kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বছরে ১৩০ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

মোবারক আজাদ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বছরে ১৩০ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

দেশের নির্মাণ খাতে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তাসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা শ্রম আইনে বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে সব জায়গায় এই বাধ্যবাধকতা মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য বলছে, বছরে কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাবে গড়ে ১৩০ জন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে।

নির্মাণ খাতে মৃত্যু ও আহতের সঠিক পরিসংখ্যান কোনো সংস্থার কাছে নেই।

বিজ্ঞাপন

বিলসের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে ৫৮৯ জন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে দেশে প্রতিবছর কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাবে গড়ে ১৩০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে শুধু রাজধানীতে পাঁচজন পথচারীসহ ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়কে কংক্রিটের বিশাল গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলার সময় চলন্ত গাড়ির ওপর পড়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর জানা গেছে, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভারী সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এমনকি ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী।

এর আগে ৩ আগস্ট মুগদার ঝিলপার এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় মাচা থেকে পড়ে ইকবাল হোসেন (৩৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মৃতের সহকর্মীরা জানান, কাজ করার সময় ইকবালের কোমরে বেল্ট ছিল না। কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিল না। এখন পর্যন্ত তাঁর পরিবার কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায়নি। এমনকি মামলাও করা হয়নি।

নিহতের ভাই সারোয়ার জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকপক্ষের অবহেলায় নির্মাণ খাতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া বেশির ভাগ শ্রমিকের ক্ষেত্রেই অবহেলা সাধারণ ব্যাপার।

বিলস বলছে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভালো জাল না থাকা; দুর্বল মাচার ব্যবহার; এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা; ভালো সিঁড়ি, আধুনিক যন্ত্র ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব, হেলমেট, বেল্ট ও বুট ব্যবহার না করা এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) হিসাব অনুযায়ী, দেশে এই খাতে নিয়োজিত আছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রম আইন মেনে চললে নির্মাণ খাতে প্রতিবছর এত শ্রমিকের মৃত্যু হতো না। মালিক-ঠিকাদার একত্র হয়ে এটা করার কথা থাকলেও করে না। এ ছাড়া সরকারের কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে থাকার ব্যবস্থাগুলো দেখার কথা থাকলেও কখনো তারা করে না। শ্রম আইনও বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ না করায় এত শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে। ’

শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে মারা গেলে দুই লাখ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেলে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেটি অনেক ক্ষেত্রে মানছে না ভবন মালিকপক্ষ। এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘২৮ জেলায়

আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম আছে। এসব এলাকায় যদি কোনো ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের জানায় তাহলে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মালিকপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিই। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার ঘটনাও আছে। ’

রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, নির্মাণ খাতে বিল্ডিং কোডসহ অন্যান্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে। যারা নিয়ম না মেনে কাজ করছে তাদের অনেকের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি বিষয়গুলো না মানে তাহলে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে। গার্ডার দুর্ঘটনা পর থেকে রাজউক নির্মাণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আরো বেশি নজর রাখছে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা