kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইভ্যালির পাওনার দাবিতে শত শত গ্রাহকের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইভ্যালির পাওনার দাবিতে শত শত গ্রাহকের ভিড়

ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির দায়িত্ব মূল মালিকের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার খবরে গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে কম্পানিটির কার্যালয়ের সামনে শত শত পাওনাদার। ছবি : কালের কণ্ঠ

অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের কাছে গতকাল প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইভ্যালিসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিদায়ি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।

অন্যদিকে ইভ্যালির মূল মালিক মোহাম্মদ রাসেলের পরিবারের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব হস্তান্তরের খবর পেয়ে গতকাল ধানমণ্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিজয় শোভাযাত্রা করেন শতাধিক গ্রাহক ও মার্চেন্ট। তবে পাওনা টাকার দাবিতে সেখানে শত শত মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁরা মোহাম্মদ রাসেলের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত মাহবুব কবীর মিলন বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি। একটি প্রতিবেদন জমা  দিয়েছি। কিন্তু কী প্রতিবেদন দিয়েছি তা বলা যাবে না।

তিনি না বললেও আদালতে জমা দেওয়া সেই প্রতিবেদনের অনুলিপি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। সেই প্রতিবেদনের মতামত অংশে মাহবুব কবীর মিলন বলেছেন, ‘ইভ্যালির সব ত্রুটি-বিচ্যুতি, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে দূর করা না গেলে ফের ইভ্যালি চালানো অসম্ভব। ইভ্যালির কোনো স্তরেই কোনো ধরনের জবাবদিহি বা স্বচ্ছতা ছিল না। অডিট রিপোর্টে কম্পানির আর্থিক অবস্থান চিহ্নিত করার মতো কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। এই টাকাগুলো কোথায়, কিভাবে খরচ হয়েছে, তা একটি বড় প্রশ্ন। এটি কম্পানির সবচেয়ে বড় অনিয়ম। ’

ইভ্যালির ব্যবসা ফের চালুর বিষয়ে প্রতিবেদনে মত দিয়েছেন মাহবুব কবীর মিলন। তাঁর ভাষ্য, ‘ইভ্যালির ব্যবসা ফের চালু করার জন্য অবশ্যই নতুন করে বিনিয়োগ করতে হবে বা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আনতে হবে। ইভ্যালির সব ডাটা (উপাত্ত) সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই লোকাল (স্থানীয়) সার্ভার ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে হবে। বাহুল্য খরচ সম্পূর্ণভাবে পরিহারের পাশাপাশি সর্বনিম্ন লোকবল দিয়ে সর্বোচ্চ কাজ করিয়ে নিতে হবে। যথাযথভাবে প্রতিটি খরচের হিসাব রাখতে হবে। নতুন বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতি অফারে কত পণ্য বিক্রি হবে, কত পণ্য বিক্রি হয়েছে, এর হিসাব গ্রাহক পর্যায়ে উন্মুক্ত রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলেই কেবল ইভ্যালির ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ’

আদালত গঠিত ইভ্যালির নতুন পরিচালনা পর্ষদে থাকছেন শামীমা নাসরিনের মা ফরিদা আক্তার, বোনের স্বামী মামুনুর রশীদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী কামরুন নাহার এবং ইক্যাব সহসভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন।

 



সাতদিনের সেরা