kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চোখ ঢেকে দুই ঘণ্টা রেল স্টেশনে বসে ছিলেন বাবা

ট্রেনে কাটা পড়ে ছেলের মৃত্যু

নাটোর প্রতিনিধি    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চোখ ঢেকে দুই ঘণ্টা রেল স্টেশনে বসে ছিলেন বাবা

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন বাবা। কিন্তু মাঝপথে এক স্টেশনে নেমে চোখের সামনেই তাঁকে দেখতে হলো ছেলের ট্রেনে কাটা পড়ার দৃশ্য। আর তাই মুহূর্তেই দুই হাতে চোখ ঢেকে বলছিলেন, ‘তুমি, এ কী করলে আল্লাহ। আমার যে আর কিছুই রইল না।

বিজ্ঞাপন

ছেলের মাকে কী বলব আমি?’

এরপর অনেকক্ষণ আর কোনো কথা বলেননি এই বাবা। রেলস্টেশনে নির্বাক বসে থাকেন প্রায় দুই ঘণ্টা। গতকাল শনিবার নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর জংশন স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   

ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া ইমতিয়াজ আলী (২৫) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীর সাড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামের আইনজীবী ইসাহাক আলীর ছেলে। তবে ইসাহাক আলী ঈশ্বরদী শহরের আলীবর্দি রোডের কোবা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে বসবাস করেন।

ইসাহাক আলীর বন্ধু স্বপন কুমার জানান, ইসাহাকের এক মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। এখন কেউ নেই। দুই বছর আগে সন্তান প্রসবের সময় মারা যায় মেয়ে। গতকাল দুর্ঘটনায়  ছেলেকেও হারালেন তিনি। এখন যেন ইসাহাক ও তাঁর স্ত্রীই এতিম হয়ে গেলেন।

আব্দুলপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার জিয়াউদ্দিনসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশে সকাল ৭টায় ঈশ্বরদী থেকে ইসাহাক আলীর সঙ্গে কমিউটার ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ইমতিয়াজ। ৭টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি আব্দুলপুর জংশন স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর নাশতার জন্য ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন সংলগ্ন হোটেলে যান তাঁরা। নাশতা শেষ করতেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। দৌড়ে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা ফসকে চাকার নিচে পড়ে যান ইমতিয়াজ। বাবার চোখের সামনে ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, স্টেশন মাস্টার বিষয়টি ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে ইমতিয়াজের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি মিহির রঞ্জন দেব জানান, দুুপুরে লাশ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



সাতদিনের সেরা