kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কৃষকদের বাঁচান

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কৃষকদের বাঁচান

মরবে কৃষক ঠেকবে কৃষি, ভাত দেবে না তোমার ঋষি—কৃষিপ্রধান এই সোনার বাংলার প্রধান ফসল ধান। বেশির ভাগ কৃষকের জীবিকার একমাত্র উৎস ধান। সম্ভাবনাময় এই কৃষিজ সম্পদ অবহেলার সর্বশেষ দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রাত-দিন ঝড়-বৃষ্টি একাকার করে কৃষকের নিষ্পাপ স্বপ্নে ফলানো হয় সোনালি ফসল। কৃষকের কষ্টকে মূল্যায়ন না করার নাম কৃষি উন্নয়ন হতে পারে না। রাসায়নিক সার, সেচ, হালচাষ, শ্রমিক খরচ বাদ দিলে প্রতি মণ ধানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লোকসান। ধান কাটার জন্য কাঠাপ্রতি একজন শ্রমিক মূল্য নিচ্ছে ৯০০ টাকা। আর ৯০০ টাকার জন্য কৃষকের ধান বিক্রি করতে হয় দুই মণ। কাঠাপ্রতি ধান পাঁচ-ছয় মণের বেশি হয় না। পানির চেয়ে সস্তা ধান। বাজারে এক হালি লেবুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা, এক হালি ডিম ৩০ টাকা, এক হালি কলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা; অথচ এক কেজি ধান মাত্র ১২ টাকা! এক কেজি গরুর গোশত কিনতে কৃষককে এক মণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি করতে হয়! কৃষকের এই দুঃখ দেখার কি কেউ নেই? কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এক কেজি চালের দাম ৩৫ থেকে ৬৫ টাকা। কৃষক ধান বিক্রি করে সংসার চালায়, সন্তানদের পড়াশোনা করায়। কৃষকের আয়ে কোনো দুর্নীতি নেই, কোনো উপরি পাওনা নেই, কোনো কারসাজি নেই। তবে কেন কৃষককে এভাবে মূল্যহীন করে দিয়ে অপমান করা হচ্ছে? অথচ কৃষকরাই বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের যত্নে ফলানো ফসল ১৮ কোটি মানুষের আহার। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেওয়া গেলে বাংলাদেশের মানুষেরই সুবিধা ও কল্যাণ হবে। এটা তাদের প্রাপ্যও। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি মনোযোগ আশা করছি।

আনারুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা