kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কারাগারে বাবা-ভাইকে দেখতে গিয়ে পথে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কারাগারে বাবা-ভাইকে দেখতে গিয়ে পথে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর এক স্কুলছাত্রী ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, বরিশালের বাবুগঞ্জ ও যশোরের অভয়নগরে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালিয়াডাঙ্গীর স্কুলছাত্রীটিকে গত শুক্রবার ঠাকুরগাঁও কারাগারে থাকা বাবা ও ভাইকে দেখতে যাওয়ার পথে অপহরণের পর নির্যাতন করা হয়। এদিন গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর ইক্ষুখামারের রাস্তার পাশ থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। গোলাপগঞ্জ, করিমগঞ্জ ও অভয়নগরের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী কিশোরী ও স্থানীয়দের বরাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরী (স্কুলছাত্রী) তার গ্রামের বাড়ি বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়ন থেকে ঠাকুরগাঁও কারাগারে থাকা বাবা ও ভাইকে দেখার উদ্দেশ্যে বালিয়াডাঙ্গী সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এসে একটি অটোরিকশায় ওঠে। এ সময় বালিয়াডাঙ্গীর বেলসাড়া গ্রামের পূর্বপরিচিত বাবলু, তালেব, আসলামসহ পাঁচজনের একটি দল অটোরিকশাটিতে উঠে পড়ে। অটোরিকশা ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর ইক্ষুখামার রোড এলাকায় পৌঁছলে ওই পাঁচজন কিশোরীকে পেটে ধারালো ছুরি ধরে একটি গুদাম ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাকে আটকে রাখে এবং রাতে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা তাকে মৃত ভেবে গভীর রাতে গোবিন্দনগর ইক্ষুখামারের রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করে। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ভর্তি করে। এ সময় তার গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অভিযুক্ত বাবলুদের সঙ্গে কিশোরীর পরিবারের বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ আছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

ওসি আরো জানান, ঘটনাটি বালিয়াডাঙ্গী থানার আওতায়। সেই থানার ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আলম ডন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ৩১ আগস্ট সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে এক মাসের ও ভাইকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বালিয়াডাঙ্গী ইউএনওর ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিশোরীর আরেক ভাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাভোগ করছেন।

কবিরাজের কাছে গিয়ে ধর্ষণের শিকার

সিলেটের গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ (২৫) কবিরাজের কাছে চিকিৎসার জন্য গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় মামলার করার পর অভিযুক্ত কবিরাজ সুহেল মিয়াকে (৩৫) গত শুক্রবার বিকেলে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা থেকে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। সুহেল মিয়া গোলাপগঞ্জের আমুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তার সুহেলকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

করিমগঞ্জে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গত শুক্রবার দুপুরে এক শিশুকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগে এদিন রাতে মোজাম্মেল হক (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার হাসনপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাসনপুরের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্কুল শিক্ষার্থী। তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

করিমগঞ্জ সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা করিমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শুক্রবার বিকেলে মামলা করেছেন। করিমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন জানান, অভিযুক্তকে গতকাল কিশোরগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা

যশোরের অভয়নগরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার দুপুরে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর (৮) মা। গ্রেপ্তার রানা গাজী (১৯) উপজেলার বুইকারা গ্রামের রানাভাটা এলাকার বিল্লাল গাজীর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত রানা তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা।

মামলার বাদী শিশুটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ’

অভয়নগর থানার ওসি এ কে এম শামীম হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত রানা গাজীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ’

ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণে অভিযুক্তের নাম শহিদুল ইসলাম খান (৩৪)। তিনি দেহেরগতির বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের মৃত মো. মালেক খানের ছেলে। অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের সিলেট অফিস, ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ ও অভয়নগর প্রতিনিধি। ]



সাতদিনের সেরা