kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজ মহানবমী

কুমারীপূজায় মণ্ডপে-মন্দিরে ভক্তের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমারীপূজায় মণ্ডপে-মন্দিরে ভক্তের ঢল

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে গতকাল রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর মহাষ্টমীর অন্যতম আয়োজন কুমারীপূজা হয়নি। তবে এবার এই পূজা ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল নানা আয়োজন। এই আয়োজন ঘিরে গতকাল সোমবার কুমারীপূজায় ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

ভক্তরা কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন।

বিজ্ঞাপন

দেবী দুর্গাকে সম্মান জানাতেই মহাষ্টমীতে আয়োজন করা হয় কুমারীপূজার। ভক্তদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল হবে।

রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে গতকাল সকাল ১১টায় কুমারীপূজা শুরু হয়। পূজার আয়োজকরা জানান, এবার কুমারীপূজায় ছয় বছর বয়সী বালিকার পূজা করা হয়। তাকে ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এরপর তাকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে (১৬ উপাদান) দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মণ্ডপস্থল মুখর হয়ে ওঠে। পূজা চলাকালে ওই কুমারী ভক্তদের আশীর্বাদ করেছে। রামকৃষ্ণ মন্দির ছাড়াও গতকাল দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে-মন্দিরে কুমারীপূজার আয়োজন ছিল।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নী রূপে বা সহকারিণী রূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমাময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই মহাষ্টমী তিথিতে জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই।

এ বিষয়ে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিতপূজা শেষ হয়। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে শুরু হয় সন্ধিপূজা, শেষ হয় ৪টা ৫৩ মিনিটে। সন্ধ্যায় ছিল আরতি। সারা দিনই চলে প্রসাদ বিতরণ।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দেবী দর্শনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকালে অষ্টমী পূজার পুষ্পাঞ্জলি শুরু হলে ভিড় বাড়তে থাকে। ফুলে-ফলে ভরে যায় মন্দির চত্বর। বাহারি সজ্জায় সাজানো হয়েছে পুরো ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ। পুরো মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ-আনসারসহ একাধিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও মণ্ডপে নানা অনুষ্ঠানের কারণে সারা দিনই ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল।

আজ মঙ্গলবার মহানবমী। সকাল সাড়ে ৬টায় নবমী পূজা শুরু হবে। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। ভক্তদের বিশ্বাস, মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। এদিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এই দিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। পরের দিন কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব। নবমী নিশীথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন, নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন। আগামীকাল বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

 



সাতদিনের সেরা