kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুজনের লিভার-কিডনিতে জমাট বাঁধা রক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুজনের লিভার-কিডনিতে জমাট বাঁধা রক্ত

গাজীপুর মহানগরীতে প্রাইভেট কারে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ  ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তবে কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত বিষয়—এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক টিম। এদিকে লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, দুজনেরই লিভার ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিষক্রিয়ার কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

এদিকে নিহত প্রধান শিক্ষক এ কে এম জিয়াউর রহমান মামুন (৫১) ও তাঁর স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জলির (৩৫) দাফন গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টায় মামুনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িকাঠায় সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল সকালে গাজীপুরের গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নিহতের বড় ভাই স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে গ্রামের বাড়িতে জিয়াউল ও তাঁর স্ত্রীকে দাফন করা হয়েছে। দাফন শেষে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের ছেলে মেরাজ ও তাঁরা তিন ভাই মামলা করতে থানায় যান। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। তাঁরা থানায়ই অবস্থান করছেন।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সূত্র জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, মোবাইলের কললিস্ট সংগ্রহ করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, ‘কর্মক্ষেত্র’, ‘পারিবারিক’ এবং ‘ব্যক্তিগত’ এই তিন বিষয়ে কারো সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ওই তিন বিষয়ে অনুসন্ধানে মাঠে একাধিক টিম কাজ করছে। এর বাইরেও অন্য কারণও থাকতে  পারে। তিনি আশা করছেন, দ্রুতই এই হত্যা রহস্যের জট খুলবে।

লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাফি মোহাইমিন কালের কণ্ঠকে জানান, ময়নাতদন্তে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই লিভার ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। তা ছাড়া শরীরের অভ্যন্তরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সাধারণত বিষক্রিয়ার কারণে লিভার ও কিডনিতে রক্ত জমাট বাঁধে এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যদিও অন্য কারণেও এসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে তাঁদের দুজনেরই হার্ট স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার ওসি নন্দলাল চৌধুরী বলেন, শুক্রবার দুপুরে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে এজাহার নিয়ে থানায়  এসেছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তাই যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে মামলা রেকর্ড করতে দেরি হচ্ছে। তা ছাড়া শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর কোনো ক্লুও তাঁরা বের করতে পারেননি। তবে তদন্ত চলছে। পিবিআই, র‌্যাব, সিআইডিসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নগরীর কামারজুরি এলাকার জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী টঙ্গীর ভরান এলাকার আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার নিজেদের প্রাইভেট কারে করে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন। পরদিন ভোরে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বগারটেক এলাকায় প্রাইভেট কারটি পাওয়া যায়। ভেতরে তাঁদের সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।



সাতদিনের সেরা