kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বুয়েটে আবার ছাত্ররাজনীতি চায় ছাত্রলীগ

বিক্ষোভের ব্যাখ্যা দিলেন ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’রা

ঢাবি সংবাদদাতা   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুয়েটে আবার ছাত্ররাজনীতি চায় ছাত্রলীগ

জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে গতকাল দুপুরে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় (বুয়েট) দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভার আয়োজন করেছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। রাজনীতি নিষিদ্ধ বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ব্যানার ব্যবহার করায় সেদিন রাতেই বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

শিক্ষার্থীদের এমন বিক্ষোভে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

বিজ্ঞাপন

এমন বিক্ষোভকে তাঁরা পাকিস্তানি প্রেতাত্মা জামায়াত-শিবিরের কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য সেখানে আবারও ছাত্ররাজনীতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি ছাত্রলীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের শোকসভা করতে দেওয়া হয়নি বলে একটি ‘অপপ্রচার’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে গতকাল দুপুরে বুয়েট অডিটরিয়ামের সামনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চেয়ে বুয়েট উপাচার্য বরাবর একটি দরখাস্ত পেশ করেন শিক্ষার্থীরা?

শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করা। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কালো থাবা তাঁদের নিরাপদ ক্যাম্পাসকে যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন। তাঁর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধিময় সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত।

শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ই আগস্ট বিকেল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা শোক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসন থেকে ‘সাবেক শিক্ষার্থীদের আলোচনাসভা’র কথা বলে অনুমতি নিয়েছেন বলে জানা যায়।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করবেন বলে আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেন। কোনো দলীয় পরিচয়ে অনুমতি নেওয়া হয়নি? পরে যখন তাঁরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দের ব্যানারে অনুষ্ঠান করেন, তখন বিষয়টি আলোচনায় আসে। ’

আলোচনাসভা, শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাউল মাহমুদ বলেন, ‘কালকের (শনিবার) ঘটনাটি কল্পনাতীত। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। কিন্তু কালকের ঘটনার তো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ছিল বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের একটি মিলনমেলা এবং শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা। ’

বিক্ষোভকারীদের প্রসঙ্গে আতাউল মাহমুদ বলেন, ‘শোকসভার অনুষ্ঠান যারা বাধাগ্রস্ত করতে আসে, তারা অবশ্যই এই বাংলাদেশের মানুষ না। তাদের মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রেতাত্মার ছায়া রয়েছে। ’

এদিকে বুয়েটের আন্দোলনকারীদের পাকিস্তানি প্রেতাত্মা ও ছাত্রশিবির আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কী বোঝাতে চান? আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের জন্য অশনিসংকেত। বুয়েট প্রশাসনকে আবারও বিবেচনা করতে বলব, ছাত্ররাজনীতি আবার সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। ’

সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেন, ‘আমরা শোক দিবস পালন করি। শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ’

 



সাতদিনের সেরা