kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অদিতাকে ধর্ষণ ও হত্যা

মূল আসামির স্বীকারোক্তি

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মূল আসামির স্বীকারোক্তি

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতাকে ধর্ষণ ও হত্যাকারীর কঠোর শাস্তির দাবিতে গতকাল শোভাযাত্রা করে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী জেলা শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (৩০)। গতকাল শনিবার ১৬৪ ধারায় মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ এমদাদের আদালতে জবানবন্দি দেন তিন দিনের রিমান্ডে থাকা আসামি রনি। এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম গতকাল প্রেস ব্রিফিং করেন।

উল্লেখ্য, অদিতা মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুরের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

এসপি শহীদুল ইসলাম জানান, অন্য শিক্ষকের কাছে পড়া শুরু করায় নাখোশ হন রনি। এর জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। গত বৃহস্পতিবার অদিতার বাসায় যান রনি। গল্পগুজব করার এক পর্যায়ে  অদিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন রনি। এতে অদিতা বাধা দিলে রেগে যান তিনি। অদিতা বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এ সময় অদিতাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন রনি। এসপি আরো জানান, ঘটনার দিনই রনিকে সন্দেহ করে পুলিশ। এ ঘটনায় রনিকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তাঁর থুতনি ও ঘাড়ে নখের আঁচড়ের দাগ দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। রনি পৌরসভার ৩ লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লার লাতু কমিশনারের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। রনি বর্তমানে তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে অদিতা হত্যার প্রতিবাদে গতকালও উত্তাল ছিল নোয়াখালী। ঘটনার বিচার দাবি করে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিক্ষোভে উত্তাল ছিল জেলার শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথ। বিক্ষুব্ধরা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেয়।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আহ্বানে গতকাল জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীরা জেলা শহরে মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি নোয়াখালী প্রেস ক্লাব ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে মানববন্ধনে অংশ নেয়। পরে তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করে।

কর্মসূচিতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেছা, হরিনারায়ণপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলিম, নোয়াখালী জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, নোয়াখালী জেলা স্কুলের শিক্ষক বেলাল হোসেন, মুহাম্মদ নাছিমুল হক এবং অদিতার সহপাঠীরা বক্তব্য দেয়।

প্রধান শিক্ষিকা  মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘এ ঘটনা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানরা ঘরেও যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে আমরা কোথায় বসবাস করছি?’

হরিনারায়ণপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলিম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেককেই যার যার জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোথাও কোনো ঘটনা দেখলে দাঁড়াতে হবে এবং সমাধান করতে হবে। ’

পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার অপরাধীকে আটক করতে সমর্থ হয়েছি। এ ঘটনার বিচার দ্রুত করা হবে। ’ এ সময় তিনি চৌমুহনী ও মাইজদীতে ১৬০টি জায়গায় ২০০ সিসিটিভি বসানোর ঘোষণা দেন।

গত বৃহস্পতিবার জেলা শহর মাইজদীতে তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি ছাড়াও ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে দেশের আরো তিন জেলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে মাদারীপুরে নিকাহ রেজিস্ট্রার, কুমিল্লায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ ময়মনসিংহের ভালুকায় এক তরুণ গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে বিস্তারিত :

ধর্ষণ মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার : কুমিল্লায় ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণে সহায়তা করায় র‌্যাব-১৫-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু কাউছার অনিক (৩৫)। কক্সবাজার থেকে গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে এক কিশোরী অনিকসহ চারজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করে। আসামিরা হলেন জেলার বুড়িচং উপজেলার পরিহলপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আরব আলী (২৭), চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে জিলানী (৩৮), দেবীদ্বার উপজেলার নূরপুর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু কাউসার অনিক (৩৫) এবং একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (৪০)।

মাদারীপুরে ধর্ষণ মামলায় ইমাম গ্রেপ্তার

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা পরিষদের ইমাম ও নিকাহ রেজিস্ট্রার লিয়াকত হোসেনকে (৪৫) একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে থানার পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থানার মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার পশ্চিম সরমঙ্গল গ্রামের প্রয়াত পাশা শেখের ছেলে। তাঁকে গতকাল সকালে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এসংক্রান্ত মামলার বিবরণে বলা হয়, রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের এক কলেজছাত্রীকে পাশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মুনিরকান্দি গ্রামের আওলাদ বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর রহমান শিপনের (৩০) সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয় এক নারীর। পরে গর্ভের সন্তান অস্বীকার করেন শিপন। এক পর্যায়ে শিপনের বোনের জামাই লিয়াকত হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী।

ময়মনসিংহে তরুণীর ধর্ষণ মামলা : ময়মনসিংহের ভালুকায় বিয়ের প্রলোভনে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় শুক্রবার ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বড় কাশর গ্রামের আছর আলীর ছেলে সেলিম মিয়াকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা