kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বগুড়ার শাজাহানপুর

উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক এমপি বাবলুর

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক এমপি বাবলুর

হাতে পিস্তল (গোল চিহ্নিত) নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। গতকাল সকালে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের বারান্দায়। ছবি : সংগৃহীত

প্রকল্পের জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীরের তর্ক বাধে। সেই তর্ক থামাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু। তাঁকে লক্ষ্য করে হঠাৎ এমপি বাবলু পিস্তল তাক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলার বারান্দায়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। ঘটনার পর পরই এমপি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

জানা গেছে, গতকাল সকালে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে এমপি রেজাউল করিম বাবলু তাঁর পিএস ও লোকজন নিয়ে উপজেলা পরিষদে যান। এ সময় উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর তাঁর কাছে বরাদ্দের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে এমপির পিএস রেজাউল করিম আহত হন। হৈচৈ শুনে আইন-শৃঙ্খলা সভা থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরার হোসেন ছান্নু বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে এমপি বাবলু তাঁর ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে ছান্নুকে লক্ষ্য করে তাক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিষদের লোকজন এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমপি বাবলুর পিস্তল তাক করার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বাদশা আলমগীর জানান, এমপি হওয়ার পর রেজাউল করিম বাবলুকে সরকারের বিভিন্ন বরাদ্দের তিন লাখ ৯৫ হাজার দেন তিনি। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন। ৯৫ হাজার টাকা এখনো পাননি। ওই টাকা ফেরত চাইলে এমপি বাবলু ভালোমন্দ কিছু না বলে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে লোকজন নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। উপজেলা চেয়ারম্যান এগিয়ে এলে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল বের করে তাক করেন।

সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, ‘ঘটনার সময় উপজেলা সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সভা চলছিল। ওই সময় হৈচৈ শুনে সভা থেকে বের হয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। কিন্তু এমপি রেজাউল করিম বাবলু উত্তেজিত হয়ে আমাকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করেন। ভয়ে ও লজ্জায় দ্রুত আমি আইন-শৃঙ্খলার সভাকক্ষে চলে যাই। ’

রেজাউল করিম বাবলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে আমি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা। ইউএনওর চিঠি পেয়ে বুধবার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে উপজেলা পরিষদে যাই। ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাঁর কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু ও উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। আত্মরক্ষার্থে আমি আমার লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত পিস্তল বের করি। ওদের হামলায় আমার পিএস গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘কে কাকে টাকা দিয়েছে কিংবা নিয়েছে, তা আমি জানি না। আর কেউ টাকা নিয়ে থাকলে আমার কাছে অভিযোগ করার সুযোগ ছিল। তা না করে এভাবে হামলা করা গর্হিত অপরাধ। ’



সাতদিনের সেরা