kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

গাম্বিয়ায় ৬৬ শিশুর মৃত্যু

৪ ভারতীয় কফ সিরাপ নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৪ ভারতীয় কফ সিরাপ নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা

পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়ায় বেশ কিছু শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে তৈরি চারটি কাশির সিরাপের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। নিজেদের ওয়েবসাইটে বৈশ্বিক সংস্থাটি বলেছে, আফ্রিকার ৬৬টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ওই চারটি ওষুধের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, সিরাপগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি ওষুধগুলোর প্রস্তুতকারক ভারতের হরিয়ানার মেইডেন ফার্মাসিটিউক্যালস।

ডাব্লিউএইচওর কাছে সিরাপের সঙ্গে মৃত্যুর বিষয়টি জড়িত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন ভারতের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

তবে বিষয়টি নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মেইডেন ফার্মাসিটিউক্যালসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ডাব্লিউএইচও চিহ্নিত ওই চারটি কাশির সিরাপ হলো প্রমেথাজিন ওরাল সলিউশন, কোফেমক্সালিন বেবি কফ সিরাপ, মাকফ বেবি কফ সিরাপ ও মাগ্রিপ এন কোল্ড সিরাপ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গবেষণাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করে ওই ওষুধগুলোতে ‘অগ্রহণযোগ্য মাত্রায়’ ডায়েথিলিন গ্লাইকল এবং ইথিলন গ্লাইকলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। উপাদান দুটি মানবদেহের জন্য বিষাক্ত। এগুলোর কারণে ‘পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, প্রস্রাব করতে না পারা, মাথা ব্যথা, মানসিক অবস্থা বদলে যাওয়া এবং কিডনির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

ভারতীয় সূত্রের দাবি, ওষুধ চারটি শুধু গাম্বিয়ার বাজারেই রপ্তানি করেছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে সেগুলো ‘কালোবাজারের মাধ্যমে অন্য দেশ বা অঞ্চলেও চলে গিয়ে থাকতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডাব্লিউএইচও। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, একই ধরনের দূষিত উপাদান অন্য পণ্যে ব্যবহার করার মাধ্যমেও ক্ষতিকর ওষুধ ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে’ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হঠাৎ করেই সম্প্রতি গাম্বিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে কিডনিজনিত রোগের ঘটনা বেড়ে গেছে। এরই জেরে অনুসন্ধানে ওই চারটি ওষুধ শনাক্ত হয়। এর পর থেকেই গাম্বিয়া সরকার সব ধরনের প্যারাসিটামল সিরাপের ব্যবহার স্থগিত করেছে। এ ছাড়া দেশের লোকজনকে সিরাপের পরিবর্তে ট্যাবলেট গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গাম্বিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিজেরা এখনো শিশু মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তারা শুধু বলেছে, গত মাসে ‘কয়েক ডজন’ শিশু মারা গেছে।

গত বুধবার জেনেভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ডাব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেছেন, ‘কচি প্রাণের এই ক্ষতি তাদের পরিবারের জন্য হৃদয়বিদারক ঘটনার চেয়েও বেশি কিছু। ’ সূত্র : বিবিসি।

 

 



সাতদিনের সেরা