kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তিন ইউএনওর পর এবার এসি ল্যান্ড

ট্রফি ভাঙা ইউএনওকে ঢাকায় বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন ইউএনওর পর এবার এসি ল্যান্ড

বান্দরবানের আলীকদম, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও বগুড়া সদর উপজেলার ইউএনওদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর এবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে এসি ল্যান্ড অমিত দত্তের অফিসকক্ষে লাঞ্ছিত দুই কর্মচারী হলেন সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল ইসলাম ও আউটসোর্সিংয়ের কম্পিউটার অপারেটর খায়রুল ইসলাম।

এদিকে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভেঙে আলোচনায় আসা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য তাঁর চাকরি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাও তাঁকে দেওয়া হয়েছে।

ভূঞাপুরের এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ : সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে খায়রুল ইসলামকে নিজ কক্ষে ডেকে নামজারির কাজে ত্রুটি দেখিয়ে জুতাপেটা করেন এসি ল্যান্ড অমিত দত্ত। খায়রুল ইসলাম বের হয়ে এলে সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল ইসলাম তাঁর কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই এসি ল্যান্ড তাঁর দিকে জুতা ছুড়ে মারেন। জুতা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তিনি চেয়ার থেকে উঠে মমিনুলের মাথায় জুতা দিয়ে আঘাত করেন এবং গালাগালসহ মারধর করেন।

কম্পিউটার অপারেটর খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার নামজারির কাজে ভুল দেখিয়ে এসি ল্যান্ড স্যার আমাকে গালাগাল করেন ও কয়েক দফা জুতা দিয়ে পেটান। ’

মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এসি ল্যান্ড স্যারের অফিসকক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই আমার দিকে জুতা ছুড়ে মারেন এবং শরীরে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিলেও আমার লেবাস নিয়ে কটূক্তি করেন। ’

তবে দুই কর্মচারীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে এসি ল্যান্ড অমিত দত্ত বলেন, ‘নামজারির কাজে ত্রুটি থাকায় তাঁদের বকেছি। জুতা দিয়ে আঘাত করার ঘটনা সঠিক নয়। ’ এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাইনি। অভিযোগ পেলে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। ’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মাংতাই হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে হট্টগোল তৈরি হলে ট্রফি আছড়ে ভেঙে ফেলেন ইউএনও মেহরুবা ইসলাম। অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর বগুড়া সদরে আলমগীর হোসেন নামের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা