kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকৃতি

এশীয় দাগি প্যাঁচা

শাহ ফখরুজ্জামান   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এশীয় দাগি প্যাঁচা

দাগি প্যাঁচা। হবিগঞ্জ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এশীয় দাগি প্যাঁচা বাংলাদেশের স্থানীয় পাখি। তবে দেশের বেশি জায়গায় এর দেখা মিলবে না। বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর মূল আনাগোনা তথা নিবাস। নামে ‘দাগি’ হলেও এর সঙ্গে অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন

এই ‘দাগি’ অর্থ পাখিটির শরীর আড়াআড়ি দাগে (ইংরেজিতে বার) ভরা। ইংরেজি নাম তাই এশিয়ান বার্ড আউলেট।

এশীয় দাগি প্যাঁচার বৈজ্ঞানিক নাম  Glaucidium radiatum  । এই প্যাঁচা আকারে বেশ ছোট প্রায় শালিক পাখির মতো। দৈর্ঘ্য ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। গায়ের রং কালচে বাদামি। সারা দেহে আড়াআড়ি মেটে দাগ। বুক বাদামি আর পেট সাদাটে। চোখের পাশেও অনেকগুলো সরু দাগ। চোখ লেবু হলুদ। ফিকে জলপাই হলুদ পালকে ঢাকা পা।

এশীয় দাগি প্যাঁচা শরীর কাঁপিয়ে ডাকে ‘ট্রররররররর’ আওয়াজ করে। হুতুম প্যাঁচার ডাক শুনতে অদ্ভুতুড়ে হলেও এই প্যাঁচার ডাক শুনতে মন্দ নয়। প্যাঁচাদের মধ্যে এই প্রজাতিটি দেখতেও বেশ সুন্দর।

হবিগঞ্জের সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা জাতীয় উদ্যানসহ সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের চিরসবুজ বন এ প্যাঁচার আবাস।

সারা বিশ্বে ২৫০ প্রজাতির প্যাঁচা রয়েছে। এশীয় দাগি প্যাঁচাসহ বাংলাদেশে রয়েছে ১৯টি প্রজাতি।

ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে এই প্যাঁচা বসবাস করে। এটি উত্তর-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে দেখা যায়। আইইউসিএনের মতে, পাখিটি লাল তালিকাভুক্ত বিপন্ন।

এশীয় দাগি প্যাঁচা দিনের বেলা শিকার করে। ভোরবেলা এবং সূর্যোদয়ের কয়েক ঘণ্টা পর এরা বেশি সক্রিয় থাকে। পাহাড়ি বনেই এদের মূল অবস্থান হলেও অনেক সময় লোকালয়েও থাকে। ফড়িং, বড় পোকামাকড়, টিকটিকি, ইঁদুর এবং ছোট পাখি খেয়ে থাকে এরা। এপ্রিল ও মে মাসে এ প্যাঁচার প্রজনন মৌসুম। গাছের গুঁড়িতে কাঠঠোকরার তৈরি গর্ত দখল করে এরা বাসা বানায়। সাধারণত এই প্যাঁচা চারটি ডিম পাড়ে।



সাতদিনের সেরা