kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের, প্রত্যাখ্যান শ্রমিক নেতাদের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের, প্রত্যাখ্যান শ্রমিক নেতাদের

খাগড়াছড়ির রামগড়ে চা শ্রমিকরা গতকালও কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে চা-বাগানের মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা দেওয়ার কথা বলেছে। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চা শ্রমিক নেতারা। পরে সরকার, চা-বাগান মালিক ও শ্রমিক পক্ষের ছয় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক সমাঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত বুধবার রাতে শ্রম অধিদপ্তরে বৈঠকটি হয়।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের ২৩২টি চা-বাগানে গতকাল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনের ধর্মঘট করেছেন চা শ্রমিকরা। মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে তাঁরা ধর্মঘট করছেন। গতকাল সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা-বাগানের ফিনলে চা কারখানার সামনে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) খালেদ মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে বুধবার বিকেল ৫টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা ৬টায় শুরু হয়ে রাত ১১টায় শেষ হয়। বৈঠকে চা শ্রমিক নেতারা মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবি তুলে ধরেন। পরে মালিকপক্ষ তাদের বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরে। আলোচনায় শ্রমিক ও মালিক পক্ষ কোনো সমঝোতায় আসতে না পারায় রাত সাড়ে ৮টায় চা বিরতি দেওয়া হয়। পরে আবার বৈঠক হয়। এর আগে মঙ্গলবার চা শ্রমিক নেতাদের নিয়ে ডিজি খালেদ মামুন চৌধুরী শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন।

ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিজি খালেদ মামুন চৌধুরী, বাংলাদেশি চা সংসদের সভাপতি শাহ আলম, চা সংসদের কনভেনার তাহসিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা রামভজন কৈরী, সহসভাপতি পংকজ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, মনু ধলাই ভ্যালির সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, সিলেট ভ্যালির রাজু গোয়ালা প্রমুখ।

পংকজ কন্দ বলেন, ‘মালিকপক্ষ বৈঠকে যে মজুরি প্রস্তাব করেছে, সেটি ৩০০ টাকার ধারেকাছেও নয়। আমরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। আলোচনার দুয়ারও খোলা থাকবে। ’

বিজয় হাজরা বলেন, ‘বৈঠকে আমরা ৩০০ টাকার মজুরির দাবিতে অটল ছিলাম। আমরা মালিকপক্ষকে বলেছি, আমাদের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে আপনাদের জানিয়ে দেব। ’

তিনি আরো বলেন, ‘২৩ আগস্ট আন্ত মন্ত্রণালয়ের মিটিং আছে। আমাদের ডেকেছে, আমরা মিটিংয়ে বসব। এর আগে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। ’

শাহ আলম বলেন, ‘শ্রমিক নেতারা দুই দিনের সময় নিয়েছেন। তাঁরা পরে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘চা উৎপাদন কোনো বছর ভালো হয়, কোনো বছর খারাপ হয়। সেটা আবহাওয়ার কারণে। চা শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা দুই বছর পর পর চুক্তি সম্পাদন করি। এখন মজুরি নিয়ে সমস্যাটা দেশ ও মালিকদের স্বার্থে সামাল দিতে হবে। আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিক নেতাদের বলেছি, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যান, মজুরির বিষয়টি আমরা নিজেরাই সমাধান করব। তাঁরা আমাদের কথা রাখেননি। ’

নৃপেন পাল বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। ২০ টাকা বাড়িয়ে মজুরি দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। সরকারের ডাকে আমরা বৈঠকে এসেছি। আবার ডাকলে আবার আসব। আলোচনা করব। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলবে। ’

খালেদ মামুন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি যে তাঁরা (শ্রমিক) ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন কি না। উনারা উনাদের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দু-এক দিনের মধ্যে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। প্রয়োজনে দু-তিন দিন পর আরেকটি মিটিং করব। ২৩ তারিখে ত্রিপক্ষীয় মিটিংও বহাল আছে। ’

থানায় ৪ জিডি

শ্রমিকদের ধর্মঘটের মধ্যে ফিনলে টি কম্পানির চারটি চা-বাগানের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল থানায় চারটি জিডি করা হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে কাঁচা চা-পাতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগে এসব জিডি করা হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা-বাগান, ডিনস্টন চা-বাগান, আমরাইল ছড়া চা-বাগান ও বালিশিরা চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপকরা বাদী হয়ে আলাদাভাবে জিডি করেন। অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মঘটের কারণে কম্পানিটির রাজঘাট চা-বাগানের এক লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৫ কেজি, ডিনস্টন চা কারখানায় ৯৯ হাজার ২৫০ কেজি, বালিশিরা চা কারখানায় ৫০ হাজার ২০৭ কেজি, আমরাইল চা কারখানায় পাঁচ হাজার ৬৮৩ কেজি কাঁচা চা-পাতা নষ্ট হয়ে গেছে।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, জিডির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মহাসড়ক অবরোধ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ধর্মঘটের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের মাধবপুরের পাঁচটি চা-বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক গতকাল ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মিছিলসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে অবস্থান করেন। এতে নেতৃত্ব দেন লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ৯ আগস্ট থেকে চার দিন কর্মবিরতি ও ১১ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট করছেন চা শ্রমিকরা।

 

 



সাতদিনের সেরা