kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাড়ে তিন মাসে ছয়বার ট্রেন লাইনচ্যুত, স্লিপার নড়বড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাড়ে তিন মাসে ছয়বার ট্রেন লাইনচ্যুত, স্লিপার নড়বড়ে

গাজীপুরে গত সাড়ে তিন মাসে ছয়বার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার রাতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ট্রেনের প্রায় এক হাজার ৩০০ যাত্রী। বারবার এমন দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন অনেকে হতাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বিজ্ঞাপন

যাত্রীসাধারণের অভিযোগ, নিয়মিত রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ না করাতেই এত ভোগান্তি।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের অনেক স্লিপারই নড়বড়ে। লাইন ও স্লিপারের সংযোগ স্থাপনকারী ফিশপ্লেট নেই। নেই নাটবল্টু। কোথাও বা নাটবল্টু প্রায় আলগা হয়ে আছে। গত রবিবার রাতের দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলা বন্ধ থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। ‘কখন ট্রেন যাবে’ ‘যাত্রীরা অপেক্ষায় থাকবেন নাকি চলে যাবেন’—ধীরাশ্রম স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর পাননি যাত্রীরা। পরে বাধ্য হয়ে কেউ বাস বা অন্য বাহনে করে ঢাকায় ফিরে যান। অনেকে সারা রাত জয়দেবপুর স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এর আগে গত ৭ আগস্ট দুপুরে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের হুক ভেঙে শ্রীপুর স্টেশনে ট্রেনটি পাঁচ ঘণ্টা আটকা পড়ে।

৫ জুন দুপুরে জয়দেবপুর জংশনে প্রবেশের সময় মালবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে। বন্ধ হয়ে পড়ে জয়দেবপুর লেভেলক্রসিংয়ের সব ধরনের যানবাহন চলাচল।

১৬ জুন দুপুরে টঙ্গী জংশনে একটি তেলবাহী ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়। ১৪ জুন সকালে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঢাকাগামী ভাওয়াল এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

 ২৭ মে রাতে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বগিগুলো উদ্ধারের পর ১০ ঘণ্টা পর ওই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঢাকা-গাজীপুর প্যাসেঞ্জার ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শামসুল হক বলেন, রেলপথে পর্যাপ্ত স্লিপার নেই। পিন, নাটবল্টুও কম। থাকলেও নড়বড়ে। এসব তদারকির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা। সময় ও ভাড়া কম এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে সবচেয়ে বেশি মানুষ রেলে যাতায়াত করে। কিন্তু ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে বর্তমানে গাজীপুরের রেলপথ হয়ে উঠেছে আতঙ্ক।

ঘন ঘন ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণ সম্পর্কে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন টঙ্গী উপবিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

 



সাতদিনের সেরা