kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল

শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। এই কারিগররা রাষ্ট্রে সবচেয়ে অবহেলিত ও মারাত্মক বেতনবৈষম্যের শিকার। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের, বিশেষ করে ইনডেক্সধারী শিক্ষদের বিএড স্কেল ও উচ্চতর স্কেল ছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পূর্ববর্তী সময়ে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট কেটে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাঁদের প্রাপ্য বেতনও অন্য শিক্ষকদের তুলনায় কমে যাচ্ছে। আমাদের দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি, যার বেশির ভাগই আবার এমপিওভুক্ত। উন্নত দেশগুলোতে যেখানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি সন্তোষজনক। আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি অফিসের একজন ছোট পদধারীর চেয়েও কম, যা দিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে চলা অত্যন্ত কষ্টকর। অথচ ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে সর্বস্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মাত্র এক হাজার টাকা, যা দিয়ে বাড়িভাড়া তো দূরে থাক, বর্তমানে একটি কুঁড়েঘরও ভাড়া পাওয়া যায় না। চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা, অথচ বর্তমানে একজন সিনিয়র ডাক্তার দেখানোর ফি জনপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এর সঙ্গে আছে রোগনির্ণয় পরীক্ষা ও ওষুধপথ্য কেনা। উৎসব ভাতা কর্মচারীরা পান বেসিকের ৫০ শতাংশ আর শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫ শতাংশ। একই দেশে দুই ধরনের নিয়ম কেন? শিক্ষকরা যদি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে তাঁরা কিভাবে ক্লাসে মন দেবেন? দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের ভালো বেতন দেওয়ার বিকল্প নেই। সুতরাং সর্বস্তরের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু করে অবহেলিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

মো. মোশতাক মেহেদী

সহকারী প্রধান শিক্ষক, বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।



সাতদিনের সেরা