kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তুমব্রুতে আতঙ্ক ছাপিয়ে দুর্গাপূজার তোড়জোড়

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুমব্রুতে আতঙ্ক ছাপিয়ে দুর্গাপূজার তোড়জোড়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অশান্ত পরিবেশ পূজা উদযাপনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করছে স্থানীয় লোকজন। সীমান্তে বাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ।  

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী স্বশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এখনো চলছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে তুমব্রুর বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকায় মর্টারের গোলার বিকট শব্দ শোনা গেছে। সেখানকার মানুষের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি এখনো। এর মধ্যেই পূজা উদযাপনে চলছে তোড়জোড়।

তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি রূপলা ধর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে রাতে ও দিনে যখন মিয়ানমারের মর্টারের  বিকট শব্দে পুরো তুমব্রু সীমান্ত আতঙ্কে ছিল, সে পরিস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা পালন নিয়ে আমরাও দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তেমন উত্তেজনা নেই। মাঝেমধ্যে দু-একটি গুলির শব্দ শোনা গেলেও আমরা তেমন আতঙ্কিত নই। তাই এবার তুমব্রু সীমান্তবর্তী দুুর্গাপূজা আমরা ব্যাপক উৎসহে পালন করতে পারব বলে আশা করছি। ’

রূপলা ধর বলেন, ‘তুমব্রুতে পূজা পালনে সামাজিক সম্প্রীতি  বেশ মজবুত। দীর্ঘদিন ধরে আমরা পূজা পালন করে আসছি, এতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কখনো সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়নি। এমনকি আমাদের মন্দিরের পাশেই ৫০ গজের মধ্যে মসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছি একে অন্যের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই। ’

তুমব্রু ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় বাজারসংলগ্ন মন্দির ঘিরে ১৭টি হিন্দু পরিবারে দেড় শতাধিক মানুষের বসবাস। তারা জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা মুসলিম হলেও হিন্দুরা এখানে কখনো পূজা পালন বা নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধাগ্রস্ত হয়নি।

হিন্দু নারী রাণী ধর বলেন, তুমব্রুতে জন্ম, ‘এখানেই বেড়ে ওঠা। আমার বয়স ৪০ পার হয়েছে। হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে খেলে, পড়ালেখা করে বড় হয়েছি। আমরা এখানে একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করি। ধর্ম ও উৎসব পালন নিয়ে কোনো মুসলিমের সঙ্গে কোনো সময়ে বাড়াবাড়ি হয়নি। এটিই তুমব্রুর সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় দৃষ্টান্ত। ’

তুমব্রু বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আজিম উদ্দীন বলেন, ‘মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও কারো ধর্ম পালনে অসুবিধা হয় না। তারা পূজা পালনের সময় বা অন্য যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে আজান ও নামাজের সময় তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখে। আমরাও আমাদের বেলায় তেমনটি করে থাকি। কেউ কারো প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করে না। ’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘আজ শনিবার থেকে তুমব্রু মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক, মর্টারের শব্দও কম শোনা যাচ্ছে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি একেবারে শঙ্কামুক্ত না হলেও আপাতত সময়ে হিন্দুদের পূজা পালনে তেমন সমস্যা হবে বলে মনে করছি না। ’ 

 



সাতদিনের সেরা