kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

রাসায়নিক দ্রব্য সরাতে হবে

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিপদ যেকোনো সময় যে কারো হতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজনের বিপদ বা এক স্থানের বিপদ অনেকের বা অনেক স্থানের জন্য বিপদের কারণ হয়ে যাওয়া কাম্য নয়। নিমতলীতে যখন আগুন লেগেছিল তখন হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো; কিন্তু তা হয়নি অব্যবস্থাপনার কারণে। সরু রাস্তা, যেখানে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুল্যান্স চলাচল করতে পারছিল না ঠিকমতো। পরিকল্পিতভাবে সিঁড়ি তৈরি না করায় সেসব সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল; তাই লাশের বহর দেখতে হয়েছে আমাদের। নিমতলীর ঘটনা থেকে আমরা কোনো শিক্ষাই নিইনি। চকবাজারের ঘটনায় আমাদের নিমতলীর চেয়ে বেশি লাশ দেখতে হচ্ছে, অসংখ্য মানুষের আহাজারি শুনতে হচ্ছে। চকবাজারেও এতটা সরু রাস্তা যে রাস্তায় দুটি গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করতে পারে না। লক্কড়ঝক্কড় লিফট ও যেনতেন সিঁড়ি থাকায় উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন বারবার। যদি ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকত, প্রশস্ত রাস্তা ও সিঁড়ি থাকত, তাহলে আগুন এত মানুষকে কাঁদাত না। প্রায় বাসায় কেমিক্যাল গুদামজাত করা আছে। এতে প্রথমে আগুন সামান্য লাগলেও পরে কেমিক্যালের কারণে মুহূর্তেই তা অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে; মহাবিপদ ডেকে এনেছে। রাসায়নিক পদার্থ আজ নির্দিষ্ট স্থানে না থেকে বাসায় বাসায় তাদের স্থান হয়েছে। নিয়মানুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করলে আমরা অনেকে সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হই, আমাদের মনোবেদনা দেখে কোনো কোনো সময় সরকারের মহান উদ্যোগগুলো হোঁচট খায়। কিন্তু বিপদে পড়লে সরকারকে আমরা ছেড়ে কথা বলি না। এমন অসচেতন আচরণ ও মানসিকতা আমাদের বদলাতে হবে। অন্যথায় বারবার দুর্ঘটনা আমাদের কাঁদাবে এবং আমাদের আপনজনদের ছিনিয়ে নেবে। আসুন, আমরা পরিকল্পিত বাড়ি ও রাস্তা গড়ি। নিজেদের সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করি।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের, ঢাকা।

মন্তব্য