kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মির্জাপুরে হেফাজতে আসামির মৃত্যু

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুরে হেফাজতে আসামির মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়িতে মামলার আসামি লেবু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ওই ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফাঁড়ির হাজতখানার টয়লেট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

লেবু মিয়া বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। আর দায়িত্বরত কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মীর মনির হোসেন, সখীপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম রাকিবুর রাজা এবং পরিদর্শক (ক্রাইম) সুব্রত কুমার সাহা।

এদিকে লেবু মিয়াকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা গতকাল দুপুর পৌনে ২টা থেকে গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কের বাঁশতৈল বাজারে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। মির্জাপুর সার্কেলের দায়িত্বরত সখীপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম রাকিবুর রাজা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দিলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে আট কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

এর আগে ১৯ আগস্ট রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় পুলিশ হেফাজতে সুমন শেখ নামের এক আসামির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সুমনের স্ত্রী জান্নাত অভিযোগ করেছিলেন, থানায় পুলিশের নির্যাতনে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাতিরঝিল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছিল।

লেবু মিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, লেবু মিয়া নির্দোষ। তাঁকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাঁশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ আটক করে রাতে ওই ফাঁড়িতে রাখে। গতকাল সকালে তারা মৃত্যুর খবর পায়। লেবুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে।

লেবুর ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন ও এসআই নেছার উদ্দিন আমার চাচাকে দুপুরে আটক করলেও রাতে কেন হত্যা মামলা হলো? হাজতখানার ভেতর কিভাবে রশি যাবে, এটি আমাদের প্রশ্ন। এ ছাড়া যেখানে ফাঁস লাগিয়েছে, সেখানে কিভাবে ওঠা সম্ভব? মরদেহ নামানোর আগে আমাদের পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি কেন?’

লেবুর স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালাত। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেজো মেয়ে ডিগ্রি ফাইনাল এবং ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সোমবার দুপুরে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর গোসল করে দুপুরের খাবার খায়। এর কিছুক্ষণ পর বাঁশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায়। ’

লেবু মিয়ার বড় ভাই বজলুর রশিদের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তাঁর ভাই মারা গেছেন। তিনি এর বিচার দাবি করেন।

বাঁশতৈল ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইদ্রিস আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁশতৈল ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক সেলিম রেজা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা তার বিচার চাই। ’

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে তিন সন্তানের জননী সখিনা বেগমের (৪৩) সঙ্গে বাঁশতৈল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মফিজুর রহমানের (৪৭) বিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে তিনি একই গ্রামে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। মেয়েদের বিয়ে হওয়ায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে ওই বড়িতে থাকতেন তিনি।

গত রবিবার রাতে সখিনা বেগম বাড়িতে একা ছিলেন। সোমবার দুপুরে সখিনার মা এবং পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

সখিনার বড় ভাই বাদশা মিয়া সোমবার রাতে মফিজুর রহমান ও লেবু মিয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তার আগে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ সখিনার সাবেক স্বামী মফিজুর রহমান এবং একই গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দুপুরে আটক করে।

বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সখিনার সাবেক স্বামী মফিজ ও লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হলে পৃথক হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। ভোরে লেবু মিয়া টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল লেবু মিয়ার সুরতহাল করেন। পরে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

 



সাতদিনের সেরা