kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

পুরাকীর্তি

গৌরনদীর সরকার মঠ

মো. আহছান উল্লাহ, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৌরনদীর সরকার মঠ

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পূর্ব পাশে গৌরনদীর মাহিলারা গ্রামে অবস্থিত নান্দনিক সরকার মঠ। কেউ বা বলে মাহিলারা মঠ। আড়াই শ বছরের মতো আগে এটি নির্মিত হয়েছিল। মঠটি এর ধর্মীয় গুরুত্ব ও প্রাচীনত্বের পাশাপাশি কাঠামোর কারণে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বিজ্ঞাপন

মঠটি নির্মাণের পর থেকেই একটু হেলে আছে। এ কারণে স্থানীয়রা অনেকে একে ইতালির বিশ্বখ্যাত পিসা টাওয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে বাংলার পিসা টাওয়ার বলে। অন্যান্য কারণের পাশাপাশি দৃশ্যত এ কারণেও কিছু বিদেশি পর্যটককে আসতে দেখা যায় এখানে।

মোগল আমলের শেষ দিকে বাংলার শাসক নবাব আলীবর্দী খাঁর সময় কারুশিল্পী সরকার রূপরাম দাস গুপ্ত ১৭৪০ থেকে ১৭৫৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মঠটি নির্মাণ করেন। একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী এর প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় ধার্মিক ব্যক্তি তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মৃতিতে মঠটি তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠার পর তিনি কিছুটা গর্বভরে বলেছিলেন, ‘মা তোমার ঋণ শোধ করে দিলাম। ’ জনশ্রুতি আছে, এ কথার পরই মঠটি ভিত থেকে একটু বেঁকে যায়। লোকের বিশ্বাস, মায়ের ঋণ যে কখনো শোধ করা যায় না, ওই ঘটনা তারই ইঙ্গিত।

প্রাচীন স্থাপনা নিয়ে এ ধরনের অনেক লোককথাই থাকে। তার মধ্যে সারবস্তু কিছু থাকুক আর না-ই থাকুক। মাহিলারার সরকার মঠটি সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। দুই শতক জমির ওপর তৈরি এটি। মঠের কাঠামোটি ২৭.৪৩ মিটার উঁচু। ভেতরে রয়েছে বর্গাকার একটি কক্ষ। পশ্চিম দিকের দেয়ালে আছে একটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। প্রবেশপথের ওপরে সুন্দর অলংকরণ।

মঠটি দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও তিথিতে পুণ্যার্থীদের পদচারণে মুখরিত থাকে মঠ প্রাঙ্গণ।

এলাকার সুপরিচিত প্রাচীন এ মঠটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত। তবে বেশ কিছুদিন সংস্কার না হওয়ায় এতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মঠটির সংস্কার করেছিল। মঠটির দক্ষিণের দেয়ালের ভিত থেকে আনুমানিক ২০ ফুট ওপরে কয়েক ফুট জায়গার পলেস্তারা খসে পড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের দেয়ালের পলেস্তারায়ও ফাটল দেখা গেছে। চারদিকের দেয়ালেই শেওলা জমে রয়েছে, যা এর স্থায়িত্বের জন্য ক্ষতিকর। এতে মঠটির সৌন্দর্যও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মঠ লাগোয়া দক্ষিণ দিকে একটি বড় দিঘি রয়েছে। দিঘি থেকে মঠকে রক্ষার নিরাপত্তা পাইলিংয়ের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ।

খুলনা সদর থেকে আসা পর্যটক লিথুন ঘড়ামী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঠটির দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। দূরের দর্শনার্থীদের জন্য অল্প খরচে বিশ্রামাগার স্থাপন করা হলে ভালো হতো। ’

মঠের পাশের মুদি দোকানি বিবেক চন্দ্র হালদার বলেন, ‘মঠটি একটি প্রাচীন নিদর্শন। এখানে অনেক পর্যটক আসেন। বেশি পর্যটক এলে আমাদের বেচা-বিক্রি ভালো হয়। এতে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। ’

সংস্কারের তাগিদ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণের দেয়ালে যে জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে তাতে নোনা ধরলে এর কাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মঠের প্রবীণ পুরোহিত সম্ভবানন্দ সরস্বতী মঠটির স্থানের মাটির মানসহ এর সার্বিক অবস্থা আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মত দেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। মঠটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা আমাদের জানিয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা