kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরিত্যক্ত হলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিত্যক্ত হলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

স্যাঁতসেঁতে ভবন। ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এর মধ্যেই বাস করছেন শিক্ষার্থীরা। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাস থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির সময় বাঁশ আর কাঠের খুঁটিতে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে ছাদ। আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এর মধ্যেই প্রাণ হাতে নিয়ে বসবাস করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

এমন বেহাল অবস্থা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ তিনতলা ভবনটির সিঁড়ির রেলিংয়ের কাঠ খসে গেছে কয়েক জায়গায়। ভবনের গায়ে ঝোলানো সতর্কবাণীতে লেখা—‘হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলা বসবাসের অনুপযোগী। তৃতীয় তলা কোনো ছাত্রকে ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইল। ’ অথচ সেই তৃতীয় তলারই চারটি কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তৃতীয় তলার কক্ষগুলো ভেজা স্যাঁতসেঁতে, দেয়ালের পলেস্তারা ক্ষয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা প্রায় পুরোটাই ক্ষয়ে গেছে। ছাত্ররা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই দেয়াল চুইয়ে ভেতরে পানি চলে আসে। কাপড় দিয়ে নিংড়ে সেই পানি বাইরে ফেলতে হয়। ডাইনিং রুমের বিবিধ ব্যবহার, এক অংশে চলছে খাওয়াদাওয়া আর অন্য অংশে টিভি দেখা। এক পাশে আবার কয়েকটি মোটরবাইকও রাখা আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে কেন অবস্থান করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক ছাত্র বলেন, মেসে থাকার খরচ বেশি। সেই খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়েই এখানে মাথা গুঁজে পড়ে আছেন।

ছেলেদের তিনটি ছাত্রাবাস ঘুরেই দেখা মিলেছে সীমাহীন দুর্ভোগের। একই কক্ষে গাদাগাদি করে থাকেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ মেঝেতে শুয়ে রাত কাটান। পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজ খরচে চেয়ার-টেবিল কিনে ব্যবহার করছেন। গোসলখানা ও শৌচাগারের শোচনীয় অবস্থা, সংখ্যাও অপর্যাপ্ত। ছাত্রাবাসগুলোতে কোনো পাঠাগার ও অতিথিকক্ষ নেই। আলাদা টিভিকক্ষও নেই। ক্যান্টিনের একটি অংশ টিভিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এখানকার খাবারও নিম্নমানের।

রাতে ছাত্রাবাসের সামনের মাঠে বহিরাগতদের আড্ডা চলে। চলে মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ড। ছাত্রাবাসের পেছনের দেয়াল টপকে অনেকেই ভেতরে আসে। এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের।

বাসযোগ্য হলের দাবিতে গত বুধবার অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে তালাও দিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিনটি করে আলাদা ছয়টি ছাত্রাবাস রয়েছে। প্রতিটির অবস্থাই জরাজীর্ণ, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাই প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করেন তাঁরা। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘আন্দোলনের খবর পেয়ে সচিব মহোদয় ফোন করেছিলেন। তিনি হোস্টেল সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। অতি দ্রুত কাজ শুরু করব। এ ছাড়া দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে। বিষয়টি একনেকে রয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা