kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নাটোরের আলোচিত বিয়ে

স্বামী ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার, শিক্ষিকার মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নেই

নাটোর প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামী ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার, শিক্ষিকার মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নেই

নাটোরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা আরেক কলেজের শিক্ষিকা খাইরুন নাহারের (৪৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী মামুন হোসেনকে (২২) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ছুটির দিন থাকায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দিনের আদালতে তাঁকে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

এদিকে খাইরুনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে নাটোর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সামিউল ইসলাম শান্ত জানিয়েছেন, মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। ভিসেরা রিপোর্ট এলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আদালতের পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, খাইরুনের মৃত্যুতে হওয়া অপমৃত্যু মামলার তদন্ত চলছে। সে কারণে তাঁর স্বামীর জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেছেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন বলেন, মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে ৫৪ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে। আজ মঙ্গলবার আবার জামিনের আবেদন করা হবে বলে জানান ওই আইনজীবী।

নাটোর সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ জানান, খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর চাচাতো ভাই গুরুদাসপুর উপজেলার খামার নাচকৈড় গ্রামের সাবের উদ্দিন বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এর আগে গত রবিবার বিকেলে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।

নাটোর হাসপাতালের আরএমও ডা. সামিউল ইসলাম শান্ত জানান, তিন সদস্যের একটি চিকিৎসকদল খাইরুন নাহারের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

খাইরুন নাহারের মরদেহ রবিবার রাতে তাঁর বাবার বাড়ি গুরুদাসপুর পৌর সদরের খামার নাচকৈড় মহল্লায় নেওয়া হয়। রাতেই আবু বকর সিদ্দিকী কওমি মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে খামার নাচকৈড় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তাঁদের দাম্পত্যজীবন সুখের ছিল না। খাইরুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামুন নামেমাত্র ব্যবসা করতেন। খাইরুন তাঁর আগের ঘরের বড় ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন মামুনের সম্মতিতে। কিন্তু পরে মামুন আর ওই টাকা দেননি। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মামুন রাগ করে শনিবার রাত ২টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে রবিবার ভোরে খাইরুনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন খাইরুন। এক পর্যায়ে ফেসবুকে কলেজছাত্র মামুন হোসেনের সঙ্গে খাইরুনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাস পর বিষয়টি জানাজানি হয়। বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে মামুনের পরিবার মেনে নিলেও খাইরুনের পরিবার থেকে এই বিয়ে মেনে নেয়নি। ফলে তাঁরা নাটোর শহরের বলারীপাড়া এলাকায় মোল্যা ম্যানশনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকছিলেন।

খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। আর মামুন নাটোর এনএস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। খাইরুনের বাবার বাড়ি গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামার নাচকৈড়ে। আর মামুনের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে।

 



সাতদিনের সেরা