kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রয়াণ দিবস

শামসুর রাহমানের কবিতা-জীবন

সালেহ ফুয়াদ   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শামসুর রাহমানের কবিতা-জীবন

শামসুর রাহমান

‘বিশশতকের বাঙালির মেধা-প্রতিভার শ্রেষ্ঠ বিকাশের নাম আধুনিক কবিতা; সৃষ্টিশীলতা ও জ্ঞানমনস্কতার আর কোনো এলাকাতেই আধুনিক কবিতার তুল্য কোনো কিছু সৃষ্টিতে সমর্থ হয়নি বাঙালিপ্রতিভা। এ-শতকের তৃতীয় দশকে উদ্ভূত এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিকশিত ওই কবিতারাজি বদলে দেয় আমাদের সংবেদনশীলতা;— উনিশশতক পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করি বিশশতকে, এবং বোধ করি ওই কবিতার পর আর কোনো কিছুই আগের মতো থাকবে না। তিরিশি পাঁচজনের কবিতার উন্নত মান অবশ্য রক্ষিত হয় নি পরে;—আধুনিকদের পরে কয়েক দশক যেতে-না-যেতেই বিপুল পরিমাণ অমেধাবী গৌণ কবির প্রচেষ্টায় কবিতার মান অবনমিত হয়ে গেছে। এ-দুর্দশাগ্রস্ত গ্রহে যা-কিছু এখনো আমাকে আকর্ষণ করে, তার প্রথম সারিতেই আছে কবিতা; এবং কবিতা সম্পর্কে যখন আমি একটি ব্যাপক গ্রন্থ লেখার আবেগ বোধ করি, তখন বেছে নিই শামসুর রাহমানকে, যিনি তিরিশি আধুনিকদের পর বাঙলা ভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি।

বিজ্ঞাপন

শামসুর রাহমান সম্পর্কে ওপরের কথাগুলো সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের। শামসুর রাহমানকে ‘তিরিশি আধুনিকদের পর বাঙলা ভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি’ মর্যাদা দিয়ে হুমায়ুন আজাদ তাঁর ‘শামসুর রাহমান/নিঃসঙ্গ শেরপা’ গ্রন্থের ভূমিকায় ওপরের কথাগুলো লিখেছেন।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করা শামসুর রাহমান দেশভাগের সময় ১৮ বছরের যুবক। ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তর পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাক্ষী তিনি। সমকাল, সংলগ্ন প্রতিবেশ ও বাহ্যজগেক শুষে নেন নিজের ভেতর।

আইয়ুববিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এবং মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত মানুষকে প্রেরণা দিতে তাঁর কলম হয়ে ওঠে শক্তিশালী অস্ত্র। তাঁর রচিত ‘বন্দিশিবির থেকে’, ‘দুঃসময়ে মুখোমুখি’, ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থগুলোয় তীক্ষ ও প্রবলভাবে বিম্বিত হয় গণমানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি।

কবিতার বাইরে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছিলেন শামসুর রাহমান। ১৯৫৭ সালে ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজের সহসম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। কিছুদিন পর যোগ দেন রেডিও পাকিস্তানে। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করার পর ১৯৬৪ সালে মর্নিং নিউজে উচ্চতর পদে যোগ দিয়ে ফিরে আসেন। শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট শামসুর রাহমান মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ বুধবার সকাল ১১টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সূচনা বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘শামসুর রাহমানের কবিতা-পাঠ : কবি ও ব্যক্তিকতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

 



সাতদিনের সেরা