kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

সেন্ট মার্টিনসকে রক্ষা করুন

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেন্ট মার্টিনসকে রক্ষা করুন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস। স্থানীয় লোকজনের কাছে দ্বীপটি নারিকেল জিনজিরা বা জিনজিরা নামে পরিচিত। দ্বীপটির উপকূলীয় জলরাশিতে রয়েছে প্রবাল ও শৈবালের সুন্দর সমন্বয়, যা দেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না। এ ছাড়া স্থানীয় পাখি, পরিযায়ী পাখিসহ স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে দ্বীপটিতে। আরো রয়েছে চুনাপাথর, জীবাশ্মযুক্ত বেলেপাথর, বালুচর ও ঝিনুক পাহাড়। সেন্ট মার্টিনসে রয়েছে প্রবালপ্রাচীর, যা গঠিত হয়েছে এক ধরনের প্রাণীর শরীর থেকে। এসব সামুদ্রিক ঝড় থেকে রক্ষা করে উপকূলবাসীদের। সুনামি কিংবা জলোচ্ছাসের বিপরীতে প্রাকৃতিক দেয়ালের মতো কাজ করে। সেন্ট মার্টিনসের প্রবালপ্রাচীর আজ হুমকির মুখে। পর্যটকদের থাকার জন্য দ্বীপটিতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৮৮টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। এসব রিসোর্টের কোনো সুষ্ঠু পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। সেই সঙ্গে দ্বীপটিতে বাড়ছে বসতি স্থাপন। পরিবেশদূষণ বাড়ছে। এ ছাড়া পর্যটকদের পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি সেন্ট মার্টিনসকে করে তুলছে আরো দূষিত। প্রতিবছর প্রজনন ঋতুতে সেন্ট মার্টিনসের সৈকতে ডিম পাড়তে আসা কাছিম জেলেদের জালে আটকা পড়ে প্রাণ হারায়। রাতের বেলা পর্যটকদের জ-ালানো আগুনে সামুদ্রিক কাছিমের ডিম দেওয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে, যা সামুদ্রিক কাছিমের বংশবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনও প্রাকৃতিক বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে দ্বীপটিকে। ছেঁড়া দ্বীপে এখনো কিছু প্রবাল-শৈবাল থাকলেও অবাধ আহরণের কারণে শিগগিরই তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবে দ্বীপটি হারাতে বসেছে তার গৌরব। সেন্ট মার্টিনসকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আশা করছি।

মো. ইমরান হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা