kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আমদানি কম হওয়ায় গমের দাম বাড়তি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমদানি কম হওয়ায় গমের দাম বাড়তি

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমলেও দেশের বাজারে এখনো এর প্রভাব পড়েনি। আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমেছে। তবে দেশে ডলারের দামে অস্থিরতা আছে। ঋণপত্র খোলায় ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এতে গমের আমদানি তুলনামূলক কম। ফলে দেশে গমের দাম কমছে না।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে প্রতি টন গমের দাম ছিল ৮৫২ মার্কিন ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর তা এক হাজার ২৪৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। দাম কমতে কমতে চলতি নভেম্বরে ৮২২ ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ যুদ্ধের সময়ের তুলনায় দাম কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

সরকারি-বেসরকারি হিসাবে, দেশে বছরে গমের মোট চাহিদা ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৬৫ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বাকিটা দেশে উৎপাদন হয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়। এর মধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে এসেছিল ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আর সরকারি উদ্যোগে এসেছিল পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টন।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গম আমদানি হয়েছে প্রায় ছয় লাখ ৮৯ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে আমদানি দুই লাখ ৩৯ হাজার টন। বেসরকারি উদ্যোগে এসেছে সাড়ে চার লাখ টন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গম আমদানির এই অবস্থা চলতে থাকলে বছর শেষে চাহিদা পূরণ হবে না। এ জন্য ঋণপত্র খোলা ও ডলারের জোগান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ভারতীয় গম ৯০০ টাকা ও কানাডার গম এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। যুদ্ধ শুরুর পর দাম বেড়ে গত মে মাসে ভারতীয় গম মণপ্রতি এক হাজার ৬৫০ টাকা এবং কানাডার গম দুই হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরও গত সোমবার সেই গম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮২০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক এটিআর ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগে ৩৭০ থেকে ৩৮০ ডলারে আমরা বুকিং দিয়েছি। এখন এটা ৪৩০ ডলারে বুকিং দিচ্ছি। এটা ঠিক যে তখন ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৮৫ টাকা ১৫ পয়সা। আর এখন ১০৬ টাকা। ফলে প্রতি ডলারে বিনিময়মূল্য বেড়েছে প্রায় ২১ টাকা। এই মূল্য স্থিতিশীল করা না গেলে বাজার স্থির করা যাবে না। ’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির জন্য আলোচনা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। কিন্তু ডলার নিয়ে চিন্তায় আছি। ’

ডলারের স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলো খাদ্যপণ্য আমদানিতেও ঋণপত্র খুলতে অনীহা দেখাচ্ছে উল্লেখ করে বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ডলারের স্থিতিশীলতা ও ঋণপত্র খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই দর ঠিক থাকলে অবশ্যই দেশে গমের দাম অনেক কমে আসবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নজরদারি করতে হবে, যাতে গমের সরবরাহ সংকট না হয়। তিনি বলেন, এখন খাতুনগঞ্জে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে গম বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। এর মূল কারণ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকা। ব্যবসায়ীদের নিশ্চয়তা দেওয়া গেলে সরবরাহ সংকট হবে না। আর সরবরাহ সংকট না হলে দাম বাড়বে না। তবে এটা ঠিক যে গমের দাম আগের অবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে গম বিক্রয়কারী তিনটি ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি মাসে গমের দাম গত ফেব্রুয়ারির চেয়ে কম। ফেব্রুয়ারির উদারহরণ টানা হচ্ছে, কারণ সেই মাসেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। নাসডাকের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে টনপ্রতি গমের দাম ছিল ৮৫২ ডলার; মার্চে সেটি ছিল এক হাজার ২৯৪ এবং মে মাসে এক হাজার ২৪৭ ডলার। আর এ মাসে ৮২২ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ট্রেড ইকোনমিকসের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে টনপ্রতি গম বিক্রি হয়েছিল ৭৯৪ ডলারে, মার্চে এক হাজার ২৫২, এপ্রিলে এক হাজার ২৭৭ এবং সর্বশেষ এ মাসে ৮০৩ ডলারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরেছে গমের আন্তর্জাতিক বাজার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গমের সরবরাহ নিয়ে যে অস্থিরতা কেটেছে, সেটি আন্তর্জাতিক বাজারের পড়তি দর দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মূলত ফুড করিডর দিয়ে ইউক্রেনের যে খাদ্য সরবরাহ শুরু হয়েছিল, এর প্রভাবেই দাম কমতে থাকে। সর্বশেষ রাশিয়া চুক্তি থেকে বের হলে আবারও কিছুটা দাম বাড়ে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া চুক্তি নবায়ন করলে দাম আগের চেয়ে কমে আসে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ আরএম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মাহমুদুল ইসলাম লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, চুক্তি নবায়নের পর গমের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু বেচাকেনা একেবারেই কম। বাজারে রাশিয়া, ইউক্রেন ও কানাডার গমের সরবরাহ আছে। এসব গমের দামের ব্যবধান কমবেশি ১০০ টাকার মধ্যে।

 



সাতদিনের সেরা