kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সিদ্ধান্তের আগেই দাম বাড়ল চিনির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সিদ্ধান্তের আগেই দাম বাড়ল চিনির

চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি, শুধু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। আর তাতেই দেশের বাজারে বেড়েছে এই পণ্যের দাম। পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাড়তি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি পাঁচ থেকে আট টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কোনো কোনো খুচরা ব্যবসায়ী তেলের দামও বেশি নিচ্ছেন। আর পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে চিনি পরিশোধনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বা কোনো ঘোষণা আসেনি। এর পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম পাঁচ টাকা বেড়ে খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে উৎপাদিত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চিনির দাম বাড়ানো হয়নি, সেটি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে চিনির বাড়তি দাম নেওয়ার কথা জানা যায়। সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজারদরের তালিকায়ও চিনির দাম বাড়ার চিত্র মিলেছে। টিসিবির হিসাবে, ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৮০ থেকে ৮২ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে টিসিবির হিসাবে চিনির দাম বেড়েছে আট টাকা।

সরকারি ঘোষণার আগেই বাজারে চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই, মূলত ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এসব হচ্ছে। ’

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কপোরেশনের প্রধান (বিপণন) মো. মাযহার উল হক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেসরকারি চিনি সরবরাহকারী কম্পানিগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মের বাইরে চলার সুযোগ নেই। কিন্তু এবার মন্ত্রণালয়ের নিয়ম না মেনেই বাজারে চিনির দাম বাড়িয়েছে তারা, যা অন্যায়। তবে সরকারিভাবে উৎপাদিত চিনির দাম বাড়ানো হয়নি। আমাদের চিনির এক কেজির প্যাকেট সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৮৫ টাকাই রয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে চলতি বছরে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। সরকারি ১৫টি চিনি কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। ১৫টি কারখানার মধ্যে এখন ছয়টি বন্ধ, চালু আছে ৯টি কারখানা। আগামী নভেম্বর থেকে আখের মৌসুম শুরু হবে, তখন থেকে আবার চিনি উৎপাদন শুরু হবে। এই মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে। ’

সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নতুন দর নির্ধারণের আবেদন করেছে সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশন। তবে নতুন দাম কত হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করেনি তারা। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রতি ডলারের বিপরীতে দেশি মুদ্রার ৩০ টাকার মতো অবমূল্যায়ন হয়েছে। ডলারের তেজিভাবের কারণে চিনিতে শুল্কায়নের পরিমাণও বেড়ে গেছে, যে কারণে দাম বাড়াতে চাইছে তারা।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ভ্যারাইটিজ স্টোরের ব্যবসায়ী আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বস্তাপ্রতি কম্পানিভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কম্পানিগুলোও প্যাকেট চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৯০ টাকা করেছে। খোলা চিনি কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ’

এদিকে সম্প্রতি ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী কম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনারস অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে এ প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাজারে ফের তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল। এই সুযোগে সয়াবিন তেলের দামও বাড়িয়ে বিক্রি করছেন কিছু খুচরা ব্যবসায়ী। বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে লিটারে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এই তেল বিক্রির অভিযোগ করছে ক্রেতারা। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে।

জোয়ারসাহারা বাজারের সিয়াম স্টোরের ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে কম্পানিগুলো বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। পাঁচ লিটার তেলের বোতল পাওয়াই যাচ্ছে না। বিক্রয় প্রতিনিধির কাছে আমরা জানতে চাইলে তাঁরা বলেন ডিলারের কাছেই তেল নেই। তাই তেলের সরবরাহ কম দেওয়া হচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ‘নতুন করে পেঁয়াজের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। গত ২-৩ দিন আগে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ’

জোয়ারসাহারা বাজারে বাজার করতে আসা ইদ্রীস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজার ঘুরে কোথাও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাইনি। গায়ের দামের চেয়ে বেশি দিয়ে এক লিটারের দুই বোতল সয়াবিন তেল কিনতে হয়েছে। বোতলের গায়ে লেখা ১৮৫ টাকা, আমাকে ১৯০ টাকা করে কিনতে হয়েছে। ’

বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘ডিলাররা বোতলের গায়ে লেখা দামেই খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রি করছে। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ’

এদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যপতনকে কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে ১৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৮৫ টাকা। তবে এই দাম ফের বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫ আর খোলা তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা করার প্রস্তাব পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।



সাতদিনের সেরা