, রেল ও নৌপথে জনগণের ঈদ যাত্রা মোটেও নির্বিঘ্ন নয়। এ অবস্থায় উক্ত নৌ, সড়ক ও রেল সংস্থা, সব মালিক সমিতি, স্টেশন স্ট্যান্ড ও ঘাট সমিতি, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবার সতর্ক পদক্ষেপ এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সব সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করে যাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথ নির্বিঘ্ন ও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, সমস্যা থাকলে সমাধানেরও পথ থাকে। শুধু আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলেই সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

উত্তরা, ঢাকা।

 

►    ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ঈদ যাত্রার এক-দুই মাস আগেই সরকারের পক্ষ থেকে  প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের এক মাস আগেই ঈদে চলাচলের উপযোগী গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে তালিকা করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নম্বর দিয়ে দিতে হবে। রাস্তাঘাটের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বাস-ট্রেনসহ সব পরিবহনের টিকিটের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলে অরাজকতা কমবে। নাগরিকদের সচেতনতা, কার্যকর অংশগ্রহণ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

►    ব্যস্ততম কর্মজীবনের তাগিদে জায়গা করে নিতে হয় শহর-বন্দর-নগরে। আর ঈদের ছুটিতে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ছুটে চলে অদম্য উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে। আর স্বজনরাও অধির আগ্রহে পথ চেয়ে বসে থাকে প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার আশায়। এই আগ্রহ-উদ্দীপনার মধ্যেই করে বসে বড় ভুল, গ্রহণ করে নানা ভুল পদক্ষেপ। ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তটা অক্ষুণ্ন রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

শাহরিয়ার রাসেল।

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►    প্রশাসন কর্তৃক আইন প্রয়োগ করা হয় যাত্রীসাধারণের সুবিধার জন্য, আইন প্রয়োগকারীর হাত পড়ে না মূল জায়গায়। পরিবহন মালিকদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঈদের আগে মতবিনিময় করতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চয়ই একটা পথ বেরিয়ে আসবে। উভয় পক্ষের সেই মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। বাস ও ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি, ধীরগতিতে ট্রেন চলা, কোথাও আছে জলমগ্ন পথ, ভাঙাচোরা পথ, গাড়ি ঘন ঘন গতিহীন হয়ে পড়ে; আছে জলজট, যানজট—সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও শিশু যানজটে অবর্ণনীয় কষ্ট পায়, যা বর্ণনাতীত। কোথাও যাত্রীসাধারণের শান্তির যাত্রা নেই। দীর্ঘদিন পর পরিবার-পরিজনের সামনে ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেয় যাত্রাপথে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী গণপরিবহন। বাস মালিক তথা গণপরিবহনের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ঈদ যাত্রা শুভ হোক।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

পশ্চিম টেংরী, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►    ঈদ উৎসব ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে তোলে। সম্প্রদায়গত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে জাতপাতের বিচার না করে পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাই মিলেমিশে হৃদয়বৃত্তির অনুশীলন করে একাত্মতা ঘোষণা করি। ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে আন্তরিক হতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে  সম্মিলিতভাবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ভোগান্তির শেষ নেই ঘরেফেরা মানুষের। পথের যাত্রীসাধারণ নির্বিঘ্নে ঘরে পৌঁছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ উদ্যাপন যাতে করতে পারে, সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন যেন তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো রকম গাফিলতি না করে। ট্রফিক পুলিশ তথা পুলিশ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীসাধারণকে রক্ষা করতে পরিবহন মালিক সমিতির কাজ হবে দক্ষ চালকের হাতে পরিবহন তুলে দেওয়া। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে মেঘমুক্ত আকাশের নিচে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হোক।       

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    সড়ক ও মহাসড়কে লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি চলতে দেওয়া যাবে না। ঈদে অনেকে বেশি ভাড়া নেয় এবং হয়রানি করে। এসব বন্ধে অভিযান চালাতে হবে। লঞ্চপথে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা যাবে না।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

►    ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক আইন সবাইকে মেনে চলতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ ও গাড়ির চালকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ঈদ যাত্রায় কোনো দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কাম্য নয়। প্রশাসনেরও বিশেষ নজর থাকা দরকার।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের বিশেষ ভূমিকা থাকতে হবে। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করবেন না।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►    ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে করণীয়—সড়ক সংস্কার করতে হবে, মহাসড়কে পশুর হাট ও দোকান রাখা যাবে না, মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি বন্ধ করতে হবে, লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি বন্ধ করতে হবে, গাড়ি চালানোর সময় চালক যেন ফোনে কথা না বলে, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা যাবে না, আর হাইওয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

►    ঈদে মানুষের বিড়ম্বনা নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। মানুষকে পড়তে হচ্ছে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের কবলে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই কাজে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করছে। তারা ধরা পড়ছে, সাময়িক শাস্তি হচ্ছে, আবার বের হয়ে একই কাজ করে যাচ্ছে। এর থেকে নিস্তার পেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একমাত্র ভরসা। এদের নির্মূল করতে পারলে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেনের বগি ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। লঞ্চের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। টিকিট কালোবাজারি রোধ করতে হবে।

সাদিয়া আফরোজ মরিয়ম

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

►    লঞ্চে, বাসে, ট্রেনে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। লঞ্চসংশ্লিষ্ট কিছু লোক আগেই কেবিন বুক করে রাখে, পরে বেশি দামে যাত্রীদের কাছে ছেড়ে দেয়। অনেক সময় ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে গিয়ে মাঝনদীতে অপেক্ষমাণ থাকে এবং ছোট নৌযান দিয়ে সেখানে যাত্রী তোলা হয়। এসব বন্ধ করতে হবে। নৌ পুলিশকে তৎপর থাকতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

►    ব্রিজ, কালভার্ট বন্যার জলে ডুবে গিয়ে আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে গণপরিবহনের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে। যাত্রীদের বলছি, পথে কখনো অন্যের দেওয়া কিছু খাবেন না। অতিরিক্ত উপার্জনের আশায় নির্ধারিত আসনের অধিক যাত্রী তুলে তাদের ঝুঁকির মাঝে ফেলবেন না। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

►    সরকারি তৎপরতা ও পরিবহনসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের আদেশ কার্যকর করার অভাবে ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তি হয়। সড়কের সেই পুরনো চেহারা। সড়কের পাশে পশুর হাট বসিয়ে, উচ্চপদস্থদের জন্য ট্রাফিক নিয়মে ব্যত্যয় ঘটিয়ে অবস্থা আরো খারাপ করে তোলা হয়; যানজট, ফেরিজট বাঁধানো হয়। এসব ব্যত্যয় বন্ধ করতে হবে।

কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

মীরকাদিম, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    এবার ঈদের যাত্রীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। তাই বাস, রেল, লঞ্চ ইত্যাদিতে যাত্রীদের মশার কামড় থেকে রক্ষার জন্য মশার ওষুধ স্প্রে করতে হবে। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা যাত্রীদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে। বাসের সহকারী, ট্রেনের অ্যাটেনডেন্টদের একটু বাড়তি সার্ভিস দিয়ে যাতায়াত আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে হবে। পকেটমার, ধুতুরা খাওয়ানি পার্টি ও মোবাইল চোরদের থেকে যাত্রীদের রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। মাইকে ও টেলিভিশনে যাত্রীদের সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সিসি ক্যামেরার সাহায্যে যাত্রীদের যাতায়াত পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। ঈদ যাত্রা আনন্দময় হবে বলে আশা করি।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►    প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গাড়ির বেপরোয়া গতির কারণে অনেক প্রাণহানি ঘটে। বিভিন্ন উৎসবের সময় বাড়িমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। এ সুযোগে শহর সার্ভিসের গাড়িও হাইওয়েতে প্রবেশ করে। এসব গাড়ি মহাসড়কে চলার উপযোগী নয়। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

মো. ফজলুল করিম

বারইয়ারহাট পৌরসভা, মিরসরাই, চট্টগ্রাম। 

 

►    ফিডার রোড থেকে মহাসড়কে অল্প গতির যানবাহন না ওঠা, সড়কের পাশ থেকে বাজার দূরে সরিয়ে নেওয়া, যেসব স্পটে যানজট হয় সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্রেনের ব্যবস্থা রাখা, বাস টার্মিনালসহ মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা রাখা, মহাসড়কে লক্কড়ঝক্কড় বাস চলতে না দেওয়া, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ-স্টিমার নৌপথে চলতে না দেওয়া, নদীপথ ঝুঁকিমুক্ত রাখা, রেলপথে যাত্রী বিড়ম্বনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া ও রেলের শিডিউল ঠিক রাখতে পারলে ঈদ যাত্রা নিরাপদ হবে। 

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

►    প্রতিবারই ঈদের সময় নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়কের আশ্বাস দেওয়া হয় সড়ক বিভাগ থেকে। বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও যাত্রীদের অভয় দেওয়া হয়। এবারও যথারীতি আশ্বাস মিলেছে। তার পরও সড়কের চিত্র অন্যান্য বারের মতোই নাজুক! কোনো কোনো এলাকায় বরং বেশি খারাপ। বছরে দুটি ঈদে আত্মীয়-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে উৎসবের জন্য লাখ লাখ মানুষ যাওয়া-আসা করবে—এটাই স্বাভাবিক। সরকার, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের এটি অজানা থাকার কথা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাই বেশি কাম্য।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►    ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক, এটা আন্তরিকভাবেই চাই। ঈদুল আজহা দোরগোড়ায়। রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে এরই মধ্যে। সবার যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক। দুর্ভাগ্যজনক যে এ আশা পূরণ হয় না। বেশির ভাগ মহাসড়কের অবস্থা নাজুক। এবার যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। তার পরও ঈদ যাত্রা আনন্দময় হোক।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

►    সময়ের চেয়ে জীবন বড়—এ কথা মাথায় রেখে চলতে হবে। রাস্তা পারাপার, ফেরি পারাপার ও লঞ্চ পারাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। জনবহুল শহরগুলোতে যানজটের সমস্যা থাকে; সুস্থিরভাবে চলতে হবে। ড্রাইভারদের সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। হাইওয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।

শায়লা সারমিন রিমা

কাজুলিয়া, গোপালগঞ্জ।

 

►    ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, নছিমন-করিমন, ইজি বাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারি ও প্যাডেলচালিত রিকশার পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করতে হবে। তাহলে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকা জরুরি।

মো. তারিফ হাসান

মাগুরা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী। ।

মন্তব্য