kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রতিমন্ত্রী বললেন

লোড শেডিং থেকে বের হতে পারব আগামী মাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোড শেডিং থেকে বের হতে পারব আগামী মাসে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই দেশে দাম সমন্বয় করা হবে। আর আগামী মাসের শেষ দিকে আমরা লোড শেডিং থেকে বের হয়ে আসতে পারব। ’

গতকাল রবিবার বিদ্যুৎ ভবনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি’ নিয়ে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি ভালো নেই, তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এখনো ভালো আছি।

বিজ্ঞাপন

আর এক-দুই মাস ধৈর্য ধরেন। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা লোড শেডিং থেকে বের হয়ে আসতে পারব। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আমরাও সংকটে আছি। এটি সাময়িক সমস্যা। বিশ্ব পরিস্থিতি যদি আর খারাপ না হয় তাহলে আমরা ভালোর দিকে যাব। এ সময় সবাইকে একসঙ্গে পাশে থাকা উচিত। ’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আস্তে আস্তে সরে আসছি। ভবিষ্যতে মাত্র ৮-১০ শতাংশ তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র্র থাকবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের একটার পর একটা বেইজলোড বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে আসছে। আমরা খুব আশাবাদী। পরিস্থিতি যখন খারাপ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন বিশ্বের বহুদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু করেছে। ’

গ্যাস উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালের পর শিল্প খাতে অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। গ্যাসের চাহিদা হুট করেই বেড়ে গেছে। ১০ বছরে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে। ভোলায় বিরাট ক্ষেত্র পেয়েছি। ’

জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে কূপগুলো থেকে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে। ’

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ করলেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছি। গ্যাসের উৎপাদন দুই হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে, বাপেক্স কাজ করছে, গ্যাজপ্রম এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি কয়লার ক্ষেত্রেও আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গণশুনানির মাধ্যমে দাম সমন্বয় করতে হবে।   বিপিসির বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আছে। সেটা পরিষ্কার করা দরকার। তিতাস কাউকে না জানিয়ে মিটার ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এই বিষয়গুলো এখনই সমাধান করতে হবে। ’

অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, ‘মূল সমস্যা জ্বালানি। জ্বালানি জোগান দিতে পারিনি, নিজস্ব জ্বালানির প্রতি অবহেলার কারণেই আমরা আজ জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছি। নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। ’

অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ‘জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে ভালো অবস্থান ছিল তা আগামী কয়েক মাসে আর ভালো থাকবে না। কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, শিল্প খাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। ’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মোল্লাহ আমজাদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিইআরসির হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মধ্যে নিজস্ব কয়লার ব্যবহার বাড়ানো না গেলে সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে। কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক রিশান নাসরুল্লাহ।

 

 



সাতদিনের সেরা