kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ঘরের শিক্ষকও সংখ্যায় কম

শরীফ শাওন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ঘরের শিক্ষকও সংখ্যায় কম

রাজধানী ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় সব শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত পরিবারের। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। মানসম্মত শিক্ষা এবং আশানুরূপ পরিবেশ না থাকায় অবস্থাপন্ন বা সচ্ছল পরিবারের অভিভাবকরা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের দিতে আগ্রহী নন।

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মূল লক্ষ্য বৈষম্যহীন এবং সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাবিদদের মতে, সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটা পিছিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এতে মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষার লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকসংকট রয়েছে। কোথাও শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে। যাতায়াত, অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে পিছিয়ে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

সরকারি হিসাব বলছে, মানসম্মত পাঠদানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হার হতে হবে ১ঃ৩০ জন। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বিষয়টি উল্লেখ করে ২০১৮ সালে তা বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চার বছর পার হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ মাঞ্জুর আহমেদ। তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হার ১ঃ৪০ হলেও সহনীয়, তবে তা ১ঃ৬০ হলে পড়াশোনায় তো ব্যাঘাত ঘটবেই।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৮৭৩ জন। ১৫টি শিক্ষকের পদ থাকলেও একটি পদ শূন্য। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে একজন, চিকিৎসাজনিত ছুুটিতে একজন এবং একজন শিক্ষক প্রশিক্ষণে গেছেন। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক ১১ জন। সেই হিসাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১ঃ৭৯।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক রিক্তা অলিভিয়া গোমেজ জানান, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম হলে সবার দিকে নজর দেওয়া কঠিন। এতে মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হয়। এই বিদ্যালয়ের প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত পরিবারের। এসব শিশুকে পড়াশোনা করানো বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, শুধু  অভিভাবকই নন, অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের হাল ধরতে হকারি করে বেড়ায়। কেউ বা অভিভাবকের পেশাগত কাজে সহযোগিতা করে।

শহিদবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৮৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন তিনজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১ঃ৯৪। শিক্ষকের পাঁচটি পদে প্রধান শিক্ষকসহ দুটি পদ ফাঁকা। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক অপরাজিতা চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শতভাগই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা। বেশির ভাগ বিহারি। বিদ্যালয়টি এমন জায়গায় যে একটু সচ্ছল অভিভাবকরা তাঁদের বাচ্চা এখানে দিতে রাজি হন না।

সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ৯১৮ জন। শিক্ষক আছেন ১৯ জন। অনুপাত ১ঃ৪৮। প্রধান শিক্ষক জিন্নাত মহল বেলী বলেন, ‘শতভাগ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা। আমাদের আরেকটি বড় সমস্যা হলো, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পরিবেশগত অবস্থান। বিদ্যালয় ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। বর্ষাকালে এসব ফাটল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকে, বিদ্যালয়ের সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে টং দোকান, ঠেলাগাড়ি ও রিকশা রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ’

ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ জানান, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যেন কেউ শিক্ষার বাইরে না থাকে। তবে এসব স্কুলে বস্তির শিক্ষার্থী বা ভাসমান শিক্ষার্থীরা আসার কারণে অনেক সময় পরিবেশ ভিন্ন রকম হয়ে যায়। এই আশঙ্কা থেকে আর্থিকভাবে সক্ষম অভিভাবকরা সন্তানদের সরকারি প্রাথমিকে ভর্তি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এই বাস্তবতার পরিবর্তনে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 



সাতদিনের সেরা