kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাবার কাঁধে সন্তান খুনের বোঝা কেন

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবার কাঁধে সন্তান খুনের বোঝা কেন

সবচেয়ে ভারী বোঝা নাকি বাবার কাঁধে পুত্রের লাশ। কিন্তু যে বাবা নিজেই শিশুপুত্রের হন্তারক, তিনি কিভাবে সন্তানের লাশটি বহন করতে পারেন? তার কাঁধ কতটা ভারী হয়ে ওঠে নিষ্ঠুরতম এই অপরাধ কিংবা পাপের ভারে? মায়ের কোলের ওমে স্বর্গীয় আভা মেখে নিশ্চিন্ত ঘুমিয়ে ছিল যে শিশুটি, কোন দানবীয় শক্তিবলে হন্তারক বাবা তাকে নিয়ে গিয়েছিল জ্যোত্স্নায় ভাসতে থাকা কদম্বতলে? জবাই করতে! মনে মনে ভাবি কদম্ব ডাল কি তখন প্রতিবাদ করেনি? প্রতিবাদ উঠেছে সর্বত্র; ধিক্কার, আতঙ্ক আর বিভীষিকাময় প্রবল স্রোতে গত কয়েক দিন সামাজিক মাধ্যমসহ সব মিডিয়ার পরিসর ভেসে গেছে। অন্যের প্রতি ক্রোধ ও আক্রোশ, জিঘাংসা ও ঘৃণা কতটা প্রবল হলে, প্রতিশোধের বাসনা কত তীব্র হলে একজন বাবার সন্তান খুন করতেও হাত কাঁপে না? এত দিনে যা জেনে এসেছি, ইসলামের নবী ইবরাহিম আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে তাঁর পুত্রকে কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আল্লাহ ইবরাহিমের আনুগত্যে খুশি হয়েছিলেন বটে, কিন্তু নিজের সন্তুষ্টির জন্য এই বর্বর কাণ্ডটি ঘটতে দেননি! কিন্তু এটি তো তা নয়, এটি তো প্রেম নয়, এটি জিঘাংসা, প্রতিশোধের বাসনা! শিশুটির মৃতদেহের ওপর নৃশংসতার যেসব চিহ্ন আঁকা হয়েছে, তা বুক হিম করে দেওয়ার মতো ঘটনা। শিশু তুহিনের ঝুলন্ত লাশটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে অতিসংবেদনশীল অনেকেই এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছে, অস্থিরতায় ছটফটও করেছে কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড অসহায়, হতাশ ও বিধ্বস্ত বোধ করেছি আমি নিজেও। ত্রাস, সন্ত্রাস ও সহিংসতার এ রকম প্রকট প্রদর্শনী দেখতে দেখতে পুরো জাতি গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তায় ডুবে যাচ্ছে দিন দিন। একটির পর একটি নৃশংস হত্যা, ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, গুম, বিচারহীনতা, দুর্নীতি, প্রকৃতি ধ্বংস, অবাধ লুটপাট ও গুণ্ডাতন্ত্রের একচেটিয়া আধিপত্য দেখতে দেখতে আমাদের অনুভূতি ক্রমেই অবশ হয়ে আসছে। কিন্তু আমি মনে করি, এখন নিজের অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় এসেছে বোধ হয়। আমাদের সমাজের গভীর ক্ষতগুলো আমাদের চিনতে হবে, তা নিরাময়ে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে সবাইকে—এমনটিই প্রত্যাশা করি।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস ও ছাত্রী নিবাস, টাঙ্গাইল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা