kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা

তালাবদ্ধ ঘরে ব্যবসায়ী ও স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ

চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালাবদ্ধ ঘরে ব্যবসায়ী ও স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ঘরের তালা ভেঙে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন নজির উদ্দিন (৭০) ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৬০)। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তাঁদের হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নজির পুরাতন বাজারে নিজ বাসার পাশে ধান, চাল, চাতালের ব্যবসা করতেন। তাঁর চালকল রয়েছে। তিনি শহরের শিলা সিনেমা হলের মালিক ছিলেন।

নিহতের একমাত্র সন্তান শিলা খাতুন শহরের মিয়াপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমার মা ও আব্বার সঙ্গে সকাল থেকেই ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পাশের একজন লেবারকে প্রাচীর টপকিয়ে ভেতরে গিয়ে দেখে আসতে বলি। ওই লেবার মা ও আব্বাকে হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। ’

আলমডাঙ্গা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে নিহত দম্পতির জামাই অহিদুলসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ফোন করে না পেয়ে বাড়িতে এসে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে আমাদের জানালে পুলিশের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তালা ভেঙে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ’

ওসি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গোসলখানায় বৃদ্ধের হাত বাঁধা ও ঘরে বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। বৃদ্ধার পাশে পড়ে ছিল ছোট কাঁচি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নজির উদ্দীন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত শিব নারায়ণ ভৌতিকারের অপার স্নেহ পেয়েছিলেন। পরে নজির শিব নারায়ণের মূল্যবান সম্পত্তির জাল দলিল করে নেন। এ ঘটনায় নারায়ণ নজিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি চলমান। পরে নজির ও তাঁর প্রতিবেশী ব্যবসায়ী অসীত কুমার মিলে শিব নারায়ণের সরকারের সঙ্গে মামলা চলমান জমি লিজ নিয়েছেন। নজির শিব নারায়ণের শহরের আরো জমি দখলে নিতে একটি সিন্ডিকেট গড়েছিলেন। এ ছাড়া নজির সম্প্রতি একটি জমি ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। ওই টাকা তিনি ব্যাংকে রাখেননি। সিন্ডিকেটের অন্তর্দ্বন্দ্বে এবং ওই টাকা ডাকাতি করতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জমির বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং বাড়িতে থাকা আলামতের সূত্র ধরে আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি। কারা, কেন হত্যা করেছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা