kalerkantho

আতঙ্ক নয়, সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



আতঙ্ক নয়, সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। অথচ একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। মানুষের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকরাও সে কথা বলছেন। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরাও চিকিৎসার পাশাপাশি সতর্কতা ও সচেতনতার পক্ষে মত দিয়েছেন। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া পাঠক মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

► ডেঙ্গু এক মহা-আতঙ্কের নাম, যা ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু আতঙ্কের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন যেন ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। জনতার তা বোধগম্য নয়। বাঙালি আবেগী জাতি, তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সাহসী। সচেতনতা ও মনোযোগী মনোভাব থাকলে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, বাড়িঘরে এবং বাড়ির আশপাশে যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন থেকে পাঁচ দিন পর পর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। ঘরে ও বাথরুমে কোথাও জমানো পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের অ্যাকোয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

নৌশিন নাওয়াল সুনম

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► বছরব্যাপী রাস্তা ও ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে পরিকল্পনামতো কাজ করতে হবে। অভাবী মানুষের জন্য ডেঙ্গুর পরীক্ষা ফ্রি করে দিতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

ভাঙ্গুরা, পাবনা।

 

► ডেঙ্গু মশার বিস্তারে মানুষ মারা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ নিন। ওষুধ সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায়। ঘরে এবং আশপাশের যেকোনো জায়গায়, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা বা নারিকেলের মালা, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারি শেলে জমে থাকা পানি তিন দিন পর পর অপসারণ করতে হবে।

মিসেস লিপি রহমান

এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শহর-নগরের সব ড্রেন পরিষ্কার রাখতে হবে। দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের মশা নিধনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

রেজাউল করিম

কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

 

► যেসব পাত্রে পানি জমে সেসব নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে বা সরিয়ে ফেলতে হবে। পাড়া-মহল্লায় যুবকদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মশার প্রজননস্থলে ওষুধ ছিটাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইলহাম শরীফ

মধ্যম দক্ষিণ হালিশহর, চট্টগ্রাম।

 

► সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয় ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে। এডিস মশার কামড়ে এ রোগ হয়। তাই এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে হবে এবং এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ রোগের ভ্যাকসিন নেই, তাই মশার সংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ নষ্ট করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

জেসমিন নাহার রিমান

চাঁদপুর, চৌগাছা, যশোর।

 

► কথায় আছে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। মশা নিধন কর্মসূচি জোরদার করার মাধ্যমে জোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে মশার সম্ভাব্য সব আশ্রয়স্থল ও প্রজননক্ষেত্রগুলোতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে মশার জন্য অনুপযোগী করে তুলতে হবে। কার্যকর  কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারদিকের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ডেঙ্গুর উৎপত্তি ও বিস্তার বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। লিফলেট, পোস্টার, নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জনসচেতনতার ব্যবস্থা করা সম্ভব। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার পাঠ্য বইতে ডেঙ্গু ভাইরাসের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কার্যকর ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাপক হারে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হয়েছে বেশ কয়েকবার, এবার সবচেয়ে বেশি। এর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা, সেই সঙ্গে দরকার নিজেদের সচেতনতা। এডিস মশা নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন সচেতন হই এবং সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন করি।

তারিফ হাসান রিমান

মাগুরা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।

 

► ডেঙ্গু আজ প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এডিস মশা সার্ভেইল্যান্স নামের একটি প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল। এই প্রজেক্টটি এক বছর চলে সিটি করপোরশনে কিছুটা এডিস মশা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল, ১৪ জনের একটি টিম ছিল, যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করত যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব কোন জায়গায় কেমন আছে। যাই হোক, সিটি করপোরেশনকে একটি তথ্য দেওয়া হতো। এটাই একটা সুন্দর পদক্ষেপ ছিল, এক বছর পর সেই পদক্ষেপটি বন্ধ হয়ে যায়। ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নয়, রাষ্ট্রের জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার তথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাষ্ট্রের জনগণকে সতর্ক ও সচেতন করবে। সর্বোপরি পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এডিস মশার আবাসস্থল হলো বাড়ি, বাড়ির চারপাশে বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন, আর বিশেষ জায়গায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, যা সিটি করপোরেশন করেনি।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং মশা যেন কামড়াতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে এবং পাশাপাশি মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাড়ির আশপাশে জলাশয়, ঝোপঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি থাকলে তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘরের বাথরুমে বা অন্য কোথাও জমানো পানি যেন পাঁচ দিনের বেশি না থাকে। আবার ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার বা অ্যাকোয়ারিয়ামের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। দিনের বেলায় ঘুমালে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কোনো মশা তাকে কামড়াতে না পারে। দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এ রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই, তাই মশার সংখ্যা বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করা, মশার সংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস এবং মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা করণীয়—বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থানে ওষুধ প্রয়োগ করা, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ রাখা এবং বিনা মূল্যে রোগীদের সরবরাহ করা, ফুলের টব, ভাঙা কমোড, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলদানি, এসি, ফ্রিজের পেছনের পাত্র ইত্যাদিতে পানি জমতে না দেওয়া, দিনের বেলায় শোবার ঘরে মশারি ব্যবহার করা। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে রোগীদের চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং জনগণকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। 

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

► এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে ডেঙ্গুমুক্ত থাকা যাবে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তা নিয়ে সম্মিলিতভাবে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। নিয়মিতভাবে মশার ওষুধ ছিটালে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার বংশবিস্তার রোধ, কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ, মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো ইত্যাদি ব্যবস্থা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে ও মশার উৎপত্তি হতে পারে এমন সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

মো. জাকির হোসেন

চট্টগ্রাম।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি তৎপরতা আশানুরূপ নয়। প্রধানমন্ত্রীর এত উদ্বেগ, কিন্তু দেশের দায়িত্বশীল নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। কথা কম বলে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

মো. শাহাবুদ্দিন

চট্টগ্রাম।

 

► জ্বর মানেই ডেঙ্গু নয়। ভাইরাস জ্বর হতে পারে। বর্ষাকালে ভাইরাস জ্বর বেশি হয়। বেশির ভাগ জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে। তাই জ্বর হলেই অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। লক্ষণগুলো খেয়াল করতে হবে। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। ফুলের টব, এসির নিচে, গাড়ির টায়ারে কিংবা অন্য কিছুতে যেন পানি জমে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু নির্মূল করতে।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সারা দেশের বড় বড় নেতারা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশ নেন। তাঁরা ডেঙ্গু বিষয়ে নীরব কেন? জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবকদের পুরস্কৃত করতে হবে। এতে ভালো কাজ হবে।

কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

রিকাবি বাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

► রাস্তায়, ড্রেনে ড্রেনে কিংবা যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধুই চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ। হাট-বাজার থাকার পরও রাস্তা দখল করে সন্ত্রাসী দখলবাজরা বাজার বসিয়ে এখানে-ওখানে ময়লা পানি ও কত কী সব আবর্জনা ফেলে ডেঙ্গু মশার উৎপাদন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রাস্তাঘাট ও প্রতিটি এলাকা হকারমুক্ত করাসহ জরুরিভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► বাসার ফ্রিজের বা এসির পানি দুই দিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। বাসার বারান্দায়, টেরেস বা কার্নিশে খোলা টব থাকলে সেটা পরিষ্কার করতে হবে। রাস্তার আশপাশের খানাখন্দ ভরাট করে ফেলতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দিকে না তাকিয়ে পাড়া-মহল্লায় তরুণরা দল বেঁধে নিজেরাই নেমে পড়তে পারে এ কাজে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মচারী—সবাই মিলে অংশ নিতে পারেন। ডেঙ্গু হয়তো নির্মূল করা যাবে না, কিন্তু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

স্কুলপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াক। এ বিষয়ে সরকার, প্রশাসন ও সমাজের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► ফুলের টব, ডোবা, নালা পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও ডাবের খোসা, টায়ার বা পট, ভাঙা প্লেট পড়ে থাকলে তাতে পানি জমলে পরিষ্কার করতে হবে। এসব পরিত্যক্ত জিনিসে জমে থাকা পানিতেই মশার জন্ম হয়। এগুলো ধ্বংস করতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► মশক নিধন বা প্রজনন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা ভাবিয়ে তুলছে। আর রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার ডিপো তো আছেই। তা ছাড়া বাসাবাড়ির আনাচে-কানাচে, অলিগলিতে সর্বত্র অপরিষ্কার। সিটি করপোরেশনের তৎপরতা ও জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণাও জোরদার করা উচিত।

সুভাষ কান্তি বড়ুয়া

মিরপুর, ঢাকা।

 

► ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ ছিটিয়ে দিয়ে নিরাপদ বলয় তৈরি করতে হবে। সব এলাকায় সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► প্রতিটি জেলায় মশা নিধনে যে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ কাজে ব্যবহৃত হয়নি। নিম্নমানের ওষুধ দিয়ে মশা নিধন সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► সব দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড ও প্রতিষেধক সরবরাহ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকরা যেন ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেন, ফাঁকি না দেন।

শহীদুল মোড়ল

দাকোপ, খুলনা।

 

► সবার আগে সচেতনতা দরকার। আর পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তারি ফি আরো কমানো বা ক্ষেত্রবিশেষে ফ্রি করা দরকার।

আরিফুল ইসলাম বাবু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► সব হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার মেশিন দরকার। ঝিনাইদহে এখনো মেশিন আসেনি। প্রত্যেকের নিজ উদ্যোগে বাড়ি ও অফিসের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ওষুধ ছিটাতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগিয়ে তুলুন।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হচ্ছে এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সতর্কতা জরুরি। সচেতনতা এবং প্রতিরোধই হলো একমাত্র মুখ্য হাতিয়ার।

মো. ফজলুল করিম

বারইয়ারহাট পৌরসভা, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।

 

► ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঠিকভাবে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল কথা হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং যাতে কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ডা. ওয়াহিদুল ইসলাম 

উত্তরা, ঢাকা।

 

► প্রত্যেকের বাড়ির সামনে ও পেছনে সব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু সমস্যা দূর হবে এটাই আশা করি।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

মন্তব্য