kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাহাড়ে আট বছরে ১৯ হাতির মৃত্যু

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ে আট বছরে ১৯ হাতির মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য জঙ্গল পুঁইছড়ি পাহাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার প্রায় ১১ দিন পর একটি হাতির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। এসব ঘটনা ২০ সেপ্টেম্বরের। গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনা জানাজানি হয়।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভীর জঙ্গলের এই ঘটনা স্থানীয় লোকজন জানতে পারে গতকাল। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্ত হয়। স্থানীয়রা জানায়, তাদের ধারণা হাতিটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। আর ঘটনা ধামাচাপা দিতে জায়গাটি গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তারা বলছে, এ পর্যন্ত আট বছরে ১৯টি হাতি বাঁশখালীর পাহাড়ে মারা গেলেও কোনো ঘটনার সঠিক তদন্ত হয়নি। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ। এতে হাতি হত্যার মতো নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, হাতিটির ময়নাতদন্তের সময় পচা গন্ধ ছড়িয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ময়নাতদন্তের অন্তত ১১ দিন আগে হাতিটির মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ মেরে হাতিটিকে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত নমুনা কুমিল্লার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়নি।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত আট বছরে বাঁশখালীর বনাঞ্চলে মারা গেছে ১৯টি হাতি। এর মধ্যে কালীপুর রেঞ্জে মারা গেছে ১২টি বন্য হাতি, জলদী ও পুঁইছড়ি রেঞ্জে সাতটি। অসুস্থ হয়ে পড়া তিনটি হাতিকে সুস্থ করে বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ১১ জুন উপজেলার জঙ্গল কালীপুরে গভীর জঙ্গলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মারা হয়েছে একটি হাতি। এর আগেও জঙ্গল কালীপুরে মৃত হাতির শাবক পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে একটি হাতিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয় দুষ্কৃতকারীরা। তার আগে ১২ নভেম্বর বাঁশখালীর চাম্বল বন বিট অফিসের অদূরে আরো একটি হাতি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুঁইছড়ি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় জিডি করার পর হাতিটি কিভাবে মারা গেছে, তা তদন্ত করছি। ’ জিডিতে হাতি মেরে মাটিতে পুঁতে রাখার বিষয় এবং হাতি মারার স্থানের ব্যক্তিদের নাম নেই কেন, জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

 



সাতদিনের সেরা